ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরের ছাদ উড়ে, খোলা আকাশের নিচে অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি

রংপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরের ছাদ উড়ে, খোলা আকাশের নিচে অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা এর ৫ নম্বর সয়ার ইউনিয়নের দামোদরপুর এলাকার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরের ছাদ উড়ে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এক অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি। বর্তমানে তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে মো. আইয়ুব আলি (৬৫) ও তার স্ত্রী মোছা. আবেদা বেগম (৫৯)-এর একমাত্র বসতঘরের চালা উড়ে যায়। ঝড়ের পর পুরো রাতই তাদের খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টিতে ভিজে কাটাতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইয়ুব আলির কোনো জমিজমা নেই। মাত্র দুই শতক জমির ওপর একটি ছোট বসতবাড়িই তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল ছিল। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তাদের বড় ছেলে আদম আলি। প্রায় তিন বছর আগে ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে সেফটি ট্যাংকে নেমে দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে।
তাদের দ্বিতীয় মেয়ে আলিমা খাতুনকে বিয়ে দেওয়ার পর বর্তমানে সংসারে উপার্জনের মতো আর কেউ নেই। ফলে প্রতিবেশীদের সহায়তার ওপরই নির্ভর করে দিন কাটছে তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহেদুল ইসলাম বলেন, “আইয়ুব আলি ঠিকমতো চোখে দেখতে পান না। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বয়স্ক। আমরা যেভাবে পারি চাল-ডাল দিয়ে সাহায্য করি। কেউ সাহায্য করলে তারা খেতে পারেন, না হলে না খেয়েই থাকতে হয়।”
তিনি আরও জানান, জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স ভুলভাবে কম দেখানো হওয়ায় আইয়ুব আলি এখনো বয়স্ক ভাতার আওতায় আসতে পারেননি। বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এদিকে, ভয়াবহ এই ক্ষতির পরও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা বা ত্রাণ পাননি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ঘর মেরামত ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হোক, যাতে এই অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি মানবেতর জীবন থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরের ছাদ উড়ে, খোলা আকাশের নিচে অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি

আপডেট সময় : ০৯:১৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা এর ৫ নম্বর সয়ার ইউনিয়নের দামোদরপুর এলাকার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরের ছাদ উড়ে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এক অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি। বর্তমানে তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে মো. আইয়ুব আলি (৬৫) ও তার স্ত্রী মোছা. আবেদা বেগম (৫৯)-এর একমাত্র বসতঘরের চালা উড়ে যায়। ঝড়ের পর পুরো রাতই তাদের খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টিতে ভিজে কাটাতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইয়ুব আলির কোনো জমিজমা নেই। মাত্র দুই শতক জমির ওপর একটি ছোট বসতবাড়িই তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল ছিল। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তাদের বড় ছেলে আদম আলি। প্রায় তিন বছর আগে ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে সেফটি ট্যাংকে নেমে দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে।
তাদের দ্বিতীয় মেয়ে আলিমা খাতুনকে বিয়ে দেওয়ার পর বর্তমানে সংসারে উপার্জনের মতো আর কেউ নেই। ফলে প্রতিবেশীদের সহায়তার ওপরই নির্ভর করে দিন কাটছে তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহেদুল ইসলাম বলেন, “আইয়ুব আলি ঠিকমতো চোখে দেখতে পান না। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বয়স্ক। আমরা যেভাবে পারি চাল-ডাল দিয়ে সাহায্য করি। কেউ সাহায্য করলে তারা খেতে পারেন, না হলে না খেয়েই থাকতে হয়।”
তিনি আরও জানান, জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স ভুলভাবে কম দেখানো হওয়ায় আইয়ুব আলি এখনো বয়স্ক ভাতার আওতায় আসতে পারেননি। বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এদিকে, ভয়াবহ এই ক্ষতির পরও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা বা ত্রাণ পাননি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ঘর মেরামত ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হোক, যাতে এই অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি মানবেতর জীবন থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।