ঢাকা ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অধিকার ও দায়িত্বের ভারসাম্যে মুসলিম নারী

অধিকার ও দায়িত্বের ভারসাম্যে মুসলিম নারী

মানবসভ্যতার ইতিহাসে নারীকে ঘিরে নানা মত ও দর্শন তৈরি হয়েছে। কোথাও নারীকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে, কোথাও আবার তাকে সীমাহীন স্বাধীনতার নামে ভোগ্যপণ্যে পরিণত করা হয়েছে। এই দুই চরম অবস্থানের মাঝখানে ইসলাম নারীর জন্য উপস্থাপন করেছে এক ভারসাম্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। ইসলাম নারীকে শুধু অধিকারই দেয়নি, বরং তার দায়িত্ব ও সম্মানের এমন একটি কাঠামো নির্ধারণ করেছে যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে সুস্থ ও সুশৃঙ্খল করে তোলে।

ইসলাম আবির্ভূত হওয়ার আগে আরব সমাজে নারীর অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ। কন্যাসন্তান জন্মকে লজ্জার কারণ মনে করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে জীবন্ত কন্যাশিশুকে মাটিতে পুঁতে ফেলার মতো নির্মম প্রথাও প্রচলিত ছিল। পবিত্র কোরআন সেই ভয়াবহতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছে,

 وَ اِذَا الۡمَوۡءٗدَۃُ سُئِلَتۡ ۪ۙ﴿۸﴾  بِاَیِّ ذَنۡۢبٍ قُتِلَتۡ ۚ﴿۹﴾

“যখন জীবন্ত কন্যাশিশুকে জিজ্ঞাসা করা হবে; কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল?” (সূরা তাকভীর, আয়াত : ৮–৯)

এমনই অমানবিক এক সমাজে ইসলাম এসে ঘোষণা করল মানুষের মর্যাদা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমান।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

 یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اِنَّا خَلَقۡنٰكُمۡ مِّنۡ ذَكَرٍ وَّ اُنۡثٰی

“হে মানবমণ্ডলী, আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে।” (সূরা হুজুরাত, আয়াত : ১৩)

এই আয়াত মানবজাতির মৌলিক ঐক্যের কথা ঘোষণা করে। ইসলাম নারীকে মানুষের পূর্ণ মর্যাদা দিয়েছে এবং তার অধিকারকে আল্লাহপ্রদত্ত অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

নারীর অধিকার বিষয়ে কোরআনের অন্যতম মৌলিক ঘোষণা হলো—

لِلرِّجَالِ نَصِیۡبٌ مِّمَّا اكۡتَسَبُوۡا ؕ وَ لِلنِّسَآءِ نَصِیۡبٌ مِّمَّا اكۡتَسَبۡنَ

“পুরুষের জন্য রয়েছে তার উপার্জনের অংশ এবং নারীর জন্য রয়েছে তার উপার্জনের অংশ।

(বুখারি, হাদিস : ৫১৩৬)

এই হাদিস নারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মর্যাদাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

তবে ইসলাম শুধু অধিকার দিয়েই থেমে থাকেনি; দায়িত্বের কথাও সমান গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছে। কারণ অধিকার ও দায়িত্বের ভারসাম্য ছাড়া কোনো সমাজ টেকসই হতে পারে না। মুসলিম নারীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলো পরিবার গঠন ও নৈতিক সমাজ নির্মাণ করা।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا وَمَسْئُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا،

“নারী তার স্বামীর ঘরের রক্ষক এবং সে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।” (বুখারি, হাদিস : ৮৯৩)

এই দায়িত্ব কেবল গৃহস্থালির কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন মা তার সন্তানকে নৈতিকতা, ঈমান ও মানবিকতার শিক্ষা দেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, অনেক মহান ব্যক্তিত্বের পেছনে ছিলেন একজন আদর্শ মা।

ইসলামি ইতিহাসে নারীর সক্রিয় ভূমিকার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। উম্মুল মুমিনীন খাদিজা (রা.) ছিলেন ইসলামের প্রথম যুগের এক মহান সহায়। তিনি তাঁর সম্পদ ও প্রজ্ঞা দিয়ে ইসলামের দাওয়াতকে শক্ত ভিত্তি দিয়েছিলেন। আয়েশা (রা.) ছিলেন জ্ঞান ও ফিকহের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র; অসংখ্য সাহাবি তাঁর কাছ থেকে হাদিস ও জ্ঞান শিক্ষা নিয়েছেন।

