ঢাকা ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোক দেখানো ইবাদতে আখিরাতের লাঞ্ছনা : এক ভয়াবহ বার্তা

মানবজীবনের সব ইবাদত, আনুগত্য ও ত্যাগ শেষতক যে মহান সত্যে গিয়েই মিলিত হয়, তা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। দুনিয়ার অস্থায়ী আলো-অন্ধকারের ভাঁজে মানুষের অন্তর কখনো লুকিয়ে রাখে ঈমানের শিহরণ, কখনো প্রকাশ করে প্রদর্শনীর মোড়কে সাজানো লোকদেখানোর বাসনা। অথচ হাশরের ময়দানে মানব অন্তরের লুকানো সব মুখোশ খুলে যাবে, তখন প্রকাশ পাবে কার ইবাদত ছিল হৃদয়ের গভীর নিষ্ঠার ফসল, আর কার ইবাদত ছিল মানুষের দৃষ্টি কাড়ার জন্য সাজানো এক অভিনয়।

নিচের হাদিসটি শুধু আখিরাতের ঘটনা বর্ণনা নয়; বরং এটি মানুষের আমলের আভ্যন্তরীণ সত্যতার ওপর এক গভীর শিক্ষার দিকনির্দেশনা।

ইখলাসের গুরুত্ব, রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদতের মারাত্মক পরিণতি, এবং আল্লাহর সামনে মানুষের অন্তর-অবস্থা কেমনভাবে উন্মোচিত হবে; এসব বিষয়কে এক অনন্য রূপে তুলে ধরে এই বর্ণনা-

 

عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ يَقُوْلُ يَكْشِفُ رَبُّنَا عَنْ سَاقِهِ فَيَسْجُدُ لَهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ وَمُؤْمِنَةٍ فَيَبْقَى كُلُّ مَنْ كَانَ يَسْجُدُ فِي الدُّنْيَا رِيَاءً وَسُمْعَةً فَيَذْهَبُ لِيَسْجُدَ فَيَعُوْدُ ظَهْرُهُ طَبَقًا وَاحِدًا.

আবু সা’ঈদ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমাদের প্রতিপালক যখন তাঁর পায়ের গোড়ালির জ্যোতি বিকীর্ণ করবেন, তখন ঈমানদার নারী ও পুরুষ সবাই তাকে সাজদাহ করবে। কিন্তু যারা দুনিয়াতে লোক দেখানো ও প্রচারের জন্য সাজদাহ করত, তারা কেবল বাকী থাকবে। তারা সিজদা করতে ইচ্ছে করলে তাদের পিঠ একখন্ড কাঠের ন্যায় শক্ত হয়ে যাবে।

(বুখারি, হাদিস : ৪৯১৯)

কিয়ামতের ভয়াবহ ময়দানে আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর বিশেষ মহিমার প্রকাশ ঘটাবেন। যাকে হাদিসের ভাষায় পায়ের গোড়ালির জ্যোতি”  বলা হয়েছে। তখন সত্যিকার ঈমানদারদের আত্মা ঝুঁকে পড়বে বিনয়ের পূর্ণ সিজদায়। তারা মহান রবের মহিমা দেখে সম্মান আর শ্রদ্ধায় বিনয়বনত হয়ে সিজদায় লুটিয়ে পরবে।

কিন্তু দুনিয়ায় যারা সিজদাকে বানিয়েছিল কৃত্রিম ভাবমূর্তি নির্মাণের হাতিয়ার, যারা দুনিয়াতে লোক দেখানোর জন্য সিজদা করতো, লোকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ইবাদত করতো। মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার বাসনায় ইবাদত করতো; তাদের জন্য সেই দিন সিজদা হয়ে দাঁড়াবে অসম্ভব এক ভার। তাদের পিঠ হয়ে যাবে কাঠের মতো শক্ত, রবের সামনে নুইয়ে পড়তে পারবে না। তারা শত চেষ্ঠা করেও সেদিন মহার রবের সামনে সিজদা করতে সক্ষম হবে না।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে একমাত্র আল্লাহরই জন্য ইবাদত করার তাওফিক দান করুন।

আমাদের দান সদকা, নামাজ রোজাসহ সকল ইবাদতে যেনো লোকদেখানো মানসিকতা থেকে মুক্ত রাখতে পারি সে তাওফিক দান করুন। আমীন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

