দীর্ঘ তিন সপ্তাহের স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার জেরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সংকটে টানা ২১ দিন বন্ধ থাকার পর আজ শুক্রবার (৮ মে) সকাল থেকে পুনরায় পরিশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সংকটের অবসান ও নতুন শুরু
মূলত ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের আমদানিতে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার ফলে গত কয়েক সপ্তাহ রিফাইনারিটির উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। সম্প্রতি অপরিশোধিত তেলের নতুন চালান বন্দরে পৌঁছানোর পর এই অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে যায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই কারখানায় যান্ত্রিক প্রস্তুতি শুরু করা হয়। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, দীর্ঘ বিরতির পর প্ল্যান্ট চালু করার ক্ষেত্রে কিছু কারিগরি সুরক্ষা পরীক্ষা (Safety Checks) এবং প্রাথমিক সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। সেই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর আজ সকাল থেকে পুরোদমে তেল পরিশোধন শুরু হয়েছে।
উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ও বর্তমান অবস্থা
ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, বর্তমানে প্ল্যান্টটি সচল করার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। রিফাইনারির উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) মামুনুর রশীদ খান জানান:
“বর্তমানে আমরা দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টন তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছি। শুরুতে যান্ত্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কিছুটা ধীরগতিতে কাজ চললেও, খুব দ্রুতই আমরা পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে আসব।”
জ্বালানি খাতে স্বস্তি
দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ এই শোধনাগার থেকে সরবরাহ করা হয়। দীর্ঘ ২১ দিন পর এই উৎপাদন শুরু হওয়ায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
মূল পয়েন্টগুলো একনজরে:
বন্ধের সময়কাল: ২১ দিন।
চালু হওয়ার সময়: ৮ মে, ২০২৬ (শুক্রবার সকাল)।
প্রধান কারণ: অপরিশোধিত তেলের নতুন চালান আসা।
বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা: দৈনিক ৩,৫০০ টন।






















