গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত এক ল্যাব টেকনিশিয়ানের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ এনে পুলিশ নিয়ে হাসপাতালে হাজির হন এক গৃহবধূ। বুধবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযুক্ত হাসিবুল ইসলাম কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ল্যাব টেকনিশিয়ান পদে কর্মরত। তার বাড়ি ফরিদপুর শহরে বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে জানা যায়, হাসিবুলের সঙ্গে তার প্রতিবেশী এক সন্তানের জননী গৃহবধূর দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি। পরে ওই গৃহবধূ বিয়ের জন্য চাপ দিলে হাসিবুল তাকে অস্বীকার করেন।
ভুক্তভোগী নারী জানান, “দীর্ঘদিন সম্পর্কের পর সে আমাকে বিয়ের আশ্বাস দেয়। পরে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকে। নিরুপায় হয়ে আমি বিচার চাইতে সমাজের মাতব্বরদের দ্বারস্থ হই, কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি।”
তিনি আরও জানান, কয়েকদিন আগে বিষয়টি নিয়ে কোটালীপাড়ায় এসে অভিযুক্তের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। তাতেও সমাধান না হওয়ায় আইনের আশ্রয় নেন এবং মামলা দায়ের করেন।
বুধবার দুপুরে পুলিশ নিয়ে কর্মস্থলে হাজির হওয়ার খবর পেয়ে হাসিবুল ইসলাম অসুস্থতার ভান করে হাসপাতালের একটি বেডে শুয়ে পড়েন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে ফরিদপুর থেকে আসা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
গ্রেফতারের সময় অভিযুক্তের স্বজনরা ভুক্তভোগী নারীর কাছে হাত-পা ধরে অনুরোধ করতে থাকেন বলে উপস্থিত কয়েকজন জানান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। হাসপাতাল চত্বরে এ নিয়ে দিনভর আলোচনা-সমালোচনা চলতে দেখা যায়।






















