ঢাকা ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জালিয়াতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে ফাঁসি দিল ইরান

জালিয়াতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে ফাঁসি দিল ইরান

ইরান রবিবার বড় ধরনের প্রতারণা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মোহাম্মদ রেজা ঘাফারিকে ফাঁসি দিয়েছে। বিচার বিভাগ জানায়, তিনি গাড়ি বিক্রির নাম করে হাজারো মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছিলেন। ঘাফারি ‘রেজায়াত খোদরো তারাভাত নোভিন’ নামের একটি কম্পানির মালিক ছিলেন।দেশের অর্থনীতিতে বড় ক্ষতি করা এবং প্রতারণার দায়ে সর্বোচ্চ আদালত তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পর তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

প্রতারণাটি শুরু হয় ২০১৩ সালে কাজভিন প্রদেশে। কম্পানিটি বাজারদরের চেয়ে কম দামে গাড়ি দেওয়ার লোভ দেখাত। পরে তারা বাড়ির প্রকল্প এবং অন্যান্য বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিতেও মানুষকে টাকা দিতে প্রলুব্ধ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘাফারি ও তার সহযোগীরা মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নিত এবং আগের গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে নতুন গ্রাহকদের টাকা ব্যবহার করত।

বিচার বিভাগ জানায়, মোট প্রতারণার অঙ্ক প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু বাস্তবে মাত্র ৪ শতাংশ গ্রাহকই গাড়ি পেয়েছিলেন। আদালত ঘাফারিকে দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। এই মামলায় ২৮ হাজারের বেশি মানুষ অভিযোগ করে এবং মোট ২৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

বিচার বিভাগ জানায়, ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা ফেরত দিতে অভিযুক্তদের যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ঘাফারি আদালতে বলেছিলেন, তিনি টাকা ফেরত দিতে চান—যদি তা করতেন, তাহলে মৃত্যুদণ্ড এড়ানো যেত। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত আগস্টে রায় বহাল রাখার পরও তিনি সময়মতো ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করেননি।

বিচার কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রতারণার ফলে বহু মানুষ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক আঘাত ও পরিবার ভাঙনের মতো সমস্যায় পড়েছেন। ইরানে খুন ও ধর্ষণের পাশাপাশি বড় অর্থনৈতিক অপরাধ ও গুপ্তচরবৃত্তিতেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে চীনের পরই ইরানের অবস্থান।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জালিয়াতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে ফাঁসি দিল ইরান

আপডেট সময় : ১১:১২:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
ইরান রবিবার বড় ধরনের প্রতারণা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মোহাম্মদ রেজা ঘাফারিকে ফাঁসি দিয়েছে। বিচার বিভাগ জানায়, তিনি গাড়ি বিক্রির নাম করে হাজারো মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছিলেন। ঘাফারি ‘রেজায়াত খোদরো তারাভাত নোভিন’ নামের একটি কম্পানির মালিক ছিলেন।দেশের অর্থনীতিতে বড় ক্ষতি করা এবং প্রতারণার দায়ে সর্বোচ্চ আদালত তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পর তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

প্রতারণাটি শুরু হয় ২০১৩ সালে কাজভিন প্রদেশে। কম্পানিটি বাজারদরের চেয়ে কম দামে গাড়ি দেওয়ার লোভ দেখাত। পরে তারা বাড়ির প্রকল্প এবং অন্যান্য বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিতেও মানুষকে টাকা দিতে প্রলুব্ধ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘাফারি ও তার সহযোগীরা মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নিত এবং আগের গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে নতুন গ্রাহকদের টাকা ব্যবহার করত।

বিচার বিভাগ জানায়, মোট প্রতারণার অঙ্ক প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু বাস্তবে মাত্র ৪ শতাংশ গ্রাহকই গাড়ি পেয়েছিলেন। আদালত ঘাফারিকে দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। এই মামলায় ২৮ হাজারের বেশি মানুষ অভিযোগ করে এবং মোট ২৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

বিচার বিভাগ জানায়, ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা ফেরত দিতে অভিযুক্তদের যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ঘাফারি আদালতে বলেছিলেন, তিনি টাকা ফেরত দিতে চান—যদি তা করতেন, তাহলে মৃত্যুদণ্ড এড়ানো যেত। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত আগস্টে রায় বহাল রাখার পরও তিনি সময়মতো ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করেননি।

বিচার কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রতারণার ফলে বহু মানুষ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক আঘাত ও পরিবার ভাঙনের মতো সমস্যায় পড়েছেন। ইরানে খুন ও ধর্ষণের পাশাপাশি বড় অর্থনৈতিক অপরাধ ও গুপ্তচরবৃত্তিতেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে চীনের পরই ইরানের অবস্থান।