#মানবতার_এক_ছোট্ট_জয়!
মনে হচ্ছিল, ছোট্ট একটি কাজের মধ্য দিয়েই যেন মানবতার এক বড় দায়িত্ব পালন করা গেল। সত্যিই, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় সাফল্য। সীমান্ত, দেশ, নিয়ম—সবকিছুর ঊর্ধ্বে আছে মানবতা। আর সেই মানবতার জয় দেখার আনন্দ সত্যিই অন্যরকম।
গত ০৬/০৩/২০২৫ খ্রিঃ তারিখ রাতে থানার অফিসার ইনচার্জ মহোদয়ের মাধ্যমে জানতে পারি যে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি নিজের অজান্তেই বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছে। সীমান্ত এলাকায় এমন ঘটনা মাঝে মাঝে ঘটে, কিন্তু এই মানুষটি ছিল সম্পূর্ণ অসহায়। নিজের পরিচয় বা ঠিকানা বলার মতো অবস্থাও তার ছিল না।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি ছিল। অফিসার ইনচার্জ মহোদয় প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য আমাকে দায়িত্ব দেন। পরবর্তীতে সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আমি অংশগ্রহণ করি। আলোচনার পর ভারতীয় পক্ষ মানবিকতার জায়গা থেকে ওই ব্যক্তিকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে।
তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পরও দায়িত্ব শেষ হয়নি। কারণ, তার নিজের পরিচয় বা ঠিকানা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক চেষ্টা, জিজ্ঞাসাবাদ ও খোঁজখবরের পর ধীরে ধীরে সে শুধু “ভোলা জেলা” শব্দটি বলতে থাকে। একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহায়তায় তার পরিচয় সনাক্ত করা সম্ভব হয়।
তবে পরিবারের সদস্যদের আসতে বলা হলে তারা প্রথমে আসছি-আসছি বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। পরে জানায়, ভোলা জেলা থেকে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানায় আসার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাদের নেই। বিষয়টি আমি থানার অফিসার ইনচার্জ মহোদয়কে অবহিত করি। পরবর্তীতে অফিসার ইনচার্জ মহোদয়ের উদ্যোগে তাদের যাতায়াতের খরচের ব্যবস্থা করা হয় এবং মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির পিতাকে দোয়ারাবাজার থানায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়।
সেই মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী। প্রায় দেড় বছর পর পিতা ও পুত্রের দেখা। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর যখন বাবা তার হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে ফিরে পেলেন, তার চোখে ভেসে উঠল আনন্দ আর স্বস্তির অশ্রু। এতদিন তারা ভেবেছিলেন হয়তো আর কোনোদিন ছেলেটিকে ফিরে পাবেন না।
পরবর্তীতে তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের সেই আবেগঘন মুহূর্ত দেখে মনে হলো—আজকের সমস্ত পরিশ্রম সার্থক।
এই কাজে যারা সহযোগীতা করেছেন আপনাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
মুজাহিদুল ইসলাম প্রতিনিধি: 
























