ক্যান্সার এমন একটি রোগ, যা শরীরের যেকোনো অংশে দেখা দিতে পারে। প্রতিটি ক্যান্সারের উপসর্গও ভিন্ন। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণরাও এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন উদ্বেগজনক হারে। ‘দ্য ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ক্যান্সার শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দক্ষিণ এশিয়ায় দিন দিন বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ। যত আগে রোগ ধরা পড়বে, চিকিৎসায় সফলতার সম্ভাবনা তত বেশি। কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো আমরা সাধারণ অসুস্থতা ভেবে অবহেলা করি।
পালমোনোলজিস্ট ডা. মিহির গাঙ্গাখেডকার এমন কয়েকটি উপসর্গ তুলে ধরেছেন, যেগুলো সাধারণ হলেও ফুসফুস ক্যান্সারের ইঙ্গিত হতে পারে—
দীর্ঘস্থায়ী কাশি
অনেকেই কাশিকে ঠাণ্ডা, অ্যালার্জি বা ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব হিসেবে দেখেন।
কিন্তু টানা সপ্তাহের পর সপ্তাহ কাশি চলতে থাকলে বা কাশি ক্রমেই বাড়তে থাকলে অবশ্যই সতর্ক হওয়া উচিত। এটি লাং ক্যান্সারের অন্যতম লক্ষণ।
অকারণে ওজন কমে যাওয়া
খাদ্যাভ্যাস বা শারীরিক পরিশ্রমে কোনো পরিবর্তন না থাকা সত্ত্বেও যদি শরীরের ওজন ক্রমাগত কমতে থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এটি ক্যান্সারের প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে।
সবসময় ক্লান্তি অনুভব
বিশ্রাম নেওয়ার পরেও যদি শরীরে শক্তির অভাব থাকে বা সবসময় অবসন্ন লাগে, তবে বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। ফুসফুস ক্যান্সার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অতিরিক্ত চাপে ফেলে, ফলে ক্লান্তি বাড়ে।
শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
হাঁপিয়ে ওঠা, বুকে চাপধরাকে আমরা সাধারণত স্ট্রেস বা অ্যাজমা ভেবে এড়িয়ে যাই। কিন্তু এই সমস্যাগুলো যদি ঘন ঘন দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
অবহেলায় বিপদ বাড়ে
শরীর কোনো না কোনোভাবে সবসময়ই সতর্কবার্তা দেয়।
তাই এমন লক্ষণ বারবার দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। ফুসফুস ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে চিকিৎসার সফলতার হার অনেক বেশি।


























