ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শরীফ ও নানা ভাই বাহিনীর কাছে ১৩ দিন জিম্মী থাকার পরে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেলো ৬ জেলে।

শরীফ ও নানা ভাই বাহিনীর কাছে ১৩ দিন জিম্মী থাকার পরে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেলো ৬ জেলে।

বনদস্যু শরীফ বাহিনী ও নানাভাই বাহিনীর কাছে জিম্মি সুন্দরবনের জেলেরা। ভয়ে মুখ খুলছে না পরিবারের লোকজন।
সুন্দরবনে বনদস্যুদের কবলে ১৩ দিন জিম্মী থাকার পরে মুক্তিপণ দিয়ে শনিবার ভোর রাতে বাড়ী ফিরেছেন ৬ জেলে। গত ২০ এপ্রিল পূর্ব সুন্দরবনের কোকিলমনি ও চাতরা এলাকা থেকে বনদস্যু শরীফ ও নানা ভাই বাহিনী এই ৬ জেলেকে অপহরণ করে।
দস্যুদের কবল থেকে ফিরে আসা শরণখোলা (পানিরঘাট) এলাকার জেলে কালাম ফরাজীর স্ত্রী নাজমা বেগম শনিবার (২মে) দুপুরে মোবাইল ফোনে জানান, তার স্বামী কালাম ফরাজী সহ অপর ৫ জেলে দস্যুদের মুক্তিপণ দিয়ে ১৩ দিন পরে শনিবার ভোর রাতে বাড়ী ফিরে এসেছেন। অপর জেলেরা হচ্ছেন, শরণখোলা গ্রামের আনোয়ার বয়াতী, কিবরুল, মঠবাড়ীয়ার হরিণটানা গ্রামের মহসিন ও আঃ সালাম। অন্য এক জেলের নাম জানা যায়নি।
ফিরে আসা জেলেদের মহাজন নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শরণখোলা বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, তার ৬ জেলেকে শরীফ ও নানা ভাই বাহিনী গত ২০ এপ্রিল সুন্দরবনের কোকিলমনি ও চাতরা এলাকা থেকে মুক্তিপণের দাবীতে অপহরণ করে সুন্দরবনের অজ্ঞাতস্থানে আটকে রাখে। দস্যুদের দাবীকৃত লক্ষাধিক টাকা বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ দিয়ে জেলেদের ছাড়িয়ে আনা হয়েছে। এখনো কয়েকজন মৌয়াল দস্যুদের কব্জায় আটক রয়েছে। বর্তমানে সুন্দরবনে বনদস্যুদের নীরব চাঁদাবাজী চলছে। জেলে মৌয়ালরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে আবার বিপদে পড়বে এই ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না বলে ঐ মহাজন জানান।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শামিনুল হক বলেন, সুন্দরবনে মুক্তিপণ দিয়ে জেলে ফিরে আসার খবর তার জানা নেই। কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শরীফ ও নানা ভাই বাহিনীর কাছে ১৩ দিন জিম্মী থাকার পরে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেলো ৬ জেলে।

আপডেট সময় : ০৩:২৫:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

বনদস্যু শরীফ বাহিনী ও নানাভাই বাহিনীর কাছে জিম্মি সুন্দরবনের জেলেরা। ভয়ে মুখ খুলছে না পরিবারের লোকজন।
সুন্দরবনে বনদস্যুদের কবলে ১৩ দিন জিম্মী থাকার পরে মুক্তিপণ দিয়ে শনিবার ভোর রাতে বাড়ী ফিরেছেন ৬ জেলে। গত ২০ এপ্রিল পূর্ব সুন্দরবনের কোকিলমনি ও চাতরা এলাকা থেকে বনদস্যু শরীফ ও নানা ভাই বাহিনী এই ৬ জেলেকে অপহরণ করে।
দস্যুদের কবল থেকে ফিরে আসা শরণখোলা (পানিরঘাট) এলাকার জেলে কালাম ফরাজীর স্ত্রী নাজমা বেগম শনিবার (২মে) দুপুরে মোবাইল ফোনে জানান, তার স্বামী কালাম ফরাজী সহ অপর ৫ জেলে দস্যুদের মুক্তিপণ দিয়ে ১৩ দিন পরে শনিবার ভোর রাতে বাড়ী ফিরে এসেছেন। অপর জেলেরা হচ্ছেন, শরণখোলা গ্রামের আনোয়ার বয়াতী, কিবরুল, মঠবাড়ীয়ার হরিণটানা গ্রামের মহসিন ও আঃ সালাম। অন্য এক জেলের নাম জানা যায়নি।
ফিরে আসা জেলেদের মহাজন নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শরণখোলা বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, তার ৬ জেলেকে শরীফ ও নানা ভাই বাহিনী গত ২০ এপ্রিল সুন্দরবনের কোকিলমনি ও চাতরা এলাকা থেকে মুক্তিপণের দাবীতে অপহরণ করে সুন্দরবনের অজ্ঞাতস্থানে আটকে রাখে। দস্যুদের দাবীকৃত লক্ষাধিক টাকা বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ দিয়ে জেলেদের ছাড়িয়ে আনা হয়েছে। এখনো কয়েকজন মৌয়াল দস্যুদের কব্জায় আটক রয়েছে। বর্তমানে সুন্দরবনে বনদস্যুদের নীরব চাঁদাবাজী চলছে। জেলে মৌয়ালরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে আবার বিপদে পড়বে এই ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না বলে ঐ মহাজন জানান।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শামিনুল হক বলেন, সুন্দরবনে মুক্তিপণ দিয়ে জেলে ফিরে আসার খবর তার জানা নেই। কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।