বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু হুরাইরা (রা.)- থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন, তোমরা মুমিন না হওয়া অবধি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আর তোমরা পরস্পর ভালোবাসা ব্যতীত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না।
আর আমি কি তোমাদের এমন আমলের কথা বলে দেব, যে আমল করলে তোমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা-সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে? (সেটা হলো-) তোমরা পরস্পরে সালামের প্রচার-প্রসার করো। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৯৭০৯)
শিক্ষা ও বিধান
১. জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম শর্ত ঈমান। আর প্রকৃত ঈমান ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ সম্ভব নয়।
২. পূর্ণ ঈমানের আলামত হলো পারস্পরিক ভালোবাসা।
তাই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মুসলমানরা একে অপরকে ভালোবাসবে—এটাই ঈমানের পরিপূর্ণতার লক্ষণ।
৩. মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। কেননা হিংসা, বিদ্বেষ, শত্রুতা ও বিভেদ ঈমানকে দুর্বল করে।
৪. সালামের ব্যাপক প্রচলন ভালোবাসা বৃদ্ধি করে।
কারো সঙ্গে দেখা হলে আন্তরিকতার সঙ্গে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলা উচিত।
৫. সালাম একটি ইবাদত এবং সওয়াবের কাজ। এটি শুধু সামাজিক রীতি নয়; বরং আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি মাধ্যম।
৬. মুসলিম সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার সহজ উপায় হলো সালামের প্রসার। সালামের মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি কমে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় হয়।