ঢাকা ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশ্চিম তীরে ১৫ ফিলিস্তিনি বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা

অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেরিকোর কাছে একটি গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা প্রায় ১৫টি ফিলিস্তিনি বাড়ি এবং একটি পশুপালন শেড ভেঙে দিয়েছে বলে বুধবার বাসিন্দা ও স্থানীয় কর্মীরা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন।

ক্রমবর্ধমান বসতি স্থাপনকারী সহিংসতার কারণে পরিবারগুলোকে বারবার এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগের দিন আল-দুয়ুক আল-তাহতাহ এলাকায় টিনের তৈরি বেশ কয়েকটি ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পশ্চিম তীরে নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার করার লক্ষ্যে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা নতুন ব্যবস্থা অনুমোদনের কয়েকদিন পরই এই সর্বশেষ সহিংসতার ঘটনা ঘটল।

সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ নতুন বসতি সম্প্রসারণের পথ আরও প্রশস্ত করতে পারে। গ্রামের বাসিন্দা মুস্তাফা কাবনেহ প্রায় দুই দশক ধরে এই এলাকায় বসবাস করছেন। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘প্রায় ৫০ জন বসতি স্থাপনকারী এসে সবাইকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং সেগুলো ভেঙে ফেলা শুরু করে। তারপর তারা সবকিছু নিয়ে যায় – এমনকি মুরগিও।

তিনি বলেন, বেশিরভাগ বসতি স্থাপনকারী সশস্ত্র এবং মুখোশধারী ছিল এবং তাদের সাথে বুলডোজার নিয়ে ফিরে আসার আগে একটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গাড়ি ছিল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে এএফপির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

আরেক বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী বাসেম কাবনেহ বলেন, বসতি স্থাপনকারীরা নারী ও শিশুদের মারধর করেছে। পরিবারগুলোকে তাদের বাড়িঘর থেকে বের করে দিয়েছে এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র জব্দ করেছে।

তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে বলেছে, যথেষ্ট হয়েছে, এখানে আর তোমার বাড়ি নেই।’

ভেঙে ফেলা বাড়িগুলোর একটির মালিক আবু আউদি আল-রাজাবি বলেন, ভাঙার কোনও আদেশ জারি করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘বাড়িটি ১৩ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল এবং তখন থেকেই সেখানে বসবাস করা হচ্ছে।’

আল-রাজাবি মূলত জেরুজালেমে থাকেন। তিনি বলেন, সে এলাকায় পৌঁছাতে পারছেন না, কারণ রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয় কর্মী জিহাদ মাহালেস বলেন, ভাঙা বাড়িগুলো এরিয়া সি-তে অবস্থিত, যা ১৯৯০-এর দশকে স্বাক্ষরিত অসলো চুক্তির অধীনে পশ্চিম তীরের একটি অংশ এবং সম্পূর্ণ ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে।

তিনি বলেন, পাঁচটি স্থাপনা ছিল পাথরের তৈরি, বাকিগুলো ছিল টিনের ঘর ও পশুর আশ্রয়স্থল। বাসেম কাবনেহ বলেন, ‘আমরা এখন গাছের নিচে বসবাস করছি।’
রবিবার ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা অসলো চুক্তির অধীনে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ পরিচালিত এলাকাগুলোতে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণের জন্য একাধিক পদক্ষেপ অনুমোদন করে।

আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত এ পরিকল্পনার আওতায় ইহুদি ইসরায়েলিরা সরাসরি পশ্চিম তীরের জমি কিনতে পারবেন। পাশাপাশি, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কিছু ধর্মীয় স্থান পরিচালনার অনুমতি পাবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম বাদে পশ্চিম তীরজুড়ে ৫ লাখেরও বেশি ইসরায়েলি বসতি ও আউটপোস্টে বসবাস করছেন, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বলে বিবেচিত।

এই অঞ্চলে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বাস করেন। গত সপ্তাহে জাতিসংঘ জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও হয়রানির কারণে জানুয়ারি মাসে প্রায় ৭০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর এটি সর্বোচ্চ বাস্তুচ্যুতির হার। এ ছাড়া, অনুমতি ছাড়া নির্মাণের অভিযোগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কাঠামো ও বসতবাড়ি ধ্বংস করলে অনেক ফিলিস্তিনিকেও বাস্তুচ্যুত হতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

