ঐতিহাসিক মে দিবসের রক্তঝরা সংগ্রাম আর ত্যাগের মহিমায় যখন সারা বিশ্ব মেহনতি মানুষের জয়গানে মুখর, তখন বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড চট্টগ্রাম বন্দরে ধ্বনিত হচ্ছে অধিকার আদায়ের এক নতুন বিপ্লব। আসন্ন চট্টগ্রাম বন্দর ঐক্য পরিষদ (সিবিএ) নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ। আর এই গণজোয়ারের অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাজপথের পরীক্ষিত ও আপসহীন নেতা, বন্দর সিবিএ-এর প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব জনাব মোঃ কামরুল হাসান চৌধুরী।
শ্রমিকের ঘাম ও অর্থনীতির অবিচল চাকা
মে দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ বার্তায় জনাব কামরুল হাসান চৌধুরী চট্টগ্রাম বন্দরের অকুতোভয় শ্রমিক, পোশাক শিল্প কর্মী এবং প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতি ‘বিপ্লবী অভিনন্দন’ জানিয়েছেন। তবে তাঁর এবারের বার্তাটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এতে ফুটে উঠেছে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা থেকে মুক্তির এক বলিষ্ঠ রূপরেখা।
তিনি গভীর আবেগ ও দৃঢ়তার সাথে বলেন:
“চট্টগ্রাম বন্দর কেবল ইট-পাথর বা যান্ত্রিক ক্রেনের কোনো কাঠামো নয়; এই বন্দর সচল থাকে আমার শ্রমিক ভাইদের তপ্ত ঘাম আর হাড়ভাঙা পরিশ্রমে। অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এই বীরেরা যখন অধিকারের প্রশ্নে অবহেলিত হয়, তখন হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। এবারের মে দিবস আমাদের জন্য কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং হারানো অধিকার ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারের চূড়ান্ত সংগ্রামের ডাক।”
আসন্ন চট্টগ্রাম বন্দর ঐক্য পরিষদের নির্বাচনকে ঘিরে এখন বন্দর নগরীতে সাজসাজ রব। মোঃ কামরুল হাসান চৌধুরী নিজেকে কেবল একজন প্রার্থী নয়, বরং শ্রমিকদের ‘আজীবন সেবক’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর নেতৃত্বে এবারের লড়াইটি শুধু পদের জন্য নয়, বরং প্রতিটি কর্মচারীর ন্যায্য পাওনা, কর্মক্ষেত্রে শতভাগ নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার এক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
তিনি বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন:
“আমরা নেতা হতে আসিনি, আমরা এসেছি আপনাদের গলার স্বর হতে। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে যারা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন, তাদের বিপদে ছায়ার মতো পাশে থাকাই আমাদের রাজনীতির মূল দর্শন। ঐক্য পরিষদের পতাকাতলে আমরা এমন এক বন্দর গড়তে চাই, যেখানে প্রতিটি শ্রমিক বুক ফুলিয়ে নিজের ন্যায্য অধিকার দাবি করতে পারবে।”
যে কারণে তিনি অনন্য: দূরদর্শী নেতৃত্বের ৩ স্তম্ভ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কামরুল হাসান চৌধুরীর এবারের অবস্থান তাঁকে একজন সাধারণ নেতার চেয়ে অনেক বেশি উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তাঁর নেতৃত্বে তিনটি মূল দিক ফুটে উঠেছে:
সাধারণ কর্মচারীদের ব্যক্তিগত সুখে-দুঃখে পাশে থাকার নিরবচ্ছিন্ন প্রতিশ্রুতি।
বন্দরের আধুনিকায়ন এবং শ্রমিকদের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের কর্মদক্ষতা ও বেতন কাঠামো বৃদ্ধির পরিকল্পনা।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন থেকে সাধারণ কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা।
পোশাক শ্রমিক ও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, পোশাক শ্রমিকদের অধিকার আর প্রবাসীদের সম্মান রক্ষা করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। তবে চট্টগ্রাম বন্দরের স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে এখানকার শ্রমিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকারে রাখতে হবে। তাঁর এই সুদূরপ্রসারী ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞাসম্পন্ন বার্তা সাধারণ কর্মচারীদের হৃদয়ে এক বিশাল ‘আস্থার জায়গা’ তৈরি করেছে।
ঐক্যের বজ্রনিঘোষ
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি সকল ব্যক্তিগত ভেদাভেদ ভুলে আগামী নির্বাচনে শ্রমিকদের অধিকারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, এবারের নির্বাচন কেবল নেতৃত্ব বাছাই নয়, বরং বন্দরের মেহনতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের এক ঐতিহাসিক মহাসন্ধিক্ষণ।
“বিজয় হোক মে দিবসের, জয় হোক চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিটি শ্রমিকের।” — এই বজ্রকঠিন শ্লোগানেই মোঃ কামরুল হাসান চৌধুরী আজ সাধারণ কর্মচারীদের শেষ ভরসাস্থল ও আগামীর যোগ্য কাণ্ডারি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।



















