ঢাকা ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফকিরগঞ্জ বাজারে শতবর্ষী মৃত শিমুল গাছ, আতঙ্কে পথচারী-শিক্ষার্থীরা

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সেনগাঁও ইউনিয়নের ফকিরগঞ্জ বাজারে শতবর্ষী একটি শিমুল গাছ মরে গিয়ে এখন জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাছটির শুকনো ও মৃত ডালপালা প্রায়ই ভেঙে পড়ায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বাজারের ব্যবসায়ী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

গুরুত্বপূর্ণ এ বাজারটি এশিয়ান হাইওয়ের পাশে অবস্থিত। এই সড়ক দিয়ে হরিপুর, রানীশংকৈল ও পীরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। এছাড়া গাছটির কাছেই রয়েছে উপদইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফকিরগঞ্জ বিজিবি (বিওপি)। ফলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পথচারী ও কোমলমতি শিক্ষার্থী গাছটির পাশ দিয়ে চলাচল করে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গাছটি মৃত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে এর বেশ কিছু শুকনো ডাল ভেঙে পড়েছে। যেকোনো সময় বড় ডাল কিংবা পুরো গাছটি ভেঙে পড়ে পথচারী, শিক্ষার্থী বা ব্যবসায়ীদের ওপর পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সেনগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম প্রধান বলেন, “গাছটি দ্রুত কাটার ব্যবস্থা না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত গাছটি অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।”

স্থানীয় দোকানদার আফাজ আলী বলেন, “গাছটি মরে গেছে। এখনই এটি কাটা দরকার। দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো মানে হয় না।”

পল্লী পশু চিকিৎসক এনামুল হক বলেন, “গাছটি দ্রুত কাটার ব্যবস্থা না করলে পথচারী কিংবা শিক্ষার্থী যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে।”

মায়েশা ভিডিওর স্বত্বাধিকারী ফরিদ হোসেন মাসুম বলেন, “যেভাবে গাছের ডাল ভেঙে পড়ছে, তাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে বেশি সময় নেই। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”

স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল হক বলেন, “বাজারে এলেই আতঙ্কের মধ্যে থাকি। কখন গাছ বা গাছের কোনো ডাল ভেঙে পড়ে, সেই ভয় থাকে।”

দোকানদার সুমন আলী বলেন, “নামাজ পড়তে যাওয়ার সময়ও আগে দেখতে হয় কোনো ডাল ভেঙে পড়েছে কি না। সব সময় একটা আতঙ্কের মধ্যে থাকি।”

পথচারী হায়দার আলী বলেন, “বাজারে এসে বাজার করার চেয়ে এখন ভয় হয় কখন গাছটি আমার ওপর ভেঙে পড়ে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে বিনীত অনুরোধ, দুর্ঘটনা ঘটার আগেই গাছটি কাটার ব্যবস্থা করুন।”

এলাকাবাসী জানান, জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত গাছটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। তারা দুর্ঘটনার অপেক্ষা না করে দ্রুত মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছটি অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

ফকিরগঞ্জ বাজারে শতবর্ষী মৃত শিমুল গাছ, আতঙ্কে পথচারী-শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ১২:৩৭:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সেনগাঁও ইউনিয়নের ফকিরগঞ্জ বাজারে শতবর্ষী একটি শিমুল গাছ মরে গিয়ে এখন জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাছটির শুকনো ও মৃত ডালপালা প্রায়ই ভেঙে পড়ায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বাজারের ব্যবসায়ী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

গুরুত্বপূর্ণ এ বাজারটি এশিয়ান হাইওয়ের পাশে অবস্থিত। এই সড়ক দিয়ে হরিপুর, রানীশংকৈল ও পীরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। এছাড়া গাছটির কাছেই রয়েছে উপদইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফকিরগঞ্জ বিজিবি (বিওপি)। ফলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পথচারী ও কোমলমতি শিক্ষার্থী গাছটির পাশ দিয়ে চলাচল করে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গাছটি মৃত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে এর বেশ কিছু শুকনো ডাল ভেঙে পড়েছে। যেকোনো সময় বড় ডাল কিংবা পুরো গাছটি ভেঙে পড়ে পথচারী, শিক্ষার্থী বা ব্যবসায়ীদের ওপর পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সেনগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম প্রধান বলেন, “গাছটি দ্রুত কাটার ব্যবস্থা না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত গাছটি অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।”

স্থানীয় দোকানদার আফাজ আলী বলেন, “গাছটি মরে গেছে। এখনই এটি কাটা দরকার। দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো মানে হয় না।”

পল্লী পশু চিকিৎসক এনামুল হক বলেন, “গাছটি দ্রুত কাটার ব্যবস্থা না করলে পথচারী কিংবা শিক্ষার্থী যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে।”

মায়েশা ভিডিওর স্বত্বাধিকারী ফরিদ হোসেন মাসুম বলেন, “যেভাবে গাছের ডাল ভেঙে পড়ছে, তাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে বেশি সময় নেই। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”

স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল হক বলেন, “বাজারে এলেই আতঙ্কের মধ্যে থাকি। কখন গাছ বা গাছের কোনো ডাল ভেঙে পড়ে, সেই ভয় থাকে।”

দোকানদার সুমন আলী বলেন, “নামাজ পড়তে যাওয়ার সময়ও আগে দেখতে হয় কোনো ডাল ভেঙে পড়েছে কি না। সব সময় একটা আতঙ্কের মধ্যে থাকি।”

পথচারী হায়দার আলী বলেন, “বাজারে এসে বাজার করার চেয়ে এখন ভয় হয় কখন গাছটি আমার ওপর ভেঙে পড়ে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে বিনীত অনুরোধ, দুর্ঘটনা ঘটার আগেই গাছটি কাটার ব্যবস্থা করুন।”

এলাকাবাসী জানান, জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত গাছটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। তারা দুর্ঘটনার অপেক্ষা না করে দ্রুত মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছটি অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।