- মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবমকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়ার চেষ্টা ও অশোভনভাবে স্পর্শ করেছেন এক ব্যক্তি। মঙ্গলবার রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে জাতীয় প্রাসাদের কাছাকাছি এক রাস্তায় সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ ঘটনা ঘটে। দেশটির পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে প্রেসিডেন্ট শেইনবম জানিয়েছেন, প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অশোভনভাবে স্পর্শ করা ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি মামলা দায়ের করবেন।
মোবাইল ফোনে ধারণ করা ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি পেছন দিক থেকে শেইনবামের গলায় চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেন এবং তার শরীরে হাত দেন।
শেইনবাম সঙ্গে সঙ্গে পেছনে সরে যান এবং তার টিমের একজন সদস্য দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন। ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট হতবাক হয়ে পড়েন।
বুধবার সংবাদ সম্মেলনে শেইনবাম বলেন, ‘আমি যদি অভিযোগ না করি, তাহলে দেশের অন্য নারীদের কী হবে? যদি প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও এমন আচরণ করা যায়, তবে সাধারণ নারীরা কতটা নিরাপদ?’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ এটি একজন নারী হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা, এটি একই সঙ্গে সব নারীর অভিজ্ঞতা।
শেইনবাম জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থলে আরো কয়েকজন নারীকে হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি সীমা টানতে হবে।’
মেক্সিকোতে নারী হত্যা (ফেমিসাইড) এক গুরুতর সমস্যা। দেশটিতে লিঙ্গভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৯৮ শতাংশ অপরাধী ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
প্রচারণার সময় শেইনবাম এই সমস্যার সমাধানের অঙ্গীকার করেছিলেন, তবে তার সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়নি।
ঘটনাটি এমন একসময়ে ঘটল, যখন মেক্সিকোয় রাজনীতিকদের নিরাপত্তা ও প্রেসিডেন্টের জনসংযোগ নীতিকে ঘিরে বিতর্ক চলছে। শেইনবাম পূর্বসূরি আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেস ওব্রাদোরের মতো জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখার পক্ষে।
তবে এই উন্মুক্ত যোগাযোগনীতির কারণে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবুও প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তিনি সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ বন্ধ করবেন না।
এই ঘটনা এমন সময় ঘটেছে, যখন মাত্র কয়েক দিন আগে মিচোয়াকান রাজ্যের উরুয়াপান শহরের মেয়র কার্লোস মানজো স্থানীয় ‘ডে অব দ্য ডেড’ উৎসবে নিহত হন। মানজো মাদকচক্র দমনে শেইনবামের কাছে ফেডারেল সহায়তা চেয়েছিলেন।


























