ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইহুদিদের উৎসবে বন্দুক হামলাকারীরা ছিলেন বাবা ও ছেলে

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৪০:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 41

ইহুদিদের উৎসবে বন্দুক হামলাকারীরা ছিলেন বাবা ও ছেলে

সিডনির বন্ডি সমুদ্রসৈকতে ইহুদিদের একটি উৎসবে ভয়াবহ গুলির ঘটনা ঘটে। এতে ১৫ জন মানুষ নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, এই হামলায় জড়িত দুই বন্দুকধারী হলেন একজন বাবা ও তার ছেলে।

সোমবার পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলেই ৫০ বছর বয়সী বাবা মারা যান।

এরপর মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়ায়। তার ২৪ বছর বয়সী ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়াজুড়ে শোক শুরু হয়েছে। এটি দেশটিতে প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, বাবা ও ছেলের নাম সাজিদ আকরাম এবং নাভিদ আকরাম। নিহতদের মধ্যে ১০ বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। নিহতদের বয়স ১০ থেকে ৮৭ বছরের মধ্যে।

পুলিশ আরো জানিয়েছে, ৫০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি বন্দুক ক্লাবের সদস্য ছিলেন এবং অস্ত্রের লাইসেন্সও পেয়েছিলেন।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে বলেছেন, তিনি একজন খুব প্রিয় বন্ধু হারিয়েছেন, যিনি আবার মাত্রই বাবা হয়েছিলেন। অন্যদিকে একজন যুবক বলেছেন, ‘মনে হয়েছিল যেন গুলি অনন্তকাল ধরে চলেছিল’। ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত রাব্বি এলি শ্লাঙ্গার হামলায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন বলে তার পরিবার বিবিসিকে জানিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই আক্রমণকে ‘একটি সম্পূর্ণ ভয়াবহ’ ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে করা হয়েছিল।

অ্যান্থনি আলবানিজ এক সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, হামলায় নিহতদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য সরকার সহায়তা দিচ্ছে। এর মধ্যে বিদেশ থেকে আসা স্বজনদের যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আলবানিজ বলেন, ‘গতকাল আমরা যা দেখেছি, তা ছিল নির্মম। এটি ছিল সন্ত্রাসী হামলা এবং একই সঙ্গে ইহুদিবিদ্বেষমূলক আক্রমণ।’ বন্ডির ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন, এই সৈকত অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রতীকী স্থান। এমন একটি জায়গায় এই ধরনের গুলির ঘটনা ঘটানো ‘চরম ক্ষোভের।’।

এ ছাড়া তিনি জানান, দেশটির অস্ত্র আইন ও অস্ত্রের লাইসেন্স ব্যবস্থাপনা নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর অস্ত্র আইনগুলোর কিছু কার্যকর রয়েছে। ১৯৯৬ সালে তাসমানিয়ার পোর্ট আর্থারে ভয়াবহ গণহত্যার পর (যেখানে ৩৫ জন নিহত হয়েছিলেন) দেশটিতে ব্যক্তিগতভাবে অস্ত্র রাখার বিষয়ে দ্রুত ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের মালিকানা ও ব্যবহারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।

১৯৯৬ সালের ফায়ার আর্মস অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি লাইসেন্স বা অনুমতি ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র, নিষিদ্ধ অস্ত্র বা পিস্তল নিজের কাছে রাখতে বা ব্যবহার করতে পারবেন না। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ ও সরকার তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, যারা লাইসেন্স বা পারমিটের মাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক হন, তাদের সবাইকে অবশ্যই নিবন্ধিত হতে হবে। একই নিয়ম অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইহুদিদের উৎসবে বন্দুক হামলাকারীরা ছিলেন বাবা ও ছেলে

আপডেট সময় : ০৫:৪০:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
সিডনির বন্ডি সমুদ্রসৈকতে ইহুদিদের একটি উৎসবে ভয়াবহ গুলির ঘটনা ঘটে। এতে ১৫ জন মানুষ নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, এই হামলায় জড়িত দুই বন্দুকধারী হলেন একজন বাবা ও তার ছেলে।

সোমবার পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলেই ৫০ বছর বয়সী বাবা মারা যান।

এরপর মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়ায়। তার ২৪ বছর বয়সী ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়াজুড়ে শোক শুরু হয়েছে। এটি দেশটিতে প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, বাবা ও ছেলের নাম সাজিদ আকরাম এবং নাভিদ আকরাম। নিহতদের মধ্যে ১০ বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। নিহতদের বয়স ১০ থেকে ৮৭ বছরের মধ্যে।

পুলিশ আরো জানিয়েছে, ৫০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি বন্দুক ক্লাবের সদস্য ছিলেন এবং অস্ত্রের লাইসেন্সও পেয়েছিলেন।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে বলেছেন, তিনি একজন খুব প্রিয় বন্ধু হারিয়েছেন, যিনি আবার মাত্রই বাবা হয়েছিলেন। অন্যদিকে একজন যুবক বলেছেন, ‘মনে হয়েছিল যেন গুলি অনন্তকাল ধরে চলেছিল’। ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত রাব্বি এলি শ্লাঙ্গার হামলায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন বলে তার পরিবার বিবিসিকে জানিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই আক্রমণকে ‘একটি সম্পূর্ণ ভয়াবহ’ ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে করা হয়েছিল।

অ্যান্থনি আলবানিজ এক সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, হামলায় নিহতদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য সরকার সহায়তা দিচ্ছে। এর মধ্যে বিদেশ থেকে আসা স্বজনদের যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আলবানিজ বলেন, ‘গতকাল আমরা যা দেখেছি, তা ছিল নির্মম। এটি ছিল সন্ত্রাসী হামলা এবং একই সঙ্গে ইহুদিবিদ্বেষমূলক আক্রমণ।’ বন্ডির ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন, এই সৈকত অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রতীকী স্থান। এমন একটি জায়গায় এই ধরনের গুলির ঘটনা ঘটানো ‘চরম ক্ষোভের।’।

এ ছাড়া তিনি জানান, দেশটির অস্ত্র আইন ও অস্ত্রের লাইসেন্স ব্যবস্থাপনা নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর অস্ত্র আইনগুলোর কিছু কার্যকর রয়েছে। ১৯৯৬ সালে তাসমানিয়ার পোর্ট আর্থারে ভয়াবহ গণহত্যার পর (যেখানে ৩৫ জন নিহত হয়েছিলেন) দেশটিতে ব্যক্তিগতভাবে অস্ত্র রাখার বিষয়ে দ্রুত ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের মালিকানা ও ব্যবহারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।

১৯৯৬ সালের ফায়ার আর্মস অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি লাইসেন্স বা অনুমতি ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র, নিষিদ্ধ অস্ত্র বা পিস্তল নিজের কাছে রাখতে বা ব্যবহার করতে পারবেন না। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ ও সরকার তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, যারা লাইসেন্স বা পারমিটের মাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক হন, তাদের সবাইকে অবশ্যই নিবন্ধিত হতে হবে। একই নিয়ম অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।