ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেছারাবাদের সারেংকাঠী ইউনিয়নে নির্বাচনী উত্তাপ, বিষ্ণুকাঠীতে বিএনপির ঘরে ঘরে প্রচারণা ।

  • প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৫:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • 58

নেছারাবাদের সারেংকাঠী ইউনিয়নে নির্বাচনী উত্তাপ, বিষ্ণুকাঠীতে বিএনপির ঘরে ঘরে প্রচারণা ।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সারেংকাঠী ইউনিয়নে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। বিশেষ করে বিষ্ণুকাঠী গ্রামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতিতে নির্বাচনী মাঠ দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। গ্রামের প্রতিটি অলিগলি এখন স্লোগান, লিফলেট ও ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে মুখরিত। স্থানীয়দের ভাষায়, দীর্ঘদিন পর এমন সংগঠিত ও ধারাবাহিক প্রচারণা আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনেছে গ্রামটিতে।

সারেংকাঠী ইউনিয়নের বিষ্ণুকাঠী গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির প্রচারণার ধরন বেশ চোখে পড়ার মতো। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা সমন্বিতভাবে মাঠে নেমেছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা দল বেঁধে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন, ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন এবং নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরছেন। শুধু বাড়িঘরেই নয়, বাজার, দোকানপাট ও কৃষিজমিতে কর্মরত মানুষের সঙ্গেও তারা কথা বলছেন। অনেক কৃষক জানান, মাঠে কাজের ফাঁকেই নেতাকর্মীরা এসে তাদের সঙ্গে কথা বলছেন, লিফলেট দিচ্ছেন এবং ভোটের বিষয়ে মতামত জানতে চাইছেন।

গ্রামের বিভিন্ন সড়ক ও মোড়ে ছোট ছোট পথসভাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব পথসভায় দীর্ঘ বক্তব্যের বদলে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই নিজেদের কথা বলতে পারেন। স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, “আগে শুধু পোস্টার আর মাইকিং দেখতাম, এবার নেতারা নিজেরাই এসে কথা বলছেন। এতে ভোটাররাও আগ্রহ নিয়ে শুনছেন।”

নির্বাচনী কার্যক্রম নিয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আলী হোসেন আশাবাদী কণ্ঠে বলেন, বিষ্ণুকাঠী এলাকার অধিকাংশ পরিবার ঐতিহাসিকভাবেই বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার ভাষায়, “আমরা প্রতিদিন ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছি। দল থেকে আমাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—জনগণের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে এবং কাউকে কোনোভাবে বিরক্ত করা যাবে না। ইনশাআল্লাহ, মহান আল্লাহর রহমতে আমরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।” তার বক্তব্যে আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি সংগঠনের ভেতরের প্রস্তুতির কথাও উঠে আসে।

তবে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে দেখা যায়, তারা শুধু দলীয় পরিচয়ের ওপর নয়, প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ ভূমিকার দিকেও নজর দিচ্ছেন। অনেক ভোটার জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর পাঁচ বছর এমপি হিসেবে যিনি এলাকার মানুষের পাশে থাকবেন, সুখে-দুঃখে খোঁজ নেবেন, তাকেই তারা মূল্যায়ন করবেন। বিষ্ণুকাঠীর এক মধ্যবয়সী ভোটার বলেন, “ভোটের সময় সবাই আসে, কিন্তু পরে অনেকেই আর খোঁজ নেয় না। এবার আমরা এমন কাউকে চাই, যিনি নির্বাচনের পরও আমাদের পাশে থাকবেন।”

এলাকায় প্রবীণ ভোটার ও আলেম সমাজের মধ্যেও ভোটের আলোচনা চলছে। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যের বিষয়টি অনেকেই তুলে ধরছেন। এক প্রবীণ ভোটারের ভাষায়, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আলেম-ওলামাদের প্রতি সবসময় সম্মান দেখিয়েছেন। তিনি আলেমদের ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দিয়েছেন। সেই সম্মানের প্রতিদান হিসেবেই আমরা ধানের শীষে ভোট দিতে আগ্রহী।” এ ধরনের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, অতীতের রাজনৈতিক স্মৃতি ও নেতৃত্বের ভূমিকা এখনো ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।

প্রচারণায় তরুণদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মীরা স্লোগান, লিফলেট বিতরণ ও ভোটার সংযোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত সবাই যেন কোনো না কোনোভাবে নির্বাচনী আলোচনায় যুক্ত। এতে পুরো এলাকায় এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন পর এমন প্রাণবন্ত নির্বাচনী আমেজ তারা আবার দেখছেন।

সারেংকাঠী ইউনিয়নের এই ওয়ার্ডে বিএনপির শক্ত সাংগঠনিক অবস্থান ও সুশৃঙ্খল প্রচারণা দলটিকে সুবিধাজনক জায়গায় রেখেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি ও এলাকার উন্নয়নে বাস্তব ভূমিকা রাখার সক্ষমতার ওপর। সব মিলিয়ে, বিষ্ণুকাঠী গ্রাম এখন নির্বাচনী উত্তাপের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এবং ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই এই উত্তাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নেছারাবাদের সারেংকাঠী ইউনিয়নে নির্বাচনী উত্তাপ, বিষ্ণুকাঠীতে বিএনপির ঘরে ঘরে প্রচারণা ।

