নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
আজ থেকে প্রায় দুই বছর আগে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সূচিত হয়েছিল এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান। ছাত্র-জনতার সেই অকুতোভয় আন্দোলন কেবল একটি সরকার পরিবর্তনই নয়, বরং বাঙালির গণতান্ত্রিক চেতনার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। আজ সেই স্মৃতিবিজড়িত দিনগুলোকে স্মরণ করতে গিয়ে আবারও দেশজুড়ে শ্রদ্ধা ও আবেগের আবহ তৈরি হয়েছে।
আন্দোলনের সূত্রপাত ও আত্মত্যাগ:
কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া এই সংগ্রাম দ্রুতই রূপ নেয় এক দফার আন্দোলনে। রাজপথে ঝরেছে আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ শত শত নাম না জানা শহীদের রক্ত। জুলাই ও আগস্টের সেই উত্তাল দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, অভিভাবক ও মেহনতি জনতা একীভূত হয়েছিল ‘বৈষম্যবিরোধী’ স্লোগানে। তাদের এই আত্মত্যাগের ফলেই দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে এবং ৫ই আগস্ট আসে চূড়ান্ত বিজয়।
স্মৃতি সংরক্ষণে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’:
জুলাই অভ্যুত্থানের এই বীরত্বগাথাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করতে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’। গতকাল জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই জাদুঘর পরিদর্শনকালে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি মন্তব্য করেন, ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে আজকের জুলাই অভ্যুত্থান—সবই বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল। জাদুঘরে প্রদর্শিত চিত্রকর্ম ও শহীদদের ব্যবহৃত সামগ্রীগুলো দেখে তিনি এই উদ্যোগের জন্য বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা:
জুলাই অভ্যুত্থান ২৪-এর মূল স্পিরিট ছিল একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ গঠন। আজ দুই বছর পর সাধারণ মানুষের মাঝে সেই একই প্রত্যাশা কাজ করছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মতে, শহীদদের রক্ত তখনই সার্থক হবে যখন দেশে পূর্ণ গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
উপসংহার:
জুলাই ২৪ আমাদের শিখিয়েছে একতাবদ্ধ শক্তির ক্ষমতা। ইতিহাসের এই মহান বিপ্লব কেবল জাদুঘরের দেয়ালে সীমাবদ্ধ না থেকে আমাদের প্রতিটি কর্মে ও চিন্তায় সততার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে
শিরোনাম: ইতিহাসের পাতায় জুলাই অভ্যুত্থান: ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত নতুন বাংলাদেশ
-
মো. আতিকুল ইসলাম
- আপডেট সময় : ১২:২১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
- 40
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ






















