ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুন্সীগঞ্জে জুয়ায় হেরে চালককে হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪

  • অনলাইন ডেস্ক,
  • আপডেট সময় : ০৯:৫১:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 44

মুন্সীগঞ্জে জুয়ায় হেরে চালককে হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রমজানবেগ এলাকার মিলিটারি চকের কাঁশবন থেকে নিখোঁজের ২০ দিন পর অটো চালকের অর্ধ গলিত মরদেহ গতকাল রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার ও ছিনতাইকৃত ৮টি খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।

আটকরা হলেন- রাজন শেখ (২৫), ইমরান সরকার (১৯), শরীফ সুলতান ওরফে আফসু (২৫), মো. ইউসুফ গাজী (৬০)। তাদের মধ্যে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হলো মো. শরীফ ওরফে আফসু।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জানা গেছে, সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম জানান, আসামি শরীফ ওরফে আফছু জুয়া খেলে তার ফুফাতো ভাই সুরজের কাছে ঋনী হন। সেই ঋনের টাকা পরিশোধ করতে বন্ধু রাজন এবং ইমরানকে নিয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। পরবর্তীতে টার্গেট করা হয় আসামির পূর্ব পরিচিত অটোরিকশা চালক সাকিলকে।

গত ২৭ জানুয়ারি আসামিরা অটোরিকশা চালক সাকিলকে (২৪) ভাড়া করেন। এরপর তারা সাকিলকে বিভিন্ন স্থান ঘুরে নির্জন চরে নিয়ে গলায় মাফলার পেঁচিয়ে হত্যা করেন। হত্যার পর সাকিলের মরদেহ কাঁশবনে ফেলে যান তিন বন্ধু। এরপর অটোরিকশাটি তারা খণ্ডিত করে ৪ নম্বর আসামির কাছে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন।

এছাড়াও ভুক্তভোগি সাকিলের ফোনটিও ২ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন তারা। দীর্ঘ দিন মরদেহটি সেখানে পড়ে ছিল, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে খবর দিলে পুলিশ নিহতের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে স্বজনরা মরদেহের গায়ে থাকা প্যান্ট, শার্ট ও কোমড়ের বেল্ট দেখে সাকিলকে সনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহত সাকিলের বাবা শাহীন খালাসি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

তথ্য প্রযুক্তি ও নিহত অটো চালকের ব্যবহৃত ফোনের সূত্র ধরে এই আসামিদের আটক ও খণ্ডিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

এদিকে সাকিলসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আটকের খবরে স্থানীয়রা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. ফিরোজ কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেল) মো. বিল্লাল হোসেন, পিপিএম, মুন্সীগঞ্জ থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদকর্মী।

 

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

মুন্সীগঞ্জে জুয়ায় হেরে চালককে হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪

আপডেট সময় : ০৯:৫১:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রমজানবেগ এলাকার মিলিটারি চকের কাঁশবন থেকে নিখোঁজের ২০ দিন পর অটো চালকের অর্ধ গলিত মরদেহ গতকাল রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার ও ছিনতাইকৃত ৮টি খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।

আটকরা হলেন- রাজন শেখ (২৫), ইমরান সরকার (১৯), শরীফ সুলতান ওরফে আফসু (২৫), মো. ইউসুফ গাজী (৬০)। তাদের মধ্যে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হলো মো. শরীফ ওরফে আফসু।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জানা গেছে, সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম জানান, আসামি শরীফ ওরফে আফছু জুয়া খেলে তার ফুফাতো ভাই সুরজের কাছে ঋনী হন। সেই ঋনের টাকা পরিশোধ করতে বন্ধু রাজন এবং ইমরানকে নিয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। পরবর্তীতে টার্গেট করা হয় আসামির পূর্ব পরিচিত অটোরিকশা চালক সাকিলকে।

গত ২৭ জানুয়ারি আসামিরা অটোরিকশা চালক সাকিলকে (২৪) ভাড়া করেন। এরপর তারা সাকিলকে বিভিন্ন স্থান ঘুরে নির্জন চরে নিয়ে গলায় মাফলার পেঁচিয়ে হত্যা করেন। হত্যার পর সাকিলের মরদেহ কাঁশবনে ফেলে যান তিন বন্ধু। এরপর অটোরিকশাটি তারা খণ্ডিত করে ৪ নম্বর আসামির কাছে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন।

এছাড়াও ভুক্তভোগি সাকিলের ফোনটিও ২ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন তারা। দীর্ঘ দিন মরদেহটি সেখানে পড়ে ছিল, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে খবর দিলে পুলিশ নিহতের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে স্বজনরা মরদেহের গায়ে থাকা প্যান্ট, শার্ট ও কোমড়ের বেল্ট দেখে সাকিলকে সনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহত সাকিলের বাবা শাহীন খালাসি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

তথ্য প্রযুক্তি ও নিহত অটো চালকের ব্যবহৃত ফোনের সূত্র ধরে এই আসামিদের আটক ও খণ্ডিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

এদিকে সাকিলসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আটকের খবরে স্থানীয়রা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. ফিরোজ কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেল) মো. বিল্লাল হোসেন, পিপিএম, মুন্সীগঞ্জ থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদকর্মী।