ঢাকা ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রাম আদালত বাতিল প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

  • অনলাইন ডেস্ক,
  • আপডেট সময় : ০৬:২৭:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 60

গ্রাম আদালত বাতিল প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ কেন অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না— জানতে চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রুল দেন।

আইনসচিবসহ সংশ্লিষ্টদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিটে আইনটিকে সংবিধানবিরোধী উল্লেখ করে বাতিল করার দাবি ওঠে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন।

রিট আবেদনে বলা হয়, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করা সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক্‌করণের নীতির পরিপন্থী।

রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিচার পরিচালনা ন্যায়বিচারের মৌলিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

আবেদনকারীর দাবি, সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিক স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালতে বিচার পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু গ্রাম আদালতে প্রশিক্ষিত বিচারক নেই, প্রমাণ আইন ও কার্যবিধির পূর্ণ প্রয়োগ নেই এবং আইনজীবীর অংশগ্রহণ সীমিত। ফলে ন্যায়বিচারের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা ব্যাহত হচ্ছে।

রিটে বলা হয়েছে, ভৌগোলিক ভিত্তিতে আলাদা বিচারব্যবস্থা নাগরিকদের সমতার অধিকার লঙ্ঘন করে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

গ্রাম আদালত বাতিল প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

আপডেট সময় : ০৬:২৭:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ কেন অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না— জানতে চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রুল দেন।

আইনসচিবসহ সংশ্লিষ্টদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিটে আইনটিকে সংবিধানবিরোধী উল্লেখ করে বাতিল করার দাবি ওঠে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন।

রিট আবেদনে বলা হয়, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করা সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক্‌করণের নীতির পরিপন্থী।

রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিচার পরিচালনা ন্যায়বিচারের মৌলিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

আবেদনকারীর দাবি, সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিক স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালতে বিচার পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু গ্রাম আদালতে প্রশিক্ষিত বিচারক নেই, প্রমাণ আইন ও কার্যবিধির পূর্ণ প্রয়োগ নেই এবং আইনজীবীর অংশগ্রহণ সীমিত। ফলে ন্যায়বিচারের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা ব্যাহত হচ্ছে।

রিটে বলা হয়েছে, ভৌগোলিক ভিত্তিতে আলাদা বিচারব্যবস্থা নাগরিকদের সমতার অধিকার লঙ্ঘন করে।