মধুপুর গড়ের বিস্তীর্ণ মাঠে এখন পাকা ধানের সোনালি আভা। চারদিকে বোরো ধান কাটার ধুম পড়লেও কৃষকের মুখে নেই হাসির ঝিলিক। শ্রমিক সংকট আর আকাশছোঁয়া মজুরির কারণে পাকা ধান ঘরে তুলতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। একদিকে বৈরী আবহাওয়া, অন্যদিকে ধানের কম বাজারদর—সব মিলিয়ে লোকসানের শঙ্কায় দিন কাটছে তাদের।
শ্রমিক সংকট ও দ্বিগুণ মজুরি:
মধুপুর অঞ্চলে বর্তমানে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। আগে যেখানে শ্রমিকের মজুরি ছিল ৪০০-৫০০ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায়। চুক্তিতে এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমির ধান কাটতে শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। এর বাইরে শ্রমিকদের দুই বেলা খাবার ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচও বহন করতে হচ্ছে কৃষককে। অন্যদিকে মেশিনে ধান কাটতে বিঘা প্রতি খরচ হচ্ছে প্রায় ১২০০ টাকা।
খরচের তুলনায় দাম কম:
উপজেলার পাগলা গ্রামের কৃষক সাব্বির হোসেন জানান, ৫ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করতে তার বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। সার, বীজ, সেচ ও রোপণ খরচ বাদে শুধু কাটতেই গুনতে হচ্ছে বড় অংকের টাকা। বিপরীতে প্রতি মণে ২০ মণ ফলন হলেও বাজারে ধানের দাম মাত্র ৭০০-৭৫০ টাকা। এতে উৎপাদন খরচ তোলাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
কৃষকদের হাহাকার:
কৃষক মছর আলী জানান, বৃষ্টির আশঙ্কায় দ্রুত ধান ঘরে তুলতে চাইলেও শ্রমিকের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকার ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। সব মিলিয়ে এ বছর বোরো আবাদে লাভের চেয়ে লোকসানের পাল্লাই ভারী দেখছেন তারা।
সরকারি ভাষ্য:
মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন জানান, এ বছর মধুপুরে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। তবে আগাম বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকার প্রায় ৩৫ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুবায়ের হোসেন জানান, তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল খনন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যে ১২টি খালের তালিকা পাঠানো হয়েছে। দ্রুত পানি নেমে গেলে কৃষকের ক্ষতি কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মধুপুর গড়ে ধান কাটায় খরচ বেড়েছে কৃষকের: লোকসানের শঙ্কায় চাষিরা
-
মমিনুর ইসলাম মিলন, টাংগাইল ঘাটাইল উপজেলা প্রতিনিধি:
- আপডেট সময় : ০২:০৫:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
- 41
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ






















