ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুর ভুমিষ্ট হয়েই কাান্না করা অত্যান্ত জরুরি।

 

শিশু৷ জন্ম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কান্নাটা অত্যান্ত জরুরি, শিশু না কান্না করা এবং দুর্বল ভাবে কান্না করা তবে বুঝতে হবে, তার ফুসফুসে পরিমিত বাতাস বা অক্সিজেন প্রবেশ করেনি।

শিশু জন্মের পরপরই কান্নার আগে কাঁদতে শুরু করে। এ কান্না শুনে লেবার রুমে অথবা শিশু যে ঘরে জন্মগ্রহণ করে ভেতরের বাহিরে অপেক্ষমান সবাই খুশি হয়।এ কান্না বিরক্তের কান্না নয়, এ কান্না প্রমাণ করে শিশু সঠিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পেরেছে, এবং স্বাভাবিক সুস্থ শিশু জন্ম হয়েছে। শিশু মাতৃগর্ভে অবস্থান কালে মায়ের দেহ থেকে পরিমিত অক্সিজেন পেতো। শিশুর জন্মের পরপরই দেহের সাথে সব ধরনের সংযোগ পৃথক হয়ে যায়, ফলে তার দেহের সবারহকৃত অক্সিজেন বন্ধ হয়ে যায় । এ মুহূর্তে তার শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ জরুরি হয়ে পড়ে, তাই শিশুকে কান্নার মাধ্যমে ফুসফুসে বাতাস ভরে নিতে হয় ফলে সে অক্সিজেন পায়।

শিশু যদি জন্মের পরে কয়েক মিনিটের মধ্যে কান্না না করে, বা দুর্বলভাবে কান্না করে তবে বুঝতে হবে তার ফুসফুসে পরিমিত বাতাস বা অক্সিজেন অভাব হয় এবং তার মস্তিষ্ক যে পরিমাণ অক্সিজেন পাওয়ার কথা তা না পাওয়ায় তার মস্তিষ্কে কিছু পরিবর্তন ঘটে। শিশুর মস্তিষ্কের কোষগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় অক্সিজেনের অভাবে শিশুর খিচুনি হতে পারে। তার মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বিলম্ব হলে (পাঁচ মিনিটের বেশি) শিশুর মস্তিষ্কে চিরদিনের জন্য ক্ষতি হতে পারে। শিশু দীর্ঘ মিয়াদি মানসিক বা দৈহিক প্রতিবন্ধী হতে পারে বা হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। জন্মের পরপরই আপনার শিশু না কাঁদলে বা দুর্বলভাবে কাঁদলে যত শিগরি নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাবেন।

ইহা প্রতিরোধের উপায়ঃ-
# বাচ্চা কনসেপ্ট করলে কোন অভিজ্ঞ গাইনি ডাক্তারের পরামর্শে চলা বা প্রয়োজনীয় ওষুধ পত্র সেবন করা ফলাপ করে চলা।

# প্রসূতির প্রসব বেদনা উঠলে সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞ ধাই অথবা নিকটস্থ উপজেলা বা জেলা সদর হাসপাতালে লেবার করানো।

# কোন কারনে প্রসতির প্রসব বেদনা প্রথম অবস্থায় আট ঘন্টা পার হওয়া মাত্রই, সিজারেনিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া বা ইনডিউসড করা।

পরিশেষে একথা বলতেই হয় যে একটি অসুস্থ বাচ্চা একটি পরিবারের সারা জীবনের কান্না, তথা দেশের জন্য বোঝা স্বরূপ। তাই সবাইকে নরমাল লেবার বা প্রসূতির প্রসবের সময় যথা সতর্ক অবস্থানে থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরী।

লেখক
জেনারেল প্র্যাকটিশনার
মোঃ হেলাল উদ্দিন
ডি.আই.এম (মেডিসিন)
ডি.এ.এম.এস (ন্যাচারাল মেডিসিন)
এম.সি.এইচ (মা ও শিশুরোগ)

