ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাতে দেরি করে খাওয়া কি পেটের মেদ বাড়ায়? কী বলছেন চিকিৎসকরা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৩২:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 44

রাতে দেরি করে খাওয়া কি পেটের মেদ বাড়ায়? কী বলছেন চিকিৎসকরা

রাতে দেরি করে খাওয়া আজকাল অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অফিসের কাজের চাপ, মোবাইল স্ক্রলিং, ওটিটি দেখা কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে রাত ১০টা বা ১১টার পর খাবার খাওয়াকে অনেকেই স্বাভাবিক বলে মনে করেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, রাতে দেরিতে খাওয়া শরীরের জন্য নীরব বিপদ ডেকে আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস শুধু ওজন বাড়ায় না, বরং পেটের মেদ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও হরমোনজনিত সমস্যার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

রাতে দেরিতে খাওয়া কেন শরীরের জন্য ক্ষতিকর?

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিমল ঝাঞ্জার জানিয়েছেন, পেটের চারপাশে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি কোনো সাধারণ সমস্যা নয়। এটি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, উচ্চ রক্তচাপ, ফ্যাটি লিভার এবং হার্টের অসুখের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

তার মতে, রাতের খাবার যত দেরিতে এবং যত ভারী হবে, পেটের মেদ তত দ্রুত বাড়বে।

রাতে দেরিতে খেলে কিভাবে পেটের মেদ বাড়ে?

রাতে শরীর স্বাভাবিকভাবেই বিশ্রামের প্রস্তুতি নেয়।

এই সময় বিপাকীয় ক্রিয়া দিনের তুলনায় ধীর হয়ে যায়। ফলে রাতে ভারী খাবার খেলে তা শক্তিতে রূপান্তরিত না হয়ে চর্বি হিসেবে জমা হয়। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে পেট, কোমর ও ঊরুর অংশে। ফলে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ভিসেরাল ফ্যাট, যা স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক।
ডায়াবেটিস ও ঘুমের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে

রাতে দেরিতে খেলে ইনসুলিন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এ ছাড়া এই অভ্যাস মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ ব্যাহত করে। এর ফলে ঘুম গভীর হয় না, বারবার ভেঙে যায় এবং পরদিন শরীর ক্লান্ত লাগে। খারাপ ঘুমের কারণে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়, যা পেটের চর্বি জমার অন্যতম কারণ।

হজমের সমস্যাও বাড়ায় রাতের দেরিতে খাওয়া

রাতে পাচনতন্ত্র ধীরগতিতে কাজ করে। ফলে দেরিতে খাওয়া খাবার ঠিকমতো হজম হয় না। এর ফলে দেখা দিতে পারে—

  • গ্যাস
  • পেট ফাঁপা
  • এসিডিটি ও
  • বুক জ্বালা

দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চলতে থাকলে ফ্যাটি লিভার এবং অন্ত্রের কার্যকারিতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

পেটের মেদ কমাতে রাতের খাবার কখন খাবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবার খাওয়ার সেরা সময় হলো, সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে। এই সময়ের মধ্যে খাবার খেলে শরীর তা সহজে হজম করতে পারে এবং চর্বি জমার আশঙ্কা অনেকটাই কমে।

রাতে কী খাবেন, কী খাবেন না

রাতের খাবার হওয়া উচিত হালকা ও সহজপাচ্য।

খাওয়া ভালো

  • স্যুপ
  • ভাপানো সবজি
  • অল্প দই
  • হালকা ডাল
  • সিদ্ধ ছোলা

এড়িয়ে চলুন

  • ভারী ভাত
  • অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার
  • মিষ্টি, বিস্কুট
  • দুধ-চা

খাওয়ার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করাও জরুরি। কারণ এতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।

রাতের খাবারের পর হাঁটা কতটা উপকারী?

