ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেট-২ আসনে হুমায়ুন কবির–লুনার দ্বন্দ্ব আবারও আলোচনায়

ইফতার মাহফিলে অনুপস্থিত এমপি, স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনা

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর) আসনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা–এর দীর্ঘদিনের ‘মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব’ আবারও আলোচনায় এসেছে। শুক্রবার বিকেলে বিশ্বনাথ পৌর শহরে এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে এ বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।

প্রয়াত বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ সুহেল আহমদ চৌধুরী–এর মাগফিরাত কামনায় তাঁর পরিবারের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের ব্যানারে প্রধান বক্তা হিসেবে তাহসিনা রুশদীর লুনার নাম উল্লেখ থাকলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তবে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হুমায়ুন কবির।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, এমপির অনুপস্থিতির কারণে দুই নেতার মধ্যকার পুরোনো দ্বন্দ্ব আবারও সামনে এসেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুমায়ুন কবির বলেন,
“আপনারা মনে করবেন না সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী ও উপজেলা চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী বর্তমানে রাজনীতিতে অনুপস্থিত বলে আপনারা অভিভাবকশূন্য। আমি আছি আপনাদের পাশে, আপনারাও আছেন আমার পাশে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে চলমান সরকারের আমলে বিশ্বনাথ তথা সিলেট-২ আসনের উন্নয়ন থেমে থাকবে না।”

তিনি আরও বলেন, ওসমানীনগরের তুলনায় বিশ্বনাথকে তিনি সব সময় অগ্রাধিকার দেবেন।

তাহসিনা রুশদীর লুনার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলমান থাকায় তিনি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে তিনি এর আগে একাধিকবার প্রয়াত সুহেল আহমদ চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং তাঁর স্ত্রীর জন্য ঈদ উপহারও পাঠিয়েছেন।

স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানী এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা ধীরে ধীরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। স্বামীর জনপ্রিয়তার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি স্থানীয় বিএনপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন এবং দীর্ঘদিন ওই আসনের সম্ভাব্য একক প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন।

তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর লন্ডনপ্রবাসী বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির দেশে ফিরে একই আসন থেকে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করলে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়। এতে স্থানীয় বিএনপি ধীরে ধীরে দুটি বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

দ্বন্দ্বের জের ধরে গত বছরের ৯ অক্টোবর রাতে বিশ্বনাথ পৌর শহরে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাহসিনা রুশদীর লুনা বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। পরে বিএনপি সরকার গঠন করলে হুমায়ুন কবিরকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা করা হয়।

স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর দাবি, বর্তমানে সিলেট-২ আসনে দলটি মূলত ‘উপদেষ্টা গ্রুপ’ ও ‘এমপি গ্রুপ’—এই দুই বলয়ে বিভক্ত। এর মধ্যে এমপি গ্রুপ তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হলেও উপদেষ্টা গ্রুপও ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়ে উঠছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, “বিএনপিতে কোনো বিভেদ নেই। হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং তাহসিনা রুশদীর স্থানীয় সংসদ সদস্য। উভয়েই দলের প্রয়োজনে কাজ করছেন। কোন্দল বা বিভেদের কথা বলা সঠিক নয়।”

বিশ্বনাথের ওই অনুষ্ঠানে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী প্রমুখ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন ধলা মিয়া।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেট-২ আসনে হুমায়ুন কবির–লুনার দ্বন্দ্ব আবারও আলোচনায়

আপডেট সময় : ০৭:১৬:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

ইফতার মাহফিলে অনুপস্থিত এমপি, স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনা

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর) আসনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা–এর দীর্ঘদিনের ‘মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব’ আবারও আলোচনায় এসেছে। শুক্রবার বিকেলে বিশ্বনাথ পৌর শহরে এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে এ বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।

প্রয়াত বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ সুহেল আহমদ চৌধুরী–এর মাগফিরাত কামনায় তাঁর পরিবারের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের ব্যানারে প্রধান বক্তা হিসেবে তাহসিনা রুশদীর লুনার নাম উল্লেখ থাকলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তবে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হুমায়ুন কবির।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, এমপির অনুপস্থিতির কারণে দুই নেতার মধ্যকার পুরোনো দ্বন্দ্ব আবারও সামনে এসেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুমায়ুন কবির বলেন,
“আপনারা মনে করবেন না সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী ও উপজেলা চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী বর্তমানে রাজনীতিতে অনুপস্থিত বলে আপনারা অভিভাবকশূন্য। আমি আছি আপনাদের পাশে, আপনারাও আছেন আমার পাশে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে চলমান সরকারের আমলে বিশ্বনাথ তথা সিলেট-২ আসনের উন্নয়ন থেমে থাকবে না।”

তিনি আরও বলেন, ওসমানীনগরের তুলনায় বিশ্বনাথকে তিনি সব সময় অগ্রাধিকার দেবেন।

তাহসিনা রুশদীর লুনার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলমান থাকায় তিনি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে তিনি এর আগে একাধিকবার প্রয়াত সুহেল আহমদ চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং তাঁর স্ত্রীর জন্য ঈদ উপহারও পাঠিয়েছেন।

স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানী এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা ধীরে ধীরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। স্বামীর জনপ্রিয়তার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি স্থানীয় বিএনপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন এবং দীর্ঘদিন ওই আসনের সম্ভাব্য একক প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন।

তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর লন্ডনপ্রবাসী বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির দেশে ফিরে একই আসন থেকে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করলে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়। এতে স্থানীয় বিএনপি ধীরে ধীরে দুটি বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

দ্বন্দ্বের জের ধরে গত বছরের ৯ অক্টোবর রাতে বিশ্বনাথ পৌর শহরে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাহসিনা রুশদীর লুনা বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। পরে বিএনপি সরকার গঠন করলে হুমায়ুন কবিরকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা করা হয়।

স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর দাবি, বর্তমানে সিলেট-২ আসনে দলটি মূলত ‘উপদেষ্টা গ্রুপ’ ও ‘এমপি গ্রুপ’—এই দুই বলয়ে বিভক্ত। এর মধ্যে এমপি গ্রুপ তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হলেও উপদেষ্টা গ্রুপও ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়ে উঠছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, “বিএনপিতে কোনো বিভেদ নেই। হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং তাহসিনা রুশদীর স্থানীয় সংসদ সদস্য। উভয়েই দলের প্রয়োজনে কাজ করছেন। কোন্দল বা বিভেদের কথা বলা সঠিক নয়।”

বিশ্বনাথের ওই অনুষ্ঠানে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী প্রমুখ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন ধলা মিয়া।