ইমাম যাহাবি (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা-তে উল্লেখ করেছেন যে মুসলিম ইতিহাসে বহু নারী হাদিস ও জ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে ইসলাম নারীকে শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রেও উৎসাহিত করেছে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ

“জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ।” (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২২৪)

ইসলামি আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এই নির্দেশ নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য।

আজকের বিশ্বে নারীর অধিকার নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আধুনিক ভোগবাদী সংস্কৃতিতে অনেক সময় নারীকে পণ্যে পরিণত করা হয়। বিজ্ঞাপন, বিনোদন ও ভোগবাদী বাজারব্যবস্থা নারীর মর্যাদাকে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষুণ্ণ করে। ইসলাম এই অবস্থানের বিপরীতে নারীর সম্মান ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।

পবিত্র কোরআন পুরুষদের নির্দেশ দিয়েছে—

وَ عَاشِرُوۡهُنَّ بِالۡمَعۡرُوۡفِ ۚ

“তোমরা তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন কর।” (সূরা নিসা : ১৯)

এই আয়াত পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সম্মান, সহমর্মিতা ও সৌজন্যকে প্রতিষ্ঠা করে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রেক্ষাপটে মুসলিম সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো; নারীর প্রকৃত মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন হওয়া। ইসলাম নারীকে যে সম্মান, অধিকার ও দায়িত্ব দিয়েছে তা যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে পরিবার ও সমাজ উভয়ই শক্তিশালী হবে।

নারী সমাজের অর্ধেক, কিন্তু তার প্রভাব পুরো সমাজের ওপর বিস্তৃত। একজন সৎ, জ্ঞানী ও সচেতন নারী একটি প্রজন্মকে গড়ে তুলতে পারেন। তাই মুসলিম নারীর অধিকার রক্ষা করা যেমন জরুরি, তেমনি তার দায়িত্ব পালনের সুযোগ ও পরিবেশ তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামের দৃষ্টিতে নারীর মর্যাদা কোনো দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি চিরন্তন মূল্যবোধ। অধিকার ও দায়িত্বের এই ভারসাম্যই মুসলিম নারীকে শুধু পরিবারের নয়, পুরো সমাজের কল্যাণের এক শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিণত করেছে। নারীদের স্থায়ীভাবে মর্যাদার আসনে বসিয়েছি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

অধিকার ও দায়িত্বের ভারসাম্যে মুসলিম নারী

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

মানবসভ্যতার ইতিহাসে নারীকে ঘিরে নানা মত ও দর্শন তৈরি হয়েছে। কোথাও নারীকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে, কোথাও আবার তাকে সীমাহীন স্বাধীনতার নামে ভোগ্যপণ্যে পরিণত করা হয়েছে। এই দুই চরম অবস্থানের মাঝখানে ইসলাম নারীর জন্য উপস্থাপন করেছে এক ভারসাম্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। ইসলাম নারীকে শুধু অধিকারই দেয়নি, বরং তার দায়িত্ব ও সম্মানের এমন একটি কাঠামো নির্ধারণ করেছে যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে সুস্থ ও সুশৃঙ্খল করে তোলে।

ইসলাম আবির্ভূত হওয়ার আগে আরব সমাজে নারীর অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ। কন্যাসন্তান জন্মকে লজ্জার কারণ মনে করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে জীবন্ত কন্যাশিশুকে মাটিতে পুঁতে ফেলার মতো নির্মম প্রথাও প্রচলিত ছিল। পবিত্র কোরআন সেই ভয়াবহতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছে,

 وَ اِذَا الۡمَوۡءٗدَۃُ سُئِلَتۡ ۪ۙ﴿۸﴾  بِاَیِّ ذَنۡۢبٍ قُتِلَتۡ ۚ﴿۹﴾

“যখন জীবন্ত কন্যাশিশুকে জিজ্ঞাসা করা হবে; কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল?” (সূরা তাকভীর, আয়াত : ৮–৯)

এমনই অমানবিক এক সমাজে ইসলাম এসে ঘোষণা করল মানুষের মর্যাদা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমান।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

 یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اِنَّا خَلَقۡنٰكُمۡ مِّنۡ ذَكَرٍ وَّ اُنۡثٰی

“হে মানবমণ্ডলী, আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে।” (সূরা হুজুরাত, আয়াত : ১৩)

এই আয়াত মানবজাতির মৌলিক ঐক্যের কথা ঘোষণা করে। ইসলাম নারীকে মানুষের পূর্ণ মর্যাদা দিয়েছে এবং তার অধিকারকে আল্লাহপ্রদত্ত অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

