ঢাকা ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় বিয়ের দিন বরের বাড়িতে হামলা-লুটপাট, পণ্ড অনুষ্ঠান

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে মোটরসাইকেল রাখা ও মাদকবিরোধী অবস্থানকে কেন্দ্র করে গণঅধিকার পরিষদের এক নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মো. সেলিম খান(৩০), মো. আসাদ খান (৩৬) ও মোশারফ মিয়া(১৫),রাজু মিয়া(২৩)

শনিবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ৫ নম্বর কর্শাকড়িয়াইল ছোয়ানি পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সেলিম খান ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সেলিম খানের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা চলে যাওয়ার পর কয়েকজন যুবক বাড়ির সামনে মোটরসাইকেল রেখে পাশের এলাকায় যায়। মোটরসাইকেল সরিয়ে রাখতে বলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা বাড়ির জানালা-দরজা, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে। এ সময় নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণের চেইন ও আংটিসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায় বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

সেলিম খান অভিযোগ করে বলেন, বাড়ির সামনে রাখা মোটরসাইকেল সরিয়ে রাখতে বলায় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। পরে সংঘবদ্ধভাবে বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। তিনি দাবি করেন, এলাকায় মাদক সেবন ও ব্যবসার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেও তাকে টার্গেট করা হয়ে থাকতে পারে।

হামলায় আহতদের মধ্যে মো. আসাদ খান (৩৬), রাজুমিয়া(২৩) ও মোশারফ মিয়া(১৫) কে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মাঝে প্রবাসী আসাদ খানের অবস্থা গুরুতর। তার মাথায় আটটা সেলাই লেগেছে।

ভুক্তভোগী সেলিম খানের বোন মদিনা আক্তার বলেন, একদল লোক হঠাৎ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা করে, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।এমনকি আমাকেও মারধর করে।

১০ কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোহাম্মদ সোহেল মিয়া জানান,হামলার সময় তিনি বাজারে ছিলেন পরে হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বাড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুরের চিহ্ন দেখতে পান। তিনি বলেন, এলাকায় মাদক বেড়ে যাওয়ায় এরকমটি হয়েছে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বাস দেন।

অভিযুক্ত মো. জালাল উদ্দিন বলেন, সেলিম খানের বাবা হলো আমার বন্ধু মানুষ তাদের বাড়িতে অনেক গেছি,খাওয়া- দাওয়া করেছি। তার বড় ভাই আলামিনের সাথেও গত রাতে কথা হয়েছে। আমার এক ভাতিজা গিয়ে আরেক জনের জন্য ঝগড়া করছে এখন আমাকে অভিযোগ করছে। তিনি আরো বলেন, আসলে সামনে নির্বাচন আমি ৪ বার চেয়ারম্যান নির্বাচন করেছি আবারও করবো। এটা কোন রাজনৈতিক এজেন্ডা হতে পারে।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় বিয়ের দিন বরের বাড়িতে হামলা-লুটপাট, পণ্ড অনুষ্ঠান

আপডেট সময় : ০২:৪৭:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে মোটরসাইকেল রাখা ও মাদকবিরোধী অবস্থানকে কেন্দ্র করে গণঅধিকার পরিষদের এক নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মো. সেলিম খান(৩০), মো. আসাদ খান (৩৬) ও মোশারফ মিয়া(১৫),রাজু মিয়া(২৩)

শনিবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ৫ নম্বর কর্শাকড়িয়াইল ছোয়ানি পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সেলিম খান ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সেলিম খানের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা চলে যাওয়ার পর কয়েকজন যুবক বাড়ির সামনে মোটরসাইকেল রেখে পাশের এলাকায় যায়। মোটরসাইকেল সরিয়ে রাখতে বলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা বাড়ির জানালা-দরজা, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে। এ সময় নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণের চেইন ও আংটিসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায় বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

সেলিম খান অভিযোগ করে বলেন, বাড়ির সামনে রাখা মোটরসাইকেল সরিয়ে রাখতে বলায় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। পরে সংঘবদ্ধভাবে বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। তিনি দাবি করেন, এলাকায় মাদক সেবন ও ব্যবসার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেও তাকে টার্গেট করা হয়ে থাকতে পারে।

হামলায় আহতদের মধ্যে মো. আসাদ খান (৩৬), রাজুমিয়া(২৩) ও মোশারফ মিয়া(১৫) কে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মাঝে প্রবাসী আসাদ খানের অবস্থা গুরুতর। তার মাথায় আটটা সেলাই লেগেছে।

ভুক্তভোগী সেলিম খানের বোন মদিনা আক্তার বলেন, একদল লোক হঠাৎ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা করে, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।এমনকি আমাকেও মারধর করে।

১০ কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোহাম্মদ সোহেল মিয়া জানান,হামলার সময় তিনি বাজারে ছিলেন পরে হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বাড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুরের চিহ্ন দেখতে পান। তিনি বলেন, এলাকায় মাদক বেড়ে যাওয়ায় এরকমটি হয়েছে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বাস দেন।

অভিযুক্ত মো. জালাল উদ্দিন বলেন, সেলিম খানের বাবা হলো আমার বন্ধু মানুষ তাদের বাড়িতে অনেক গেছি,খাওয়া- দাওয়া করেছি। তার বড় ভাই আলামিনের সাথেও গত রাতে কথা হয়েছে। আমার এক ভাতিজা গিয়ে আরেক জনের জন্য ঝগড়া করছে এখন আমাকে অভিযোগ করছে। তিনি আরো বলেন, আসলে সামনে নির্বাচন আমি ৪ বার চেয়ারম্যান নির্বাচন করেছি আবারও করবো। এটা কোন রাজনৈতিক এজেন্ডা হতে পারে।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।