ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন সত্ত্বেও কৃষকের মাথায় হাত!

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন সত্ত্বেও কৃষকের মাথায় হাত!

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর প্রতিবিঘা জমিতে ৬৫ থেকে ৭৫ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। কোনো কোনো জমিতে ৮০ থেকে ৯০ মনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। পেঁয়াজ উত্তোলনে বাম্পার ফলন পাওয়ায় কৃষকের মাঝে স্বস্তি থাকলেও বিক্রির সময় কম দাম পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

পেঁয়াজের রাজধানী খ্যাত জেলা ফরিদপুরের ৯টি উপজেলাই কম-বেশি পেঁয়াজের আবাদ করলেও সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজের আবাদ হয় ভাঙ্গা, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায়। ভাঙ্গায় ইতোমধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু করেছে।

ভাঙ্গা বাজারে সপ্তাহে দুই দিন শুক্র ও সোমবার পেঁয়াজের হাট বসে। প্রতি হাটে শত শত মেট্রিক টন পেঁয়াজ বেচাকেনা হয়। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা ভাঙ্গা বাজারে এসে পেঁয়াজ কিনে বিভিন্ন জেলায় তারা বিক্রি করেন। পুরো এলাকায় পেঁয়াজ বেচা-কেনার ধুম পড়ে। তবে উৎপাদন খরচ আর বিক্রিতে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় চরম হতাশার কথা জানিয়েছেন পেঁয়াজ চাষিরা।

পশ্চিম আলগী গ্রামের কৃষক সাব্বির মিয়া বলেন, এক হাজার টাকা দরে এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করলাম। প্রথম দিকে ১১০০ টাকা করে বিক্রি হয়েছে। গত সোমবার হাটে ৮০০-৯০০ টাকা করে বিক্রি হয়েছে। পেঁয়াজের এই দামে আমরা হতাশ। আমরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছি না।

চৌকিখাটা গ্রামের কৃষক মশিউর রহমান বলেন, চলতি বছর পেঁয়াজের চাষাবাদ ভালো হয়েছে। সার ও কীটনাশক এবং শ্রমিকের মূল্য অনেক বেশি দেওয়া লাগছে। কিন্তু সেই তুলনায় এবার পেঁয়াজের দাম অর্ধেক পাচ্ছি। রমজান মাস তাছাড়া মুড়ি কাটা পেঁয়াজ বেশিদিন ঘরে রাখা যায় না, তাই পচেঁ যাওয়ার ভয়ে কম দাম হলেও বিক্রি করতেই হবে।

ভাঙ্গা বাজারের পেঁয়াজ হাটের আড়তদার আক্তার মুন্সী (৪৫) বলেন, রমজানের আগে মুড়িকাটা পেঁয়াজ ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা বিক্রি করেছি। শুক্রবার হয়েছে ৮০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা দরে। এমন দাম কমলে কৃষকের মাথায় হাত পড়বে। সোমবার হাটে শুক্রবারের হাটের চেয়ে ১০০ টাকা দাম কমে বিক্রি হয়েছে।

এ বিষয় ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মামুন মোল্লা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চাষিরা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন পেয়েছেন; কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পেঁয়াজের দাম না পাওয়ায় হতাশায় ভেঙে পড়েছেন তারা। এ বছর ভাঙ্গা উপজেলায় ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ হাজার মেট্রিক টন।

প্রতি বছর পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় ফরিদপুর জেলায় পেঁয়াজের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৭৪ হাজার ৩৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছেন কৃষকেরা ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন সত্ত্বেও কৃষকের মাথায় হাত!

আপডেট সময় : ০৭:০২:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর প্রতিবিঘা জমিতে ৬৫ থেকে ৭৫ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। কোনো কোনো জমিতে ৮০ থেকে ৯০ মনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। পেঁয়াজ উত্তোলনে বাম্পার ফলন পাওয়ায় কৃষকের মাঝে স্বস্তি থাকলেও বিক্রির সময় কম দাম পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

পেঁয়াজের রাজধানী খ্যাত জেলা ফরিদপুরের ৯টি উপজেলাই কম-বেশি পেঁয়াজের আবাদ করলেও সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজের আবাদ হয় ভাঙ্গা, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায়। ভাঙ্গায় ইতোমধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু করেছে।

ভাঙ্গা বাজারে সপ্তাহে দুই দিন শুক্র ও সোমবার পেঁয়াজের হাট বসে। প্রতি হাটে শত শত মেট্রিক টন পেঁয়াজ বেচাকেনা হয়। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা ভাঙ্গা বাজারে এসে পেঁয়াজ কিনে বিভিন্ন জেলায় তারা বিক্রি করেন। পুরো এলাকায় পেঁয়াজ বেচা-কেনার ধুম পড়ে। তবে উৎপাদন খরচ আর বিক্রিতে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় চরম হতাশার কথা জানিয়েছেন পেঁয়াজ চাষিরা।

পশ্চিম আলগী গ্রামের কৃষক সাব্বির মিয়া বলেন, এক হাজার টাকা দরে এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করলাম। প্রথম দিকে ১১০০ টাকা করে বিক্রি হয়েছে। গত সোমবার হাটে ৮০০-৯০০ টাকা করে বিক্রি হয়েছে। পেঁয়াজের এই দামে আমরা হতাশ। আমরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছি না।

চৌকিখাটা গ্রামের কৃষক মশিউর রহমান বলেন, চলতি বছর পেঁয়াজের চাষাবাদ ভালো হয়েছে। সার ও কীটনাশক এবং শ্রমিকের মূল্য অনেক বেশি দেওয়া লাগছে। কিন্তু সেই তুলনায় এবার পেঁয়াজের দাম অর্ধেক পাচ্ছি। রমজান মাস তাছাড়া মুড়ি কাটা পেঁয়াজ বেশিদিন ঘরে রাখা যায় না, তাই পচেঁ যাওয়ার ভয়ে কম দাম হলেও বিক্রি করতেই হবে।

ভাঙ্গা বাজারের পেঁয়াজ হাটের আড়তদার আক্তার মুন্সী (৪৫) বলেন, রমজানের আগে মুড়িকাটা পেঁয়াজ ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা বিক্রি করেছি। শুক্রবার হয়েছে ৮০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা দরে। এমন দাম কমলে কৃষকের মাথায় হাত পড়বে। সোমবার হাটে শুক্রবারের হাটের চেয়ে ১০০ টাকা দাম কমে বিক্রি হয়েছে।

এ বিষয় ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মামুন মোল্লা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চাষিরা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন পেয়েছেন; কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পেঁয়াজের দাম না পাওয়ায় হতাশায় ভেঙে পড়েছেন তারা। এ বছর ভাঙ্গা উপজেলায় ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ হাজার মেট্রিক টন।

প্রতি বছর পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় ফরিদপুর জেলায় পেঁয়াজের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৭৪ হাজার ৩৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছেন কৃষকেরা ।