ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক মসজিদে ৫৬ বছর ইমামতি, ভালোবেসে ওমরাহ করতে পাঠালেন এলাকাবাসী

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:১৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • 100

অর্ধ শতকেরও বেশি সময় ধরে একই মসজিদে ইমামতি, শিশুদের কোরআন শিক্ষা, ধর্মীয় পরামর্শ এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় ভূমিকা রাখায় তিনি হয়ে উঠেছেন পুরো গ্রামের আস্থার প্রতীক।

৫৬ বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে সেই সেবা দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে এলাকার লোকজন ভালোবেসে ইমাম হাফেজ আব্দুল কদ্দুসকে পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন।

আব্দুল কদ্দুস ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দারিয়াকান্দা গ্রামের মজিদ মণ্ডল বাড়ির জামে মসজিদের ইমাম। তিনি ১৯৭১ সাল থেকে এই মসজিদে দায়িত্ব পালন করছেন।

বুধবার গ্রামের বাসিন্দা, আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের সম্মিলিত উদ্যোগে তাকে সৌদি আরবের উদ্দেশে বিদায় জানানো হয়। এ সময় মসজিদ প্রাঙ্গণে ছিল আবেগঘন পরিবেশ। অনেকেই তার জন্য দোয়া করেন এবং সুস্থভাবে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা এ কে এম ফজলুল হক বলেন, তরুণ বয়সে ইমামতির দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে হাফেজ আব্দুল কদ্দুস নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি শুধু নামাজ পরিচালনাই করেননি; গ্রামের শিশু-কিশোরদের কোরআন শিক্ষা, ইসলামী মূল্যবোধ চর্চা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয়ে মানুষকে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, হাফেজ আব্দুল কদ্দুস কখনও তার দায়িত্বের প্রতি অবহেলা করেননি। অসুস্থতা কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও যথাসম্ভব মসজিদে উপস্থিত থেকে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিনয়, ধর্মীয় জ্ঞান ও মানবিক আচরণের কারণে তিনি গ্রামের মানুষের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন।

ইমামকে ওমরাহে পাঠানোর অন্যতম উদ্যোক্তা ফরিদ আহমেদ লালু ও আশরাফুল ইসলাম বলেন, তাকে সম্মান জানাতেই সবাই মিলে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তার প্রতি উপহারস্বরূপ।

 

বিদায়ের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হাফেজ আব্দুল কদ্দুস এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি ১৯৭১ সাল থেকে এই মসজিদে ইমামতি করছি। কখনো কল্পনাও করিনি আপনারা আমাকে এভাবে সম্মানিত করবেন। আল্লাহ আপনাদের সবাইকে উত্তম প্রতিদান দিন। পবিত্র ভূমিতে গিয়ে দেশ, জাতি ও আপনাদের সবার জন্য দোয়া করব।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে রোগীদের স্বস্তি দিতে রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইপিএস-সোলার ও ফ্যান

এক মসজিদে ৫৬ বছর ইমামতি, ভালোবেসে ওমরাহ করতে পাঠালেন এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ০৭:১৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

অর্ধ শতকেরও বেশি সময় ধরে একই মসজিদে ইমামতি, শিশুদের কোরআন শিক্ষা, ধর্মীয় পরামর্শ এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় ভূমিকা রাখায় তিনি হয়ে উঠেছেন পুরো গ্রামের আস্থার প্রতীক।

৫৬ বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে সেই সেবা দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে এলাকার লোকজন ভালোবেসে ইমাম হাফেজ আব্দুল কদ্দুসকে পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন।

আব্দুল কদ্দুস ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দারিয়াকান্দা গ্রামের মজিদ মণ্ডল বাড়ির জামে মসজিদের ইমাম। তিনি ১৯৭১ সাল থেকে এই মসজিদে দায়িত্ব পালন করছেন।

বুধবার গ্রামের বাসিন্দা, আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের সম্মিলিত উদ্যোগে তাকে সৌদি আরবের উদ্দেশে বিদায় জানানো হয়। এ সময় মসজিদ প্রাঙ্গণে ছিল আবেগঘন পরিবেশ। অনেকেই তার জন্য দোয়া করেন এবং সুস্থভাবে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা এ কে এম ফজলুল হক বলেন, তরুণ বয়সে ইমামতির দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে হাফেজ আব্দুল কদ্দুস নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি শুধু নামাজ পরিচালনাই করেননি; গ্রামের শিশু-কিশোরদের কোরআন শিক্ষা, ইসলামী মূল্যবোধ চর্চা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয়ে মানুষকে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, হাফেজ আব্দুল কদ্দুস কখনও তার দায়িত্বের প্রতি অবহেলা করেননি। অসুস্থতা কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও যথাসম্ভব মসজিদে উপস্থিত থেকে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিনয়, ধর্মীয় জ্ঞান ও মানবিক আচরণের কারণে তিনি গ্রামের মানুষের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন।

ইমামকে ওমরাহে পাঠানোর অন্যতম উদ্যোক্তা ফরিদ আহমেদ লালু ও আশরাফুল ইসলাম বলেন, তাকে সম্মান জানাতেই সবাই মিলে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তার প্রতি উপহারস্বরূপ।

 

বিদায়ের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হাফেজ আব্দুল কদ্দুস এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি ১৯৭১ সাল থেকে এই মসজিদে ইমামতি করছি। কখনো কল্পনাও করিনি আপনারা আমাকে এভাবে সম্মানিত করবেন। আল্লাহ আপনাদের সবাইকে উত্তম প্রতিদান দিন। পবিত্র ভূমিতে গিয়ে দেশ, জাতি ও আপনাদের সবার জন্য দোয়া করব।