লোক দেখানো ইবাদতে আখিরাতের লাঞ্ছনা : এক ভয়াবহ বার্তা

আপডেট সময় : ০৯:৩৩:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

মানবজীবনের সব ইবাদত, আনুগত্য ও ত্যাগ শেষতক যে মহান সত্যে গিয়েই মিলিত হয়, তা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। দুনিয়ার অস্থায়ী আলো-অন্ধকারের ভাঁজে মানুষের অন্তর কখনো লুকিয়ে রাখে ঈমানের শিহরণ, কখনো প্রকাশ করে প্রদর্শনীর মোড়কে সাজানো লোকদেখানোর বাসনা। অথচ হাশরের ময়দানে মানব অন্তরের লুকানো সব মুখোশ খুলে যাবে, তখন প্রকাশ পাবে কার ইবাদত ছিল হৃদয়ের গভীর নিষ্ঠার ফসল, আর কার ইবাদত ছিল মানুষের দৃষ্টি কাড়ার জন্য সাজানো এক অভিনয়।

নিচের হাদিসটি শুধু আখিরাতের ঘটনা বর্ণনা নয়; বরং এটি মানুষের আমলের আভ্যন্তরীণ সত্যতার ওপর এক গভীর শিক্ষার দিকনির্দেশনা।

ইখলাসের গুরুত্ব, রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদতের মারাত্মক পরিণতি, এবং আল্লাহর সামনে মানুষের অন্তর-অবস্থা কেমনভাবে উন্মোচিত হবে; এসব বিষয়কে এক অনন্য রূপে তুলে ধরে এই বর্ণনা-

 

عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ يَقُوْلُ يَكْشِفُ رَبُّنَا عَنْ سَاقِهِ فَيَسْجُدُ لَهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ وَمُؤْمِنَةٍ فَيَبْقَى كُلُّ مَنْ كَانَ يَسْجُدُ فِي الدُّنْيَا رِيَاءً وَسُمْعَةً فَيَذْهَبُ لِيَسْجُدَ فَيَعُوْدُ ظَهْرُهُ طَبَقًا وَاحِدًا.

আবু সা’ঈদ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমাদের প্রতিপালক যখন তাঁর পায়ের গোড়ালির জ্যোতি বিকীর্ণ করবেন, তখন ঈমানদার নারী ও পুরুষ সবাই তাকে সাজদাহ করবে। কিন্তু যারা দুনিয়াতে লোক দেখানো ও প্রচারের জন্য সাজদাহ করত, তারা কেবল বাকী থাকবে। তারা সিজদা করতে ইচ্ছে করলে তাদের পিঠ একখন্ড কাঠের ন্যায় শক্ত হয়ে যাবে।

(বুখারি, হাদিস : ৪৯১৯)

কিয়ামতের ভয়াবহ ময়দানে আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর বিশেষ মহিমার প্রকাশ ঘটাবেন। যাকে হাদিসের ভাষায় পায়ের গোড়ালির জ্যোতি”  বলা হয়েছে। তখন সত্যিকার ঈমানদারদের আত্মা ঝুঁকে পড়বে বিনয়ের পূর্ণ সিজদায়। তারা মহান রবের মহিমা দেখে সম্মান আর শ্রদ্ধায় বিনয়বনত হয়ে সিজদায় লুটিয়ে পরবে।

কিন্তু দুনিয়ায় যারা সিজদাকে বানিয়েছিল কৃত্রিম ভাবমূর্তি নির্মাণের হাতিয়ার, যারা দুনিয়াতে লোক দেখানোর জন্য সিজদা করতো, লোকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ইবাদত করতো। মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার বাসনায় ইবাদত করতো; তাদের জন্য সেই দিন সিজদা হয়ে দাঁড়াবে অসম্ভব এক ভার। তাদের পিঠ হয়ে যাবে কাঠের মতো শক্ত, রবের সামনে নুইয়ে পড়তে পারবে না। তারা শত চেষ্ঠা করেও সেদিন মহার রবের সামনে সিজদা করতে সক্ষম হবে না।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে একমাত্র আল্লাহরই জন্য ইবাদত করার তাওফিক দান করুন।

আমাদের দান সদকা, নামাজ রোজাসহ সকল ইবাদতে যেনো লোকদেখানো মানসিকতা থেকে মুক্ত রাখতে পারি সে তাওফিক দান করুন। আমীন।