ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জুড়ে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, চাষিদের আশাবাদ

উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, চাষিদের আশাবাদ

দেশের উত্তরাঞ্চলের আমের প্রধান তিন জেলা—নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ—এ চলতি মৌসুমে আমের বাম্পার ফলনের জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, গাছে গাছে প্রচুর মুকুল ও গুটি দৃশ্যমান হওয়ায় চাষিদের মধ্যে বাড়তি আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ও পরিসংখ্যান
কৃষি বিভাগের অবস্থানভিত্তিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী—
নওগাঁ: প্রায় ৩০,৫০০ হেক্টর বাগানে লক্ষ্যমাত্রা ৪,৩০,০০০ মেট্রিক টন আম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: প্রায় ৩৭,৫০৪ হেক্টর বাগানে লক্ষ্যমাত্রা ৩,৮৬,০০০ মেট্রিক টন।
রাজশাহী: ১৯,৬০০ হেক্টর বাগানে ২,৬০,০০০ মেট্রিক টন উৎপাদনের পরিকল্পনা।
উপরোক্ত তিন জেলার সমন্বয়ে প্রায় ৯৩,০০০ হেক্টর জমিতে আম গাছে মুকুল ও গুটি দৃশ্যমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৃহত্তর রাজশাহী বিভাগে চলতি মৌসুমে মোট লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিয়ামতপুরে বাড়ছে আবাদ ও ফলনের সম্ভাবনা
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার একাধিক আমচাষি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার গাছে মুকুলের পরিমাণ বেশি এবং ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একজন চাষি বলেন, “গতবারের চেয়ে এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় গাছে বেশি মুকুল এসেছে। বৈশাখে বড় ধরনের দুর্যোগ না হলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলন হতে পারে।”
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, আমচাষি ও বাগান মালিকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই দমন, সুষম সার প্রয়োগ ও পরিচর্যার বিষয়ে কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, নিয়ামতপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে মোট ১,৪৩০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় আবাদ ও সম্ভাব্য ফলন—উভয় দিক থেকেই ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সতর্কতা ও সম্ভাবনা
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, মুকুল ও ছোট ফলের সময় ঝড়, শিলাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টি হলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই নিয়মিত বাগান পর্যবেক্ষণ, সময়মতো রোগবালাই দমন এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সব মিলিয়ে, অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জুড়ে চলতি মৌসুমে আমের রেকর্ড পরিমাণ ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জুড়ে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, চাষিদের আশাবাদ

আপডেট সময় : ০১:৩৭:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

দেশের উত্তরাঞ্চলের আমের প্রধান তিন জেলা—নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ—এ চলতি মৌসুমে আমের বাম্পার ফলনের জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, গাছে গাছে প্রচুর মুকুল ও গুটি দৃশ্যমান হওয়ায় চাষিদের মধ্যে বাড়তি আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ও পরিসংখ্যান
কৃষি বিভাগের অবস্থানভিত্তিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী—
নওগাঁ: প্রায় ৩০,৫০০ হেক্টর বাগানে লক্ষ্যমাত্রা ৪,৩০,০০০ মেট্রিক টন আম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: প্রায় ৩৭,৫০৪ হেক্টর বাগানে লক্ষ্যমাত্রা ৩,৮৬,০০০ মেট্রিক টন।
রাজশাহী: ১৯,৬০০ হেক্টর বাগানে ২,৬০,০০০ মেট্রিক টন উৎপাদনের পরিকল্পনা।
উপরোক্ত তিন জেলার সমন্বয়ে প্রায় ৯৩,০০০ হেক্টর জমিতে আম গাছে মুকুল ও গুটি দৃশ্যমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৃহত্তর রাজশাহী বিভাগে চলতি মৌসুমে মোট লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিয়ামতপুরে বাড়ছে আবাদ ও ফলনের সম্ভাবনা
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার একাধিক আমচাষি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার গাছে মুকুলের পরