ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রেক্সিটের জন্য ব্রিটেনকে ‘খুব চড়া মূল্য’ দিতে হবে – ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট

  • প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:২৭:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৭
  • 406

Brexit series for FT.

লন্ডন : ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্লদ ইয়ানকার এই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে ব্রেক্সিট, অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যকে ‘খুব চড়া মূল্য’ দিতে হবে।
নানা রিপোর্টে ইতিমধ্যেই বলা হয়েছে ব্রেক্সিট নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার পর ব্রিটেন-কে অন্তত ৬০০০ কোটি ইউরো (৫১০০ কোটি স্টার্লিং পাউন্ড) ইইউ-কে দিতে হতে পারে।
এই পটভূমিতেই জঁ-ক্লদ ইয়ানকার জানিয়েছেন, ব্রিটেন কোন শর্তে ইইউ ছাড়বে, তা নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের আলোচনা শুরু হবে তখন সেটা হবে ‘খুব কঠিন দরকষাকষি’।
বেলজিয়ামের ফেডারেল পার্লামেন্টে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “ব্রিটেনের এক্সিট বা ইইউ ত্যাগ যে বিনা খরচে হবে বা কম খরচে হবে এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।”
মি ইয়ানকারের এই মন্তব্য এল এমন একটা সময়ে যখন ব্রিটেনে সরকারের আনা ব্রেক্সিট সংক্রান্ত বিল নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আজ টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিতর্ক চলছে।
এই বিলটি আইনে পরিণত হলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে লিসবন চুক্তির ৫০ নম্বর অনুচ্ছেদ (আর্টিকল ফিফটি) ট্রিগার করতে পারবেন, যার মাধ্যমে ইইউ ত্যাগ করার জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর অনুমতি মিলবে।
চলতি বছরের মার্চ মাস শেষ হওয়ার আগেই টেরেসা মে এই আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী। একবার শুরু হলে এই আলোচনা অন্তত দুবছর ধরে চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আলোচনা শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী মে-র সামনে কত অঙ্কের ‘এক্সিট বিল’ ধরানো হবে, তা নিয়ে এখন ব্রাসেলসে আলোচনা চলছে।
ইইউ-র অন্যতম সদস্য হিসেবে ব্রিটেন যে সব প্রকল্প ও কর্মসূচিতে শরিক থাকবে বলে অঙ্গীকার করেছিল, বিলে তাদের ভাগের সেই প্রতিশ্রুত অর্থ ধরা থাকবে।
তা ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের পেনশনে ব্রিটেনের ভাগের টাকাও তাদের দিতে হবে।
মি ইয়ানকার, যিনি লাক্সেমবার্গের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তিনি পরিষ্কার ঘোষণা করেছেন, ‘‘ব্রিটেনের মানুষের এটা জেনে রাখা দরকার – হয়তো তারা ইতিমধ্যেই জানেন – যে ব্রেক্সিট তাদের জন্য বিনা খরচে বা কম খরচে হবে না।”
“যেসব অঙ্গীকার ব্রিটিশরা এর আগেই করে গেছেন, সেগুলোর মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্বও তাদের। ফলে একটু কঠোর শোনালেও এটা বলতেই হবে যে তাদের বিলের অঙ্কটাও হবে খুব চড়া!”, বলেছেন তিনি।
সূত্র : বিবিসি

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রেক্সিটের জন্য ব্রিটেনকে ‘খুব চড়া মূল্য’ দিতে হবে – ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট

আপডেট সময় : ০৪:২৭:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

Brexit series for FT.

লন্ডন : ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্লদ ইয়ানকার এই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে ব্রেক্সিট, অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যকে ‘খুব চড়া মূল্য’ দিতে হবে।
নানা রিপোর্টে ইতিমধ্যেই বলা হয়েছে ব্রেক্সিট নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার পর ব্রিটেন-কে অন্তত ৬০০০ কোটি ইউরো (৫১০০ কোটি স্টার্লিং পাউন্ড) ইইউ-কে দিতে হতে পারে।
এই পটভূমিতেই জঁ-ক্লদ ইয়ানকার জানিয়েছেন, ব্রিটেন কোন শর্তে ইইউ ছাড়বে, তা নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের আলোচনা শুরু হবে তখন সেটা হবে ‘খুব কঠিন দরকষাকষি’।
বেলজিয়ামের ফেডারেল পার্লামেন্টে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “ব্রিটেনের এক্সিট বা ইইউ ত্যাগ যে বিনা খরচে হবে বা কম খরচে হবে এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।”
মি ইয়ানকারের এই মন্তব্য এল এমন একটা সময়ে যখন ব্রিটেনে সরকারের আনা ব্রেক্সিট সংক্রান্ত বিল নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আজ টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিতর্ক চলছে।
এই বিলটি আইনে পরিণত হলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে লিসবন চুক্তির ৫০ নম্বর অনুচ্ছেদ (আর্টিকল ফিফটি) ট্রিগার করতে পারবেন, যার মাধ্যমে ইইউ ত্যাগ করার জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর অনুমতি মিলবে।
চলতি বছরের মার্চ মাস শেষ হওয়ার আগেই টেরেসা মে এই আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী। একবার শুরু হলে এই আলোচনা অন্তত দুবছর ধরে চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আলোচনা শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী মে-র সামনে কত অঙ্কের ‘এক্সিট বিল’ ধরানো হবে, তা নিয়ে এখন ব্রাসেলসে আলোচনা চলছে।
ইইউ-র অন্যতম সদস্য হিসেবে ব্রিটেন যে সব প্রকল্প ও কর্মসূচিতে শরিক থাকবে বলে অঙ্গীকার করেছিল, বিলে তাদের ভাগের সেই প্রতিশ্রুত অর্থ ধরা থাকবে।
তা ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের পেনশনে ব্রিটেনের ভাগের টাকাও তাদের দিতে হবে।
মি ইয়ানকার, যিনি লাক্সেমবার্গের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তিনি পরিষ্কার ঘোষণা করেছেন, ‘‘ব্রিটেনের মানুষের এটা জেনে রাখা দরকার – হয়তো তারা ইতিমধ্যেই জানেন – যে ব্রেক্সিট তাদের জন্য বিনা খরচে বা কম খরচে হবে না।”
“যেসব অঙ্গীকার ব্রিটিশরা এর আগেই করে গেছেন, সেগুলোর মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্বও তাদের। ফলে একটু কঠোর শোনালেও এটা বলতেই হবে যে তাদের বিলের অঙ্কটাও হবে খুব চড়া!”, বলেছেন তিনি।
সূত্র : বিবিসি