ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২২ বছর ধরে সেবা থেকে বঞ্চিত পানছড়ি এলাকাবাসী।

২২ বছর ধরে সেবা থেকে বঞ্চিত পানছড়ি এলাকাবাসী।

পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটারটি (ওটি) দীর্ঘ ২২ বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। ২০০৪ সাল থেকে প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে বন্ধ থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ সেবাটি আজও চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন এমন সাধারণ রোগীদের একমাত্র ভরসা এখন জেলা সদর হাসপাতাল।
দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে অপারেশন থিয়েটারটি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্নবিত্ত মানুষ ও গর্ভবতী নারীরা। জরুরি সিজারিয়ান অপারেশন বা অন্য কোনো অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে জেলা সদরে যেতে হয়। এতে যাতায়াত খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে গাইনি ও অ্যানেস্থেসিয়া কনসালটেন্ট থাকলেও একটি পূর্ণাঙ্গ ‘প্রশিক্ষিত টিম’ এবং আধুনিক ওটি লাইটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে সেবা দেওয়া যাচ্ছে না।
​গাইনি কনসালটেন্ট ডা. মিনাক্ষী চাকমা জানান, ২০০৪ সালের পর থেকে এখানে অপারেশন বন্ধ। দীর্ঘ সময়ের অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক যন্ত্রপাতিও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অ্যানেস্থেসিয়া কনসালটেন্ট ডা. তারিকুল ইসলাম তারেক জানান, বর্তমান যন্ত্রপাতিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও একটি পূর্ণাঙ্গ সেটআপ ছাড়া অপারেশন শুরু করা ঝুঁকিপূর্ণ।
​উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনুতোষ চাকমা বলেন “দীর্ঘদিন জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকটে এটি বন্ধ রয়েছে। আমরা দ্রুত সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি, তবে এখনো তা চালুর মতো অবস্থায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কাগজে-কলমে আশ্বাস থাকলেও বাস্তবে পানছড়ির মানুষ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অপারেশন থিয়েটারটি সচল করে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করছেন এলাকাবাসী।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২২ বছর ধরে সেবা থেকে বঞ্চিত পানছড়ি এলাকাবাসী।

আপডেট সময় : ১০:১৮:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটারটি (ওটি) দীর্ঘ ২২ বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। ২০০৪ সাল থেকে প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে বন্ধ থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ সেবাটি আজও চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন এমন সাধারণ রোগীদের একমাত্র ভরসা এখন জেলা সদর হাসপাতাল।
দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে অপারেশন থিয়েটারটি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্নবিত্ত মানুষ ও গর্ভবতী নারীরা। জরুরি সিজারিয়ান অপারেশন বা অন্য কোনো অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে জেলা সদরে যেতে হয়। এতে যাতায়াত খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে গাইনি ও অ্যানেস্থেসিয়া কনসালটেন্ট থাকলেও একটি পূর্ণাঙ্গ ‘প্রশিক্ষিত টিম’ এবং আধুনিক ওটি লাইটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে সেবা দেওয়া যাচ্ছে না।
​গাইনি কনসালটেন্ট ডা. মিনাক্ষী চাকমা জানান, ২০০৪ সালের পর থেকে এখানে অপারেশন বন্ধ। দীর্ঘ সময়ের অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক যন্ত্রপাতিও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অ্যানেস্থেসিয়া কনসালটেন্ট ডা. তারিকুল ইসলাম তারেক জানান, বর্তমান যন্ত্রপাতিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও একটি পূর্ণাঙ্গ সেটআপ ছাড়া অপারেশন শুরু করা ঝুঁকিপূর্ণ।
​উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনুতোষ চাকমা বলেন “দীর্ঘদিন জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকটে এটি বন্ধ রয়েছে। আমরা দ্রুত সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি, তবে এখনো তা চালুর মতো অবস্থায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কাগজে-কলমে আশ্বাস থাকলেও বাস্তবে পানছড়ির মানুষ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অপারেশন থিয়েটারটি সচল করে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করছেন এলাকাবাসী।