কলেজ শিক্ষক ও সহযোগীর বিরুদ্ধে জাল কাগজ, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ থানার সামনেই হুমকি—অসহায় পরিবার নিরাপত্তাহীনতায়, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি,,
ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামা পৌরসভায় এক অসহায় পরিবারের পৈত্রিক জমি দখল, জাল কাগজপত্র তৈরি এবং প্রকাশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এক কলেজ শিক্ষক ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচারের আশায় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোরশেদা বেগম মুন্নি তার মৃত পিতা অহিদ উল্লাহর নামে বন্দোবস্ত পাওয়া জমি দখলের অভিযোগ তুলে লামা থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, গজালিয়া মৌজায় তাদের প্রায় ৫ একর পৈত্রিক জমি রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবার ভোগদখল করে আসছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, স্থানীয় এক কলেজ শিক্ষক ও তার সহযোগী পরিকল্পিতভাবে ওই জমির ওপর মালিকানা দাবি করে দখল নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ লক্ষ্যে তারা জমির সীমানায় থাকা গাছ কেটে বিক্রি করা, জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি একটি ঝিরির স্বাভাবিক গতিপথ বন্ধ করে তিনতলা ভবন নির্মাণ করেছেন, যার ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়ে আশপাশ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তবে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সখ্যতার কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না বলেও দাবি স্থানীয়দের।
ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, জমিটি কলেজের নামে দখল নেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অভিযুক্তরা একজনকে কেয়ারটেকার দেখাতে একটি নিয়োগপত্র তৈরি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি নিয়োগপত্র প্রস্তুত করা হয় এবং সেটি দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেকে কলেজের বৈধ কেয়ারটেকার হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।
ভুক্তভোগী মোরশেদা বেগম মুন্নি বলেন, “আমার মৃত পিতার নামে ১৯৮০-৮১ সালের বন্দোবস্ত অনুযায়ী পাওয়া পৈত্রিক জমি জোর করে দখল করার চেষ্টা চলছে। এত বছর পর হঠাৎ করে কলেজের নামে কেয়ারটেকার নিয়োগ দেখানো আমাদের কাছে অত্যন্ত রহস্যজনক মনে হচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার কথা বলে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে গিয়ে তিনি হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং সরকারি মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরবর্তীতে জমিতে ফসল ও গাছপালা দেখভালের জন্য একটি খামারঘর নির্মাণ করতে গেলে অভিযুক্তরা বাধা দেন এবং উল্টো তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় থানায় হাজির হলে তদন্ত কর্মকর্তা তার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে উপস্থাপনের পরামর্শ দেন বলে তিনি জানান।
এদিকে গত ১৪ মার্চ ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে লামা থানার সামনে প্রধান সড়কের পাশে ভুক্তভোগী ও তার ভাগিনা মো. সুমনকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে পরিবারটি চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি নিয়ে বিরোধ চলমান রয়েছে।
লামা থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।


