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুর ভুমিষ্ট হয়েই কাান্না করা অত্যান্ত জরুরি।

আপডেট সময় : ০৫:২৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

 

শিশু৷ জন্ম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কান্নাটা অত্যান্ত জরুরি, শিশু না কান্না করা এবং দুর্বল ভাবে কান্না করা তবে বুঝতে হবে, তার ফুসফুসে পরিমিত বাতাস বা অক্সিজেন প্রবেশ করেনি।

শিশু জন্মের পরপরই কান্নার আগে কাঁদতে শুরু করে। এ কান্না শুনে লেবার রুমে অথবা শিশু যে ঘরে জন্মগ্রহণ করে ভেতরের বাহিরে অপেক্ষমান সবাই খুশি হয়।এ কান্না বিরক্তের কান্না নয়, এ কান্না প্রমাণ করে শিশু সঠিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পেরেছে, এবং স্বাভাবিক সুস্থ শিশু জন্ম হয়েছে। শিশু মাতৃগর্ভে অবস্থান কালে মায়ের দেহ থেকে পরিমিত অক্সিজেন পেতো। শিশুর জন্মের পরপরই দেহের সাথে সব ধরনের সংযোগ পৃথক হয়ে যায়, ফলে তার দেহের সবারহকৃত অক্সিজেন বন্ধ হয়ে যায় । এ মুহূর্তে তার শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ জরুরি হয়ে পড়ে, তাই শিশুকে কান্নার মাধ্যমে ফুসফুসে বাতাস ভরে নিতে হয় ফলে সে অক্সিজেন পায়।

শিশু যদি জন্মের পরে কয়েক মিনিটের মধ্যে কান্না না করে, বা দুর্বলভাবে কান্না করে তবে বুঝতে হবে তার ফুসফুসে পরিমিত বাতাস বা অক্সিজেন অভাব হয় এবং তার মস্তিষ্ক যে পরিমাণ অক্সিজেন পাওয়ার কথা তা না পাওয়ায় তার মস্তিষ্কে কিছু পরিবর্তন ঘটে। শিশুর মস্তিষ্কের কোষগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় অক্সিজেনের অভাবে শিশুর খিচুনি হতে পারে। তার মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বিলম্ব হলে (পাঁচ মিনিটের বেশি) শিশুর মস্তিষ্কে চিরদিনের জন্য ক্ষতি হতে পারে। শিশু দীর্ঘ মিয়াদি মানসিক বা দৈহিক প্রতিবন্ধী হতে পারে বা হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। জন্মের পরপরই আপনার শিশু না কাঁদলে বা দুর্বলভাবে কাঁদলে যত শিগরি নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাবেন।

ইহা প্রতিরোধের উপায়ঃ-
# বাচ্চা কনসেপ্ট করলে কোন অভিজ্ঞ গাইনি ডাক্তারের পরামর্শে চলা বা প্রয়োজনীয় ওষুধ পত্র সেবন করা ফলাপ করে চলা।

# প্রসূতির প্রসব বেদনা উঠলে সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞ ধাই অথবা নিকটস্থ উপজেলা বা জেলা সদর হাসপাতালে লেবার করানো।

# কোন কারনে প্রসতির প্রসব বেদনা প্রথম অবস্থায় আট ঘন্টা পার হওয়া মাত্রই, সিজারেনিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া বা ইনডিউসড করা।

পরিশেষে একথা বলতেই হয় যে একটি অসুস্থ বাচ্চা একটি পরিবারের সারা জীবনের কান্না, তথা দেশের জন্য বোঝা স্বরূপ। তাই সবাইকে নরমাল লেবার বা প্রসূতির প্রসবের সময় যথা সতর্ক অবস্থানে থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরী।

লেখক
জেনারেল প্র্যাকটিশনার
মোঃ হেলাল উদ্দিন
ডি.আই.এম (মেডিসিন)
ডি.এ.এম.এস (ন্যাচারাল মেডিসিন)
এম.সি.এইচ (মা ও শিশুরোগ)