ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ দিনের বৃষ্টির পর ভূরুঙ্গামারীতে রোদের হাসি, সড়কে ধান-ভুট্টা শুকানোর ব্যস্ততা

টানা সাত দিনের বৃষ্টির পর অবশেষে রোদের দেখা মিলেছে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায়। হঠাৎ ঝলমলে রোদ উঠতেই স্বস্তি ফিরেছে কৃষক-কৃষাণীদের মুখে। সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ধান, খড় ও ভুট্টা শুকানোর যেন মেলা বসেছে।
রোববার দুপুরে ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ক ঘুরে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশজুড়ে কৃষকরা দল বেঁধে ধান, খড় ও ভুট্টা শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দীর্ঘদিন সূর্যের আলো না থাকায় ঘরে রাখা ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তারা রোদ উঠতেই সড়কে নেমে এসেছেন।
উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়ন এর গছিডাঙা গ্রামের কৃষক এরশাদ আলী জানান, পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিন দিন আগে দুই বিঘা জমির ধান কেটেছিলেন। কিন্তু বৃষ্টির কারণে শুকাতে না পেরে আজ বাধ্য হয়ে সড়কে ধান মেলেছেন।
একই গ্রামের গৃহবধূ মরিয়ম বলেন, সাত দিন আগে আগাম জাতের বোরো ধান কেটে বিক্রি করলেও খড়গুলো বৃষ্টিতে পঁচে কালো হয়ে গেছে। তাই খড় শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য রাস্তায় এনেছেন।
অন্যদিকে বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়ন এলাকার বাসিন্দা হামিদুল জানান, দেড় বিঘা জমির ভুট্টা তোলার পর থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়। এতে ভুট্টা থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। আজ রোদ ওঠায় পিচঢালা সড়কে তা শুকাতে দিয়েছেন, যাতে ভালো দামে বিক্রি করা যায়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ১ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা এবং ১৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭৩৫ হেক্টর জমির ভুট্টা এবং ২ হাজার ৪৭২ হেক্টর জমির বোরো ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে কৃষকরা কিছুটা বিপাকে পড়েছিলেন। এখন আবহাওয়া উন্নতির দিকে যাচ্ছে। তাই পাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তোলার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

৭ দিনের বৃষ্টির পর ভূরুঙ্গামারীতে রোদের হাসি, সড়কে ধান-ভুট্টা শুকানোর ব্যস্ততা

আপডেট সময় : ০৬:০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

টানা সাত দিনের বৃষ্টির পর অবশেষে রোদের দেখা মিলেছে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায়। হঠাৎ ঝলমলে রোদ উঠতেই স্বস্তি ফিরেছে কৃষক-কৃষাণীদের মুখে। সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ধান, খড় ও ভুট্টা শুকানোর যেন মেলা বসেছে।
রোববার দুপুরে ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ক ঘুরে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশজুড়ে কৃষকরা দল বেঁধে ধান, খড় ও ভুট্টা শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দীর্ঘদিন সূর্যের আলো না থাকায় ঘরে রাখা ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তারা রোদ উঠতেই সড়কে নেমে এসেছেন।
উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়ন এর গছিডাঙা গ্রামের কৃষক এরশাদ আলী জানান, পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিন দিন আগে দুই বিঘা জমির ধান কেটেছিলেন। কিন্তু বৃষ্টির কারণে শুকাতে না পেরে আজ বাধ্য হয়ে সড়কে ধান মেলেছেন।
একই গ্রামের গৃহবধূ মরিয়ম বলেন, সাত দিন আগে আগাম জাতের বোরো ধান কেটে বিক্রি করলেও খড়গুলো বৃষ্টিতে পঁচে কালো হয়ে গেছে। তাই খড় শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য রাস্তায় এনেছেন।
অন্যদিকে বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়ন এলাকার বাসিন্দা হামিদুল জানান, দেড় বিঘা জমির ভুট্টা তোলার পর থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়। এতে ভুট্টা থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। আজ রোদ ওঠায় পিচঢালা সড়কে তা শুকাতে দিয়েছেন, যাতে ভালো দামে বিক্রি করা যায়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ১ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা এবং ১৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭৩৫ হেক্টর জমির ভুট্টা এবং ২ হাজার ৪৭২ হেক্টর জমির বোরো ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে কৃষকরা কিছুটা বিপাকে পড়েছিলেন। এখন আবহাওয়া উন্নতির দিকে যাচ্ছে। তাই পাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তোলার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।