ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কাজিরবেড় গ্রামে কাকুলি খাতুন (১৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অল্প বয়সে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
নিহত কাকুলি কাজিরবেড় গ্রামের রিফাত হোসেনের স্ত্রী এবং মাইলবাড়ীয়া ঢাকা পাড়া গ্রামের কাদির খাঁ’র মেয়ে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ ঘরের বাঁশের আড়ায় ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের স্বামী জানান, তিনি স্থানীয় একটি সোয়েটার কারখানায় কাজ করেন। গতকাল কর্মস্থল থেকে ফিরতে দেরি হওয়ায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। প্রায় চার মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের পর কাকুলি ও রিফাতের বিয়ে হয়।
ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। চিরকুটে স্বামীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং পরিবারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
চিরকুটে লেখা ছিলো,প্রিয় স্বামী আমাকে ক্ষমা করে দিও,তোমার সাথে অনেক খারাপ আচরণ করেছি,জানিনা আল্লাহ মাফ করবে কিনা তুমি ক্ষমা করে দিও, আর বাঁচতে ইচ্ছে করছে না চির বিদায় চাই,বাবা মাকে জানিও না আর তাদের কিছু বলবা ও না এটা আমার অনুরোধ রইল। ভালো থেকো স্বামী তোমাকে ভালোবেসে অপরাধী হলাম।চিরকুটটি পুলিশ উদ্ধার করেন।নিহতের বলেন তাদের কোন অভিযোগ নেই।
মহেশপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
মেহেদী হাসান, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “লাশের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কাকুলির পরিবার জানিয়েছে, এ ঘটনায় তাদের কোনো অভিযোগ নেই।
অল্প বয়সে কাকুলির এমন করুণ পরিণতিতে পরিবার-পরিজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের মাতম বইছে। গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের মাতম।
সজিব, মিয়া, মহেশপুর, ঝিনাইদহ। 



















