রাজনীতি বলতে এখনো অনেকের চোখে ভেসে ওঠে মিছিল, স্লোগান কিংবা বক্তৃতার ছবি। কিন্তু সেই চেনা সংজ্ঞার বাইরে গিয়ে রাজনীতির আরেকটি মুখ তুলে ধরতে আসছে পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতা দুলাল দের নতুন সিনেমা ‘ফাঁদ’।
রবিবার ছবিটির কাস্ট ঘোষণা অনুষ্ঠানে এই ছবির অন্যতম প্রধান চরিত্রে ইশা সাহার অভিনয়ের খবর সামনে আসে। সেখানেই রাজনীতি ও টলিউডের বাস্তবতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন এই অভিনেত্রী।
ইশা সাহার মতে, বাংলা সিনেমায় রাজনৈতিক গল্প খুব বেশি দেখা যায় না।
অভিনেত্রীর ভাষ্যে, দর্শকমনে এখনো এই ঘরানার সিনেমা গভীর ছাপ ফেলতে পারেনি। সে কারণেই নির্মাতারাও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে ছবি বানাতে তুলনামূলকভাবে কম আগ্রহী।
এর আগে পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কমেডি ‘একটু সরে বসুন’ ছবিতে কাজ করেছেন ইশা।
সেই অভিজ্ঞতা থেকেই রাজনৈতিক সিনেমা ও দর্শক প্রতিক্রিয়া নিয়ে তার এমন উপলব্ধি তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে দুলাল দের ‘ফাঁদ’ সিনেমাটি তার কাছে আলাদা গুরুত্ব বহন করছে।
তার কথায়, এই গল্প তাকে ছেলেবেলা ও কলেজজীবনের নানা স্মৃতির মুখোমুখি করেছে।
আইনজীবী থেকে অভিনয়ে আসা ইশা মনে করেন, রাজনীতি কেবল ক্ষমতার কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ নয়।
সংসার, বন্ধুত্ব কিংবা কর্মক্ষেত্র—সব জায়গাতেই রাজনীতির উপস্থিতি রয়েছে।
তিনি বলেন, সমাজের একেবারে নিচের স্তর থেকে শুরু করে ওপর মহল পর্যন্ত রাজনীতি ছড়িয়ে আছে।
বাংলা সিনেমায় রাজনৈতিক গল্প খুব বড় প্রভাব না ফেললেও টলিউডের ভেতরের বর্তমান পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে—এ কথা স্বীকার করেন ইশা সাহা।
শিল্পীসমাজের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘ভাই-বোনের মধ্যেও রাজনীতি থাকে। যারা বলেন তাদের সংসারে এসব নেই, তারা সত্য বলেন না। আইনজীবী থাকাকালীন এসব আমি নিজের চোখে দেখেছি। টলিউডও এর ব্যতিক্রম নয়।’
দিন দিন এই সংকট বাড়লেও আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন অভিনেত্রী।
দুলাল দে পরিচালিত ‘ফাঁদ’ সিনেমায় ইশা সাহা ছাড়াও অভিনয় করছেন অনির্বাণ চক্রবর্তী, ঋত্বিক চক্রবর্তী, অর্জুন চক্রবর্তী, সায়ন ঘোষ, সুহত্র মুখোপাধ্যায় ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।
