যাদের হৃদরোগ সংক্রান্ত সমস্যা নেই, তাদের জন্য রাতের খাবারের পর ১০–১৫ মিনিট হালকা হাঁটা অত্যন্ত উপকারী। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, হজমে সাহায্য করে এবং পেটের মেদ কমাতে সহায়ক।

সর্বশেষে বলা যায়, পেটের মেদ কমানোর কোনো ম্যাজিক সমাধান নেই। সঠিক সময়ে হালকা খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। আজ থেকেই যদি রাতে দেরিতে খাওয়ার অভ্যাস বদলানো যায়, তাহলে খুব দ্রুতই তার ইতিবাচক প্রভাব শরীরে টের পাওয়া যাবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাতে দেরি করে খাওয়া কি পেটের মেদ বাড়ায়? কী বলছেন চিকিৎসকরা

আপডেট সময় : ১১:৩২:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাতে দেরি করে খাওয়া আজকাল অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অফিসের কাজের চাপ, মোবাইল স্ক্রলিং, ওটিটি দেখা কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে রাত ১০টা বা ১১টার পর খাবার খাওয়াকে অনেকেই স্বাভাবিক বলে মনে করেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, রাতে দেরিতে খাওয়া শরীরের জন্য নীরব বিপদ ডেকে আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস শুধু ওজন বাড়ায় না, বরং পেটের মেদ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও হরমোনজনিত সমস্যার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

রাতে দেরিতে খাওয়া কেন শরীরের জন্য ক্ষতিকর?

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিমল ঝাঞ্জার জানিয়েছেন, পেটের চারপাশে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি কোনো সাধারণ সমস্যা নয়। এটি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, উচ্চ রক্তচাপ, ফ্যাটি লিভার এবং হার্টের অসুখের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

তার মতে, রাতের খাবার যত দেরিতে এবং যত ভারী হবে, পেটের মেদ তত দ্রুত বাড়বে।

রাতে দেরিতে খেলে কিভাবে পেটের মেদ বাড়ে?

রাতে শরীর স্বাভাবিকভাবেই বিশ্রামের প্রস্তুতি নেয়।

এই সময় বিপাকীয় ক্রিয়া দিনের তুলনায় ধীর হয়ে যায়। ফলে রাতে ভারী খাবার খেলে তা শক্তিতে রূপান্তরিত না হয়ে চর্বি হিসেবে জমা হয়। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে পেট, কোমর ও ঊরুর অংশে। ফলে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ভিসেরাল ফ্যাট, যা স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক।
ডায়াবেটিস ও ঘুমের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে

রাতে দেরিতে খেলে ইনসুলিন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এ ছাড়া এই অভ্যাস মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ ব্যাহত করে। এর ফলে ঘুম গভীর হয় না, বারবার ভেঙে যায় এবং পরদিন শরীর ক্লান্ত লাগে। খারাপ ঘুমের কারণে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়, যা পেটের চর্বি জমার অন্যতম কারণ।

হজমের সমস্যাও বাড়ায় রাতের দেরিতে খাওয়া

রাতে পাচনতন্ত্র ধীরগতিতে কাজ করে। ফলে দেরিতে খাওয়া খাবার ঠিকমতো হজম হয় না। এর ফলে দেখা দিতে পারে—

  • গ্যাস
  • পেট ফাঁপা
  • এসিডিটি ও
  • বুক জ্বালা

দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চলতে থাকলে ফ্যাটি লিভার এবং অন্ত্রের কার্যকারিতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

পেটের মেদ কমাতে রাতের খাবার কখন খাবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবার খাওয়ার সেরা সময় হলো, সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে। এই সময়ের মধ্যে খাবার খেলে শরীর তা সহজে হজম করতে পারে এবং চর্বি জমার আশঙ্কা অনেকটাই কমে।

রাতে কী খাবেন, কী খাবেন না

রাতের খাবার হওয়া উচিত হালকা ও সহজপাচ্য।

খাওয়া ভালো

  • স্যুপ
  • ভাপানো সবজি
  • অল্প দই
  • হালকা ডাল
  • সিদ্ধ ছোলা

এড়িয়ে চলুন

  • ভারী ভাত
  • অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার
  • মিষ্টি, বিস্কুট
  • দুধ-চা

খাওয়ার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করাও জরুরি। কারণ এতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।

রাতের খাবারের পর হাঁটা কতটা উপকারী?

যাদের হৃদরোগ সংক্রান্ত সমস্যা নেই, তাদের জন্য রাতের খাবারের পর ১০–১৫ মিনিট হালকা হাঁটা অত্যন্ত উপকারী। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, হজমে সাহায্য করে এবং পেটের মেদ কমাতে সহায়ক।

সর্বশেষে বলা যায়, পেটের মেদ কমানোর কোনো ম্যাজিক সমাধান নেই। সঠিক সময়ে হালকা খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। আজ থেকেই যদি রাতে দেরিতে খাওয়ার অভ্যাস বদলানো যায়, তাহলে খুব দ্রুতই তার ইতিবাচক প্রভাব শরীরে টের পাওয়া যাবে।