সিরিয়ার আল-বাব ও রাকা শহরে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর বিরুদ্ধে যৌথভাবে লড়াই চালাতে একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক। মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তায়িব এরদোয়ানের মধ্যে এক ফোনালাপে এ সমঝোতা হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় সূত্রকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বুধবার খবরটি জানিয়েছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার দুই দেশের নেতা ফোনে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করেছেন। সিরিয়ায় একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, শরণার্থী সংকট এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ের ইস্যুগুলো নিয়ে তারা কথা বলেছেন। সূত্র আরও জানায়, ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের সময় এরদোয়ান তাকে আহ্বান জানিয়েছেন যেন যুক্তরাষ্ট্র সিরীয় কুর্দি ওয়াইপিজি বাহিনীকে সমর্থন না দেয়।
এদিকে হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সার্বিকভাবে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় দুই দেশের অংশীদারত্বমূলক প্রতিশ্রুতি নিয়ে কথা বলেছেন ট্রাম্প। আইএস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তুরস্কের ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন তিনি। তবে হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত মিলিশিয়াদের একটি মিত্র গোষ্ঠী দ্য সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) শনিবার রাকায় আইএস-এর বিরুদ্ধে অভিযানের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করেছে। তুরস্ক সরকার বার বারই বলে আসছিল তারা রাকাকে মুক্ত করার অভিযানের অংশ হতে চায়, কিন্তু এসডিএফ জোটের অংশ ওয়াইপিজিকে তারা এর সঙ্গে যুক্ত দেখতে চায় না।
ওয়াইপিজিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে থাকে তুরস্ক। আর এ ওয়াইপিজি মিলিশিয়াদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন থাকার কারণে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সম্পর্কে একধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল।
তুরস্কের সূত্র জানিয়েছে, সিআইএ’র নতুন পরিচালক মাইক পম্পেও ওয়াইপিজিকে নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার তুরস্ক সফর করতে পারেন। তুর্কি ইসলামী চিন্তাবিদ ফেতুল্লাহ গুলেনের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নেটওয়ার্ককে মোকাবেলা করা নিয়েও আলোচনার কথা রয়েছে। জুলাইয়ে তুরস্কের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার জন্য গুলেনকে দায়ী করা হয়ে থাকে।
অবশ্য, পম্পেওর সম্ভাব্য তুরস্ক সফরের ব্যাপারে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।



