পশ্চিম তীরে ১৫ ফিলিস্তিনি বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেরিকোর কাছে একটি গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা প্রায় ১৫টি ফিলিস্তিনি বাড়ি এবং একটি পশুপালন শেড ভেঙে দিয়েছে বলে বুধবার বাসিন্দা ও স্থানীয় কর্মীরা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন।

ক্রমবর্ধমান বসতি স্থাপনকারী সহিংসতার কারণে পরিবারগুলোকে বারবার এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগের দিন আল-দুয়ুক আল-তাহতাহ এলাকায় টিনের তৈরি বেশ কয়েকটি ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পশ্চিম তীরে নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার করার লক্ষ্যে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা নতুন ব্যবস্থা অনুমোদনের কয়েকদিন পরই এই সর্বশেষ সহিংসতার ঘটনা ঘটল।

সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ নতুন বসতি সম্প্রসারণের পথ আরও প্রশস্ত করতে পারে। গ্রামের বাসিন্দা মুস্তাফা কাবনেহ প্রায় দুই দশক ধরে এই এলাকায় বসবাস করছেন। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘প্রায় ৫০ জন বসতি স্থাপনকারী এসে সবাইকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং সেগুলো ভেঙে ফেলা শুরু করে। তারপর তারা সবকিছু নিয়ে যায় – এমনকি মুরগিও।

তিনি বলেন, বেশিরভাগ বসতি স্থাপনকারী সশস্ত্র এবং মুখোশধারী ছিল এবং তাদের সাথে বুলডোজার নিয়ে ফিরে আসার আগে একটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গাড়ি ছিল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে এএফপির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

আরেক বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী বাসেম কাবনেহ বলেন, বসতি স্থাপনকারীরা নারী ও শিশুদের মারধর করেছে। পরিবারগুলোকে তাদের বাড়িঘর থেকে বের করে দিয়েছে এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র জব্দ করেছে।

তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে বলেছে, যথেষ্ট হয়েছে, এখানে আর তোমার বাড়ি নেই।’

ভেঙে ফেলা বাড়িগুলোর একটির মালিক আবু আউদি আল-রাজাবি বলেন, ভাঙার কোনও আদেশ জারি করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘বাড়িটি ১৩ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল এবং তখন থেকেই সেখানে বসবাস করা হচ্ছে।’

আল-রাজাবি মূলত জেরুজালেমে থাকেন। তিনি বলেন, সে এলাকায় পৌঁছাতে পারছেন না, কারণ রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয় কর্মী জিহাদ মাহালেস বলেন, ভাঙা বাড়িগুলো এরিয়া সি-তে অবস্থিত, যা ১৯৯০-এর দশকে স্বাক্ষরিত অসলো চুক্তির অধীনে পশ্চিম তীরের একটি অংশ এবং সম্পূর্ণ ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে।

তিনি বলেন, পাঁচটি স্থাপনা ছিল পাথরের তৈরি, বাকিগুলো ছিল টিনের ঘর ও পশুর আশ্রয়স্থল। বাসেম কাবনেহ বলেন, ‘আমরা এখন গাছের নিচে বসবাস করছি।’
রবিবার ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা অসলো চুক্তির অধীনে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ পরিচালিত এলাকাগুলোতে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণের জন্য একাধিক পদক্ষেপ অনুমোদন করে।

আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত এ পরিকল্পনার আওতায় ইহুদি ইসরায়েলিরা সরাসরি পশ্চিম তীরের জমি কিনতে পারবেন। পাশাপাশি, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কিছু ধর্মীয় স্থান পরিচালনার অনুমতি পাবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম বাদে পশ্চিম তীরজুড়ে ৫ লাখেরও বেশি ইসরায়েলি বসতি ও আউটপোস্টে বসবাস করছেন, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বলে বিবেচিত।

এই অঞ্চলে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বাস করেন। গত সপ্তাহে জাতিসংঘ জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও হয়রানির কারণে জানুয়ারি মাসে প্রায় ৭০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর এটি সর্বোচ্চ বাস্তুচ্যুতির হার। এ ছাড়া, অনুমতি ছাড়া নির্মাণের অভিযোগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কাঠামো ও বসতবাড়ি ধ্বংস করলে অনেক ফিলিস্তিনিকেও বাস্তুচ্যুত হতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।