ঢাকা ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরে কৃত্রিম তেল সংকট পাম্পে ভোগান্তি চরমে, দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ

যশোরে কৃত্রিম তেল সংকট পাম্পে ভোগান্তি চরমে, দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ

কৃত্রিম জ্বালানি তেল সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। যশোরের প্রায় সব উপজেলাতেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দুপুর ১২টা থেকে শুরু করে রাত ১১টা-১২টা পর্যন্ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেককের ভাগ্যে তেল জুটছেনা। তেল না নিয়ে মলিন চেহারায় ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন। তেলের জন্য অপেক্ষমাণ চালকরা। দীর্ঘ এই লাইনের মধ্যেই কিছু অসাধু মোটরসাইকেল চালক নিয়ম না মেনে উল্টো পথে গিয়ে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারদের নির্দেশনাও অমান্য করছেন, যার ফলে পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খল হয়ে উঠছে।
এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, এক শ্রেণির মোটরসাইকেল চালক বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন থেকে বারবার তেল নিয়ে বাসা ও দোকানে মজুদ করছে। এর ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। বাড়ছে সাধারণ ভোক্তাদের দুর্ভোগ।
বাজারে প্লাস্টিকের ড্রাম ও ড্রামজাত পাত্রের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। অনেককেই এসব পাত্র কিনতে দেখা যাচ্ছে, যা তেল মজুদের প্রবণতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চাকরিজীবী ও নিয়মিত মোটরসাইকেল চালকরা। তারা বলছেন, তেল না পেলে কর্মস্থলে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে অনেকে হতাশ হয়ে পড়ছেন। জীবিকার তাগিদে চলাচল করাই এখন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই কৃত্রিম সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। প্রশাসনের নজরদারি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
তেলের কৃত্রিম সংকট সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। জনগণের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। যশোরের তেলের কৃত্রিম সংকট উত্তরণে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই জনগণের কাছে সরকার গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে বলে সচেতন মহলের দাবি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে কৃত্রিম তেল সংকট পাম্পে ভোগান্তি চরমে, দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ

আপডেট সময় : ১১:০২:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

কৃত্রিম জ্বালানি তেল সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। যশোরের প্রায় সব উপজেলাতেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দুপুর ১২টা থেকে শুরু করে রাত ১১টা-১২টা পর্যন্ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেককের ভাগ্যে তেল জুটছেনা। তেল না নিয়ে মলিন চেহারায় ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন। তেলের জন্য অপেক্ষমাণ চালকরা। দীর্ঘ এই লাইনের মধ্যেই কিছু অসাধু মোটরসাইকেল চালক নিয়ম না মেনে উল্টো পথে গিয়ে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারদের নির্দেশনাও অমান্য করছেন, যার ফলে পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খল হয়ে উঠছে।
এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, এক শ্রেণির মোটরসাইকেল চালক বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন থেকে বারবার তেল নিয়ে বাসা ও দোকানে মজুদ করছে। এর ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। বাড়ছে সাধারণ ভোক্তাদের দুর্ভোগ।
বাজারে প্লাস্টিকের ড্রাম ও ড্রামজাত পাত্রের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। অনেককেই এসব পাত্র কিনতে দেখা যাচ্ছে, যা তেল মজুদের প্রবণতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চাকরিজীবী ও নিয়মিত মোটরসাইকেল চালকরা। তারা বলছেন, তেল না পেলে কর্মস্থলে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে অনেকে হতাশ হয়ে পড়ছেন। জীবিকার তাগিদে চলাচল করাই এখন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই কৃত্রিম সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। প্রশাসনের নজরদারি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
তেলের কৃত্রিম সংকট সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। জনগণের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। যশোরের তেলের কৃত্রিম সংকট উত্তরণে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই জনগণের কাছে সরকার গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে বলে সচেতন মহলের দাবি।