জেলা সাংস্কৃতিক সমন্বয় পরিষদ, কুষ্টিয়ার উদ্যোগে এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) কুষ্টিয়া জেলা শাখার পৃষ্ঠপোষকতায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৫টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি) মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সম্মানিত প্রশাসক আলহাজ সোহরাব উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন।
জেলা সাংস্কৃতিক সমন্বয় পরিষদ, কুষ্টিয়ার উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জজ কোর্টের স্পেশাল পিপি, বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শামিম উল হাসান অপু। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর নেতা শাহনেওয়াজ আরেফীন পাপ্পু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ সোহরাব উদ্দিন বলেন, “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অনন্য প্রতীক। তাঁর সাহিত্য ও সংগীত আজও আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে এবং মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করতে অনুপ্রাণিত করে। নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলের আদর্শ পৌঁছে দিতে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
অনলাইনে বক্তব্য প্রদানকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, “নজরুল কেবল বাংলাদেশের জাতীয় কবি নন, তিনি বিশ্বমানবতার কবি। তাঁর সাম্যের বাণী, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবমুক্তির দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। কুষ্টিয়ার মতো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ জনপদে এ ধরনের আয়োজন নজরুলচর্চাকে আরও বেগবান করবে।”
প্রধান আলোচক অ্যাডভোকেট শামিম উল হাসান অপু তাঁর বক্তব্যে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত, সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক দর্শন এবং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “নজরুল ছিলেন বিদ্রোহের কবি, তবে তাঁর বিদ্রোহ ছিল মানবমুক্তির জন্য, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য। তাঁর রচনায় আমরা একই সঙ্গে প্রেম, দ্রোহ, সাম্য ও মানবতার চিরন্তন আহ্বান খুঁজে পাই।”
বক্তব্যে শাহনেওয়াজ আরেফীন পাপ্পু বলেন, “নজরুলের চেতনা ধারণ করে একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তুলতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে নজরুলের সাহিত্য ও সংগীতচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা সময়ের দাবি।”
আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে নজরুল সংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) কুষ্টিয়া জেলা শাখা, সুর সপ্তক একাডেমি কুষ্টিয়া, সপ্তসুর একাডেমি কুষ্টিয়া, রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ কুষ্টিয়া, চারুকলা সঙ্গীত একাডেমি কুষ্টিয়াসহ জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন।
আয়োজকরা জানান, দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের দ্বিতীয় দিনেও জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করবে। আলোচনা, সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, কর্ম, সাহিত্য ও দর্শনকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে জেলার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং বিপুল সংখ্যক সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ উপস্থিত ছিলেন
এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, ব্যুরো চীফ, দক্ষিণাঞ্চল 

























