কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে সোনালি স্বপ্ন এখন কৃষকের চোখের জলে ভাসছে। আগাম বন্যা, অতিবৃষ্টি আর উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর বোরো ধান। মাঠের ফসল হারিয়ে কৃষকের ঘরে যখন খাবারের হাহাকার, তখন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে এনজিও ও ব্যাংকের ঋণের কিস্তি।
কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামসহ বিভিন্ন উপজেলার হাওরে এ বছর ফলন ভালো হলেও শেষ মুহূর্তে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক তথ্যমতে, ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির আধা-পাকা ধান। অনেক কৃষক ঋণ করে এবং সুদে টাকা নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। ফসল ঘরে তুলতে না পারায় এখন তাদের সারা বছরের খোরাকি জোটানোই দায় হয়ে পড়েছে।
ফসল হারানোর শোক কাটতে না কাটতেই কৃষকদের দ্বারে দ্বারে হাজির হচ্ছে এনজিওর কর্মীরা। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দুর্যোগের এই কঠিন সময়েও ঋণের কিস্তি আদায়ে কোনো ছাড় দিচ্ছে না সংস্থাগুলো।
মিঠামইনের একজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “জমির ধান পানির তলে, ঘরে চাল নাই। পোলাপানরে কী খাওয়ামু সেই চিন্তা করতাছি, এর মধ্যে এনজিওর লোক আইসা বইসা থাকে কিস্তির লাইগা। এইটা তো আমাদের মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।”
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় সরকার ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তিন মাস মেয়াদী আর্থিক প্রণোদনা এবং খাদ্য সহায়তা। তবে কৃষকদের দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এনজিওর কিস্তি আদায় স্থগিত রাখা এবং কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ করা হোক।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাওরের এই বিশেষ পরিস্থিতিতে কৃষকদের বাঁচাতে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা না নিলে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়বে।
আবু রায়হান
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
৮ মে ২০২৬
০১৪০৭৬৮৩৮৭৫






