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সারেংকাঠী ইউনিয়নে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। বিশেষ করে বিষ্ণুকাঠী গ্রামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতিতে নির্বাচনী মাঠ দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। গ্রামের প্রতিটি অলিগলি এখন স্লোগান, লিফলেট ও ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে মুখরিত। স্থানীয়দের ভাষায়, দীর্ঘদিন পর এমন সংগঠিত ও ধারাবাহিক প্রচারণা আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনেছে গ্রামটিতে।

সারেংকাঠী ইউনিয়নের বিষ্ণুকাঠী গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির প্রচারণার ধরন বেশ চোখে পড়ার মতো। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা সমন্বিতভাবে মাঠে নেমেছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা দল বেঁধে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন, ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন এবং নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরছেন। শুধু বাড়িঘরেই নয়, বাজার, দোকানপাট ও কৃষিজমিতে কর্মরত মানুষের সঙ্গেও তারা কথা বলছেন। অনেক কৃষক জানান, মাঠে কাজের ফাঁকেই নেতাকর্মীরা এসে তাদের সঙ্গে কথা বলছেন, লিফলেট দিচ্ছেন এবং ভোটের বিষয়ে মতামত জানতে চাইছেন।

গ্রামের বিভিন্ন সড়ক ও মোড়ে ছোট ছোট পথসভাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব পথসভায় দীর্ঘ বক্তব্যের বদলে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই নিজেদের কথা বলতে পারেন। স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, “আগে শুধু পোস্টার আর মাইকিং দেখতাম, এবার নেতারা নিজেরাই এসে কথা বলছেন। এতে ভোটাররাও আগ্রহ নিয়ে শুনছেন।”

নির্বাচনী কার্যক্রম নিয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আলী হোসেন আশাবাদী কণ্ঠে বলেন, বিষ্ণুকাঠী এলাকার অধিকাংশ পরিবার ঐতিহাসিকভাবেই বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার ভাষায়, “আমরা প্রতিদিন ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছি। দল থেকে আমাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—জনগণের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে এবং কাউকে কোনোভাবে বিরক্ত করা যাবে না। ইনশাআল্লাহ, মহান আল্লাহর রহমতে আমরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।” তার বক্তব্যে আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি সংগঠনের ভেতরের প্রস্তুতির কথাও উঠে আসে।

তবে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে দেখা যায়, তারা শুধু দলীয় পরিচয়ের ওপর নয়, প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ ভূমিকার দিকেও নজর দিচ্ছেন। অনেক ভোটার জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর পাঁচ বছর এমপি হিসেবে যিনি এলাকার মানুষের পাশে থাকবেন, সুখে-দুঃখে খোঁজ নেবেন, তাকেই তারা মূল্যায়ন করবেন। বিষ্ণুকাঠীর এক মধ্যবয়সী ভোটার বলেন, “ভোটের সময় সবাই আসে, কিন্তু পরে অনেকেই আর খোঁজ নেয় না। এবার আমরা এমন কাউকে চাই, যিনি নির্বাচনের পরও আমাদের পাশে থাকবেন।”

এলাকায় প্রবীণ ভোটার ও আলেম সমাজের মধ্যেও ভোটের আলোচনা চলছে। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যের বিষয়টি অনেকেই তুলে ধরছেন। এক প্রবীণ ভোটারের ভাষায়, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আলেম-ওলামাদের প্রতি সবসময় সম্মান দেখিয়েছেন। তিনি আলেমদের ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দিয়েছেন। সেই সম্মানের প্রতিদান হিসেবেই আমরা ধানের শীষে ভোট দিতে আগ্রহী।” এ ধরনের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, অতীতের রাজনৈতিক স্মৃতি ও নেতৃত্বের ভূমিকা এখনো ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।

প্রচারণায় তরুণদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মীরা স্লোগান, লিফলেট বিতরণ ও ভোটার সংযোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত সবাই যেন কোনো না কোনোভাবে নির্বাচনী আলোচনায় যুক্ত। এতে পুরো এলাকায় এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন পর এমন প্রাণবন্ত নির্বাচনী আমেজ তারা আবার দেখছেন।

সারেংকাঠী ইউনিয়নের এই ওয়ার্ডে বিএনপির শক্ত সাংগঠনিক অবস্থান ও সুশৃঙ্খল প্রচারণা দলটিকে সুবিধাজনক জায়গায় রেখেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি ও এলাকার উন্নয়নে বাস্তব ভূমিকা রাখার সক্ষমতার ওপর। সব মিলিয়ে, বিষ্ণুকাঠী গ্রাম এখন নির্বাচনী উত্তাপের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এবং ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই এই উত্তাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।