ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রডের দাম হঠাৎ বাড়ল কার স্বার্থে

রডের দাম হঠাৎ বাড়ল কার স্বার্থে

দেশের বাজারে হঠাৎ করে বেড়েছে রডের দাম। নির্মাণশিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামালটির মূল্যবৃদ্ধির ফলে আবাসন, অবকাঠামো খাতের ব্যবসায়ীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এর ফলে শুধু ব্যবসা নয়, সরকারের অবকাঠামোগত উন্নয়নও ব্যাহত হতে পারে।

আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ ইস্যু করে এ খাতের ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রডের দাম বাড়াতে শুরু করেছেন।

গতকাল সোমবার এক দিনেই সেটা টনপ্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকা বেড়ে গেছে। অন্যদিকে রি-রোলিং মিল মালিকরা বলছেন, বর্তমান বাজারে সিন্ডিকেটের সুযোগ নেই। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে জাহাজ কম্পানিগুলো বীমা দাবি না থাকায়, ইস্পাত ও সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামালের মূল্য ১৩০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি করেছে। ফলে স্থানীয় বাজারে প্রভাব পড়ছে এবং দাম বাড়ছে।

তবে সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বেশি সংকটে আছে জ্বালানি খাত। সেখানে কিন্তু জনস্বার্থের কথা চিন্তা করে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি সরকার। অথচ কম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও রডের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া ভালো ইঙ্গিত বহন করে না। তাছাড়া বাজারে যে রড আছে, সেটাতে তো মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব পড়ার কথা নয়।

গত রাতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, তিনি অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। সরকার সব সময় জনস্বার্থের পক্ষে থাকবে এবং জনস্বার্থ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেই পদক্ষেপ নেবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছুদিন আগেও যে রডের দাম ছিল প্রতি টন ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা, সেই রড গতকাল বিক্রি হয়েছে টনপ্রতি ৯০ থেকে ৯১ হাজার টাকায়। বাজারে প্রতি টন সিএসআরএম রডের দাম গতকাল ছিল ৮৪ হাজার, আনোয়ার ইস্পাতের ৯০ হাজার, কেএসআরএম, আকিজের মতো কম্পানির রডের দাম ৯১ হাজার এবং রহিম স্টিলের রড ৮৭ হাজার টাকা বা তারও বেশি।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্ক্র্যাপের দামও ঊর্ধ্বমুখী, যা স্থানীয় ইস্পাত শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে।

গত রাতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, তিনি অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। সরকার সব সময় জনস্বার্থের পক্ষে থাকবে এবং জনস্বার্থ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেই পদক্ষেপ নেবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছুদিন আগেও যে রডের দাম ছিল প্রতি টন ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা, সেই রড গতকাল বিক্রি হয়েছে টনপ্রতি ৯০ থেকে ৯১ হাজার টাকায়। বাজারে প্রতি টন সিএসআরএম রডের দাম গতকাল ছিল ৮৪ হাজার, আনোয়ার ইস্পাতের ৯০ হাজার, কেএসআরএম, আকিজের মতো কম্পানির রডের দাম ৯১ হাজার এবং রহিম স্টিলের রড ৮৭ হাজার টাকা বা তারও বেশি।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্ক্র্যাপের দামও ঊর্ধ্বমুখী, যা স্থানীয় ইস্পাত শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে।

 

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

রডের দাম হঠাৎ বাড়ল কার স্বার্থে

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

দেশের বাজারে হঠাৎ করে বেড়েছে রডের দাম। নির্মাণশিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামালটির মূল্যবৃদ্ধির ফলে আবাসন, অবকাঠামো খাতের ব্যবসায়ীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এর ফলে শুধু ব্যবসা নয়, সরকারের অবকাঠামোগত উন্নয়নও ব্যাহত হতে পারে।

আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ ইস্যু করে এ খাতের ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রডের দাম বাড়াতে শুরু করেছেন।

গতকাল সোমবার এক দিনেই সেটা টনপ্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকা বেড়ে গেছে। অন্যদিকে রি-রোলিং মিল মালিকরা বলছেন, বর্তমান বাজারে সিন্ডিকেটের সুযোগ নেই। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে জাহাজ কম্পানিগুলো বীমা দাবি না থাকায়, ইস্পাত ও সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামালের মূল্য ১৩০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি করেছে। ফলে স্থানীয় বাজারে প্রভাব পড়ছে এবং দাম বাড়ছে।

তবে সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বেশি সংকটে আছে জ্বালানি খাত। সেখানে কিন্তু জনস্বার্থের কথা চিন্তা করে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি সরকার। অথচ কম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও রডের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া ভালো ইঙ্গিত বহন করে না। তাছাড়া বাজারে যে রড আছে, সেটাতে তো মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব পড়ার কথা নয়।

গত রাতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, তিনি অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। সরকার সব সময় জনস্বার্থের পক্ষে থাকবে এবং জনস্বার্থ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেই পদক্ষেপ নেবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছুদিন আগেও যে রডের দাম ছিল প্রতি টন ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা, সেই রড গতকাল বিক্রি হয়েছে টনপ্রতি ৯০ থেকে ৯১ হাজার টাকায়। বাজারে প্রতি টন সিএসআরএম রডের দাম গতকাল ছিল ৮৪ হাজার, আনোয়ার ইস্পাতের ৯০ হাজার, কেএসআরএম, আকিজের মতো কম্পানির রডের দাম ৯১ হাজার এবং রহিম স্টিলের রড ৮৭ হাজার টাকা বা তারও বেশি।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্ক্র্যাপের দামও ঊর্ধ্বমুখী, যা স্থানীয় ইস্পাত শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে।

গত রাতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, তিনি অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। সরকার সব সময় জনস্বার্থের পক্ষে থাকবে এবং জনস্বার্থ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেই পদক্ষেপ নেবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছুদিন আগেও যে রডের দাম ছিল প্রতি টন ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা, সেই রড গতকাল বিক্রি হয়েছে টনপ্রতি ৯০ থেকে ৯১ হাজার টাকায়। বাজারে প্রতি টন সিএসআরএম রডের দাম গতকাল ছিল ৮৪ হাজার, আনোয়ার ইস্পাতের ৯০ হাজার, কেএসআরএম, আকিজের মতো কম্পানির রডের দাম ৯১ হাজার এবং রহিম স্টিলের রড ৮৭ হাজার টাকা বা তারও বেশি।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্ক্র্যাপের দামও ঊর্ধ্বমুখী, যা স্থানীয় ইস্পাত শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে।