নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচন : ৩০ বছরে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটে দেখা গেছে ভোটারদের অভূতপূর্ব সাড়া। এটি গত ৩০ বছরে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী জোহরান মামদানি। এর মধ্য দিয়ে তিনি হবেন নিউইয়র্ক সিটির ১১১তম মেয়র।
মামদানি সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোকে পরাজিত করেছেন। কুমো আগে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতেও মামদানির কাছে হেরেছিলেন। নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল ধারা আরো জোরদার হলো।
স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় আজ বুধবার ভোর ৫টা) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে আনুমানিক ১৭ লাখ মানুষ ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছে শহরের নির্বাচন বোর্ড। গত ৩০ বছরের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।
১৯৯৩ সালের নির্বাচনে প্রায় ১৯ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী রুডি জুলিয়ানি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডেভিড ডিনকিনসকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এরপর থেকে নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে এমন উচ্চ ভোটার অংশগ্রহণ আর দেখা যায়নি। শহরের অ্যাস্টোরিয়া এলাকায় একটি কেন্দ্রে ভোট দেন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জোহরান মামদানি। এবারের নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর অঙ্গীকার করেছেন তিনি। তরুণসহ সব বয়সী ভোটারের মধ্যে বেশ সাড়াও পেয়েছেন। তার প্রতিফলন দেখা গেছে ভোটকেন্দ্রে।
এবারের নির্বাচনে প্রায় ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৭ জন আগাম ভোট দিয়েছেন, যা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো নির্বাচনে নিউইয়র্ক শহরে সর্বোচ্চ আগাম ভোটের রেকর্ড। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে আগাম ভোটের এই সংখ্যা শহরের নাগরিকদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও আগ্রহের প্রতিফলন।
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে ভোট দেন। তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের আগ্রহই আজকের এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
জনমত জরিপ অনুযায়ী, মেয়র নির্বাচন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন জোহরান মামদানি। গত বৃহস্পতিবারের এমারসন কলেজ/পিআইএক্স ১১/দ্য হিলের জরিপে দেখা যায়, মামদানি তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কুমোর চেয়ে প্রায় ২৫ পয়েন্ট এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়ার চেয়ে প্রায় ২৯ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন।
এক বছর আগে অল্প পরিচিত অবস্থায় মেয়র পদে লড়াই শুরু করেছিলেন মামদানি। কিন্তু শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ও তার ব্যক্তিত্ব তাকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলে।
অনলাইন ডেস্ক 

























