ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাচতে চায় রংপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ

  • প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:৫০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭
  • 433

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে শয্যাশায়ী রংপুরের দর্শনা এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ। উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারসহ দেশের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন ওই মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তরুণ যোদ্ধা আব্দুর রশিদ। ৭নং সেক্টর রাজশাহীর চারঘাট বাঘা এলাকায় থেকে দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে স্বশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়েছিলেন এ অকুতোভয় সৈনিক। এরপর কেটে গেছে ৪৭ বছর। স্ত্রী, এক প্রতিবন্ধী সন্তানসহ ৪ সন্তানের সংসারে স্বাচ্ছন্দের ছোঁয়া নেই। মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে এক সড়ক দূর্ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনায় মেরুদন্ডের সংযোগ হাড় অকেজো হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিছুদিন চিকিৎসা চললেও অর্থের অভাবে বাড়িতেই এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন তিনি। সরকারী ভাতায় কোন রকমে খাওয়ার যোগান হলেও চিকিৎসা ব্যয় সামর্থে্যর বাইরে থাকায় এখন দিশেহারা এ মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।মুক্তিযো
দ্ধা আব্দুর রশিদ গত এক মাস ধরে শয্যাশায়ী হয়ে শারীরিক ও মানসিক কষ্ট নিয়ে দিন যাপন করছেন। তিনি কান্না বিজরিত কন্ঠে বলেন, আমার চাওয়া পাওয়ার তো কিছু নেই। আমি যদি জাতির বীর সন্তান হয়ে থাকি কেন আজ আমি অসুস্থ্য হয়ে শয্যাশায়ী। কেন আমি সুচিকিৎসা পাচ্ছি না। তার স্ত্রী মোমেনা খাতুন বলেন, তার স্বামীর চিকিৎসা নিশ্চিত করা হোক। ছেলে ম িহউজ্জামান বলেন, মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে কৃতিত্ব দেখিয়ে দেশের স্বাধীনতা এনেছে তার বাবা।এ সময়টি ছিল তার বাবার সুস্থ্য স্বাভাবিক থেকে জীবন অতিবাহিত করার। কিন্তু কেন তার এ অবস্থা ? সুচিকিৎসা পাওয়ার অধিকার থেকে কি কারণে বঞ্চিত হয়েছেন তিনি।আমরা কিছুই চাই না, প্রধানমন্ত্রী এবং বৃত্তবানদের হস্তক্ষেপে আমার বাবার সুস্থ্য জীবন চাই। এনিয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার সদরুল আলম দুলু বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সুদৃষ্টি দিলে আব্দুর রশিদের উন্নত চিকিৎসা সম্ভব।
যে কোন ভাবেই মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদের সুস্থ্য হওয়া জরুরী। সুচিকিৎসার অভাবে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদের কিছু হলে প্রশ্নবিদ্ধ হবে দেশ, জাতি এবং সুশীল সমাজ। দেশের এ সূর্য সন্তানকে বাঁচাতে সরকারসহ সকলের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাচতে চায় রংপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ

আপডেট সময় : ০৭:৫০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে শয্যাশায়ী রংপুরের দর্শনা এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ। উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারসহ দেশের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন ওই মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তরুণ যোদ্ধা আব্দুর রশিদ। ৭নং সেক্টর রাজশাহীর চারঘাট বাঘা এলাকায় থেকে দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে স্বশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়েছিলেন এ অকুতোভয় সৈনিক। এরপর কেটে গেছে ৪৭ বছর। স্ত্রী, এক প্রতিবন্ধী সন্তানসহ ৪ সন্তানের সংসারে স্বাচ্ছন্দের ছোঁয়া নেই। মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে এক সড়ক দূর্ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনায় মেরুদন্ডের সংযোগ হাড় অকেজো হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিছুদিন চিকিৎসা চললেও অর্থের অভাবে বাড়িতেই এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন তিনি। সরকারী ভাতায় কোন রকমে খাওয়ার যোগান হলেও চিকিৎসা ব্যয় সামর্থে্যর বাইরে থাকায় এখন দিশেহারা এ মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।মুক্তিযো
দ্ধা আব্দুর রশিদ গত এক মাস ধরে শয্যাশায়ী হয়ে শারীরিক ও মানসিক কষ্ট নিয়ে দিন যাপন করছেন। তিনি কান্না বিজরিত কন্ঠে বলেন, আমার চাওয়া পাওয়ার তো কিছু নেই। আমি যদি জাতির বীর সন্তান হয়ে থাকি কেন আজ আমি অসুস্থ্য হয়ে শয্যাশায়ী। কেন আমি সুচিকিৎসা পাচ্ছি না। তার স্ত্রী মোমেনা খাতুন বলেন, তার স্বামীর চিকিৎসা নিশ্চিত করা হোক। ছেলে ম িহউজ্জামান বলেন, মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে কৃতিত্ব দেখিয়ে দেশের স্বাধীনতা এনেছে তার বাবা।এ সময়টি ছিল তার বাবার সুস্থ্য স্বাভাবিক থেকে জীবন অতিবাহিত করার। কিন্তু কেন তার এ অবস্থা ? সুচিকিৎসা পাওয়ার অধিকার থেকে কি কারণে বঞ্চিত হয়েছেন তিনি।আমরা কিছুই চাই না, প্রধানমন্ত্রী এবং বৃত্তবানদের হস্তক্ষেপে আমার বাবার সুস্থ্য জীবন চাই। এনিয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার সদরুল আলম দুলু বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সুদৃষ্টি দিলে আব্দুর রশিদের উন্নত চিকিৎসা সম্ভব।
যে কোন ভাবেই মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদের সুস্থ্য হওয়া জরুরী। সুচিকিৎসার অভাবে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদের কিছু হলে প্রশ্নবিদ্ধ হবে দেশ, জাতি এবং সুশীল সমাজ। দেশের এ সূর্য সন্তানকে বাঁচাতে সরকারসহ সকলের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।