নারীর অধিকার বিষয়ে কোরআনের অন্যতম মৌলিক ঘোষণা হলো—

لِلرِّجَالِ نَصِیۡبٌ مِّمَّا اكۡتَسَبُوۡا ؕ وَ لِلنِّسَآءِ نَصِیۡبٌ مِّمَّا اكۡتَسَبۡنَ

“পুরুষের জন্য রয়েছে তার উপার্জনের অংশ এবং নারীর জন্য রয়েছে তার উপার্জনের অংশ।

(বুখারি, হাদিস : ৫১৩৬)

এই হাদিস নারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মর্যাদাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

তবে ইসলাম শুধু অধিকার দিয়েই থেমে থাকেনি; দায়িত্বের কথাও সমান গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছে। কারণ অধিকার ও দায়িত্বের ভারসাম্য ছাড়া কোনো সমাজ টেকসই হতে পারে না। মুসলিম নারীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলো পরিবার গঠন ও নৈতিক সমাজ নির্মাণ করা।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا وَمَسْئُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا،

“নারী তার স্বামীর ঘরের রক্ষক এবং সে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।” (বুখারি, হাদিস : ৮৯৩)

এই দায়িত্ব কেবল গৃহস্থালির কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন মা তার সন্তানকে নৈতিকতা, ঈমান ও মানবিকতার শিক্ষা দেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, অনেক মহান ব্যক্তিত্বের পেছনে ছিলেন একজন আদর্শ মা।

ইসলামি ইতিহাসে নারীর সক্রিয় ভূমিকার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। উম্মুল মুমিনীন খাদিজা (রা.) ছিলেন ইসলামের প্রথম যুগের এক মহান সহায়। তিনি তাঁর সম্পদ ও প্রজ্ঞা দিয়ে ইসলামের দাওয়াতকে শক্ত ভিত্তি দিয়েছিলেন। আয়েশা (রা.) ছিলেন জ্ঞান ও ফিকহের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র; অসংখ্য সাহাবি তাঁর কাছ থেকে হাদিস ও জ্ঞান শিক্ষা নিয়েছেন।

ইমাম যাহাবি (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা-তে উল্লেখ করেছেন যে মুসলিম ইতিহাসে বহু নারী হাদিস ও জ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে ইসলাম নারীকে শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রেও উৎসাহিত করেছে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ

“জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ।” (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২২৪)

ইসলামি আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এই নির্দেশ নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য।

আজকের বিশ্বে নারীর অধিকার নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আধুনিক ভোগবাদী সংস্কৃতিতে অনেক সময় নারীকে পণ্যে পরিণত করা হয়। বিজ্ঞাপন, বিনোদন ও ভোগবাদী বাজারব্যবস্থা নারীর মর্যাদাকে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষুণ্ণ করে। ইসলাম এই অবস্থানের বিপরীতে নারীর সম্মান ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।

পবিত্র কোরআন পুরুষদের নির্দেশ দিয়েছে—

وَ عَاشِرُوۡهُنَّ بِالۡمَعۡرُوۡفِ ۚ

“তোমরা তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন কর।” (সূরা নিসা : ১৯)

এই আয়াত পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সম্মান, সহমর্মিতা ও সৌজন্যকে প্রতিষ্ঠা করে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রেক্ষাপটে মুসলিম সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো; নারীর প্রকৃত মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন হওয়া। ইসলাম নারীকে যে সম্মান, অধিকার ও দায়িত্ব দিয়েছে তা যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে পরিবার ও সমাজ উভয়ই শক্তিশালী হবে।

নারী সমাজের অর্ধেক, কিন্তু তার প্রভাব পুরো সমাজের ওপর বিস্তৃত। একজন সৎ, জ্ঞানী ও সচেতন নারী একটি প্রজন্মকে গড়ে তুলতে পারেন। তাই মুসলিম নারীর অধিকার রক্ষা করা যেমন জরুরি, তেমনি তার দায়িত্ব পালনের সুযোগ ও পরিবেশ তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামের দৃষ্টিতে নারীর মর্যাদা কোনো দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি চিরন্তন মূল্যবোধ। অধিকার ও দায়িত্বের এই ভারসাম্যই মুসলিম নারীকে শুধু পরিবারের নয়, পুরো সমাজের কল্যাণের এক শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিণত করেছে। নারীদের স্থায়ীভাবে মর্যাদার আসনে বসিয়েছি।