ঢাকা ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরগুনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে সাধুবেশধারী বৃদ্ধ ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে কিশোরী ধর্ষণ এবং তার পিতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে

বরগুনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে সাধুবেশধারী বৃদ্ধ ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে কিশোরী ধর্ষণ এবং তার পিতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে

বরগুনা জেলা শহরের পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের উকিল পট্টি এলাকায় সাধুবেশধারী এক বৃদ্ধ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ এবং তার পিতার ওপরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তিসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে বরগুনা থানা পুলিশ- বরগুনা রেস্ট হাউস সংলগ্ন এলাকা থেকে আটককৃতরা হলো বগুড়ার শতাব্দী হোসেন, কলাপাড়ার শেখর চন্দ্র, প্রষন্ন ও নাজমুল।

বরগুনা শহরের উকিল পট্টি এলাকায় “রেস্ট হাউস” সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় সাধুবেশধারী এক বৃদ্ধ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও তার পরিবারের উপর হামলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত “শতাব্দি” ৬০ থেকে ৬৫ বছর বয়সী, তিনি বগুড়ার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী এবং ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সাধু বা সন্ন্যাসী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আত্মগোপনে বরগুনাতে অবস্থান করছিলেন এবং ওই এলাকায় একটি রেস্ট হাউসের সংলগ্ন বাসা ভাড়া নিয়ে অসামাজিক ও মাদক খাজা সহ অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।

গত কয়েকদিন আগে ওই কিশোরীকে প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর পিতা প্রতিবাদ করতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা পটুয়াখালী থেকে এসে বরগুনায় তার ওপর হামলা চালায় এবং ধর্ষণকারীকে ছিনিয়ে নিতে চায়। ঘটনার তীব্রতা ও স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে বগুড়ার বাসিন্দা ওই মূলহোতা এবং তার সহযোগী পটুয়াখালীর তিনজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনাটি পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সাধুবেশ ধারণ করে এলাকায় মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। ভুক্তভোগীর পিতা জানান, তার মেয়েকে কৌশলে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে ছদ্দবেশী বৃদ্ধ এবং প্রতিবাদ করার কারণে তার লোকজন পটুয়াখালী থেকে এসে তাদের উপরে হামলা চালায় এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এমনকি প্রাণনাশের হুমকি-ও দেওয়া হয়। বাড়িওয়ালার সহযোগিতায় ডাকাডাকির পরে সকলে এসে রক্ষা করেন ভুক্তভোগীর পিতা কে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি নিজেকে সাধু দাবি করলেও তার কর্মকাণ্ড ছিল সম্পূর্ণ সন্দেহজনক। কোন কাজকর্ম ছাড়া বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং রাতের অন্ধকারে অসামাজিক লোকজনের আনাগোনা দেখে এলাকাবাসী আগে থেকেই শঙ্কিত ছিল। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বরগুনা সদর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা মাদক কারবার ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে একটি আবাসিক এলাকায় কীভাবে একজন ব্যক্তি সাধুবেশে এমন অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলল, এ বিষয়টি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির মত একটি ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, যেন এই ঘৃণ্য অপরাধে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয় এবং স্থানীয়ভাবে মাদকের আস্তানাগুলো চিরতরে উচ্ছেদ করা হয়।

এই ঘটনাটি কেবল একটি ধর্ষণ বা হামলার মামলা নয়, বরং এটি বরগুনার মতো একটি জনপদে ছদ্মবেশধারী অপরাধীদের অবাধ বিচরণের একটি ভয়াবহ চিত্র। কিশোরী ধর্ষণের এই ঘটনাটি স্থানীয় সমাজ ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ও নৈতিক অবক্ষয়ের অশনি সংকেত দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় এই ধরনের অপরাধীদের উপস্থিতি বড় ধরনের হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ধরনের অপরাধ দমনে কেবল গ্রেফতারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, তাদের নেপথ্যের পৃষ্ঠপোষক ও মাদক সিন্ডিকেটের শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি অপরাধীদের দৌরাত্ম্য আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে পুরো জনপদকে অস্থির করে তুলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

বরগুনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে সাধুবেশধারী বৃদ্ধ ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে কিশোরী ধর্ষণ এবং তার পিতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে

আপডেট সময় : ১০:৪৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

বরগুনা জেলা শহরের পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের উকিল পট্টি এলাকায় সাধুবেশধারী এক বৃদ্ধ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ এবং তার পিতার ওপরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তিসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে বরগুনা থানা পুলিশ- বরগুনা রেস্ট হাউস সংলগ্ন এলাকা থেকে আটককৃতরা হলো বগুড়ার শতাব্দী হোসেন, কলাপাড়ার শেখর চন্দ্র, প্রষন্ন ও নাজমুল।

বরগুনা শহরের উকিল পট্টি এলাকায় “রেস্ট হাউস” সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় সাধুবেশধারী এক বৃদ্ধ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও তার পরিবারের উপর হামলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত “শতাব্দি” ৬০ থেকে ৬৫ বছর বয়সী, তিনি বগুড়ার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী এবং ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সাধু বা সন্ন্যাসী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আত্মগোপনে বরগুনাতে অবস্থান করছিলেন এবং ওই এলাকায় একটি রেস্ট হাউসের সংলগ্ন বাসা ভাড়া নিয়ে অসামাজিক ও মাদক খাজা সহ অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।

গত কয়েকদিন আগে ওই কিশোরীকে প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর পিতা প্রতিবাদ করতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা পটুয়াখালী থেকে এসে বরগুনায় তার ওপর হামলা চালায় এবং ধর্ষণকারীকে ছিনিয়ে নিতে চায়। ঘটনার তীব্রতা ও স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে বগুড়ার বাসিন্দা ওই মূলহোতা এবং তার সহযোগী পটুয়াখালীর তিনজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনাটি পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সাধুবেশ ধারণ করে এলাকায় মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। ভুক্তভোগীর পিতা জানান, তার মেয়েকে কৌশলে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে ছদ্দবেশী বৃদ্ধ এবং প্রতিবাদ করার কারণে তার লোকজন পটুয়াখালী থেকে এসে তাদের উপরে হামলা চালায় এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এমনকি প্রাণনাশের হুমকি-ও দেওয়া হয়। বাড়িওয়ালার সহযোগিতায় ডাকাডাকির পরে সকলে এসে রক্ষা করেন ভুক্তভোগীর পিতা কে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি নিজেকে সাধু দাবি করলেও তার কর্মকাণ্ড ছিল সম্পূর্ণ সন্দেহজনক। কোন কাজকর্ম ছাড়া বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং রাতের অন্ধকারে অসামাজিক লোকজনের আনাগোনা দেখে এলাকাবাসী আগে থেকেই শঙ্কিত ছিল। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বরগুনা সদর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা মাদক কারবার ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে একটি আবাসিক এলাকায় কীভাবে একজন ব্যক্তি সাধুবেশে এমন অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলল, এ বিষয়টি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির মত একটি ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, যেন এই ঘৃণ্য অপরাধে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয় এবং স্থানীয়ভাবে মাদকের আস্তানাগুলো চিরতরে উচ্ছেদ করা হয়।

এই ঘটনাটি কেবল একটি ধর্ষণ বা হামলার মামলা নয়, বরং এটি বরগুনার মতো একটি জনপদে ছদ্মবেশধারী অপরাধীদের অবাধ বিচরণের একটি ভয়াবহ চিত্র। কিশোরী ধর্ষণের এই ঘটনাটি স্থানীয় সমাজ ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ও নৈতিক অবক্ষয়ের অশনি সংকেত দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় এই ধরনের অপরাধীদের উপস্থিতি বড় ধরনের হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ধরনের অপরাধ দমনে কেবল গ্রেফতারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, তাদের নেপথ্যের পৃষ্ঠপোষক ও মাদক সিন্ডিকেটের শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি অপরাধীদের দৌরাত্ম্য আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে পুরো জনপদকে অস্থির করে তুলতে পারে।