ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাঁটু ব্যথায় আরাম পেতে কী করবেন?

হাঁটু ব্যথায় আরাম পেতে কী করবেন?

হাঁটু ভালো না থাকলে দৈনন্দিন চলাফেরা থেকেই আনন্দ হারিয়ে যায়। অল্প হাঁটলেই ব্যথা, বসা থেকে উঠতে কষ্ট বা হাঁটু ভাঁজ-সোজা করার সময় অস্বস্তিকর শব্দ—এই সমস্যাগুলো এখন শুধু বয়সজনিত নয়, কম বয়সীদের মধ্যেও ক্রমশ বাড়ছে। পুষ্টির ঘাটতি, দীর্ঘ সময় এক ভঙ্গিতে বসে থাকা, ভুল ভঙ্গিতে হাঁটা কিংবা পুরনো কোনো আঘাত—সব মিলিয়েই হাঁটুর সমস্যা শুরু হতে পারে।

অনেকেই হাঁটু নড়াচড়া করলে ‘কটকট’ বা ঘষা লাগার মতো শব্দ পান।

এর মূল কারণ হতে পারে হাঁটুর ভিতরের কার্টিলেজ ক্ষয় হওয়া। কার্টিলেজ মূলত হাঁটুর হাড়গুলোর মাঝে নরম কুশনের মতো কাজ করে, যাতে হাড়ে হাড়ে ঘর্ষণ না হয় এবং হাঁটা-চলা মসৃণ থাকে। এই স্তর দুর্বল হয়ে গেলে ব্যথা, শব্দ এবং নড়াচড়ায় অসুবিধা দেখা দেয়। সমস্যা খুব বেশি বেড়ে গেলে অস্ত্রোপচারের কথাও ভাবা হয়, তবে সব ক্ষেত্রে তা প্রয়োজন হয় না।

অনেক সময় খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে কিছু বদল আনলেই উপকার পাওয়া যায়।

ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকলে হাঁটু থেকে শব্দ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যোগ করা যেতে পারে। হাঁটু ফুলে থাকলে বা প্রদাহের কারণে ব্যথা হলে আদা উপকারী।

প্রতিদিনের রান্নায় আদা ও রসুন ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে ফোলাভাব কমতে সাহায্য করে।

যাদের পায়ে দুর্বলতা লাগে বা সিঁড়ি ভাঙতে সমস্যা হয়, তাদের জন্য মুগ ডাল ও আখরোট ভালো প্রোটিন ও খনিজের উৎস। কার্টিলেজের পুষ্টি বাড়াতে সয়াবিন, ওটসের মতো খাবারও উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি, প্রতিদিন প্রায় ১৫-২০ মিনিট পিছনের দিকে হাঁটার অভ্যাস হাঁটুর পেশিকে শক্তিশালী করে এবং অস্বস্তিকর শব্দ কমাতে সাহায্য করে।

হাঁটুর ব্যথা কমানোর সহজ উপায়
হালকা হাঁটুর ব্যথা কমাতে হলুদ মেশানো গরম দুধ পান করা যেতে পারে।

হলুদের প্রাকৃতিক প্রদাহনাশক গুণ ব্যথা ও ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। চাইলে হলুদ দিয়ে তৈরি ঘরোয়া লেপ হাঁটুতে লাগালেও আরাম মেলে।

হাঁটু মালিশে কোন তেল ভালো?
সরিষার তেলে কয়েক কোয়া রসুন ফুটিয়ে সেই তেল সামান্য গরম অবস্থায় হাঁটুতে আলতো করে মালিশ করলে ব্যথা ও শক্তভাব কমে। নিয়মিত মালিশ রক্তসঞ্চালন বাড়ায় এবং হাঁটুর জড়তা কাটাতে সাহায্য করে।

চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধের পাশাপাশি এই সহজ ঘরোয়া উপায়গুলো মেনে চললে অনেক ক্ষেত্রেই হাঁটুর সমস্যায় স্বস্তি পাওয়া যায়। খরচও কম, ঝুঁকিও নেই—শুধু দরকার নিয়ম আর একটু যত্ন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাঁটু ব্যথায় আরাম পেতে কী করবেন?

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

হাঁটু ভালো না থাকলে দৈনন্দিন চলাফেরা থেকেই আনন্দ হারিয়ে যায়। অল্প হাঁটলেই ব্যথা, বসা থেকে উঠতে কষ্ট বা হাঁটু ভাঁজ-সোজা করার সময় অস্বস্তিকর শব্দ—এই সমস্যাগুলো এখন শুধু বয়সজনিত নয়, কম বয়সীদের মধ্যেও ক্রমশ বাড়ছে। পুষ্টির ঘাটতি, দীর্ঘ সময় এক ভঙ্গিতে বসে থাকা, ভুল ভঙ্গিতে হাঁটা কিংবা পুরনো কোনো আঘাত—সব মিলিয়েই হাঁটুর সমস্যা শুরু হতে পারে।

অনেকেই হাঁটু নড়াচড়া করলে ‘কটকট’ বা ঘষা লাগার মতো শব্দ পান।

এর মূল কারণ হতে পারে হাঁটুর ভিতরের কার্টিলেজ ক্ষয় হওয়া। কার্টিলেজ মূলত হাঁটুর হাড়গুলোর মাঝে নরম কুশনের মতো কাজ করে, যাতে হাড়ে হাড়ে ঘর্ষণ না হয় এবং হাঁটা-চলা মসৃণ থাকে। এই স্তর দুর্বল হয়ে গেলে ব্যথা, শব্দ এবং নড়াচড়ায় অসুবিধা দেখা দেয়। সমস্যা খুব বেশি বেড়ে গেলে অস্ত্রোপচারের কথাও ভাবা হয়, তবে সব ক্ষেত্রে তা প্রয়োজন হয় না।

অনেক সময় খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে কিছু বদল আনলেই উপকার পাওয়া যায়।

ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকলে হাঁটু থেকে শব্দ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যোগ করা যেতে পারে। হাঁটু ফুলে থাকলে বা প্রদাহের কারণে ব্যথা হলে আদা উপকারী।

প্রতিদিনের রান্নায় আদা ও রসুন ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে ফোলাভাব কমতে সাহায্য করে।

যাদের পায়ে দুর্বলতা লাগে বা সিঁড়ি ভাঙতে সমস্যা হয়, তাদের জন্য মুগ ডাল ও আখরোট ভালো প্রোটিন ও খনিজের উৎস। কার্টিলেজের পুষ্টি বাড়াতে সয়াবিন, ওটসের মতো খাবারও উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি, প্রতিদিন প্রায় ১৫-২০ মিনিট পিছনের দিকে হাঁটার অভ্যাস হাঁটুর পেশিকে শক্তিশালী করে এবং অস্বস্তিকর শব্দ কমাতে সাহায্য করে।

হাঁটুর ব্যথা কমানোর সহজ উপায়
হালকা হাঁটুর ব্যথা কমাতে হলুদ মেশানো গরম দুধ পান করা যেতে পারে।

হলুদের প্রাকৃতিক প্রদাহনাশক গুণ ব্যথা ও ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। চাইলে হলুদ দিয়ে তৈরি ঘরোয়া লেপ হাঁটুতে লাগালেও আরাম মেলে।

হাঁটু মালিশে কোন তেল ভালো?
সরিষার তেলে কয়েক কোয়া রসুন ফুটিয়ে সেই তেল সামান্য গরম অবস্থায় হাঁটুতে আলতো করে মালিশ করলে ব্যথা ও শক্তভাব কমে। নিয়মিত মালিশ রক্তসঞ্চালন বাড়ায় এবং হাঁটুর জড়তা কাটাতে সাহায্য করে।

চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধের পাশাপাশি এই সহজ ঘরোয়া উপায়গুলো মেনে চললে অনেক ক্ষেত্রেই হাঁটুর সমস্যায় স্বস্তি পাওয়া যায়। খরচও কম, ঝুঁকিও নেই—শুধু দরকার নিয়ম আর একটু যত্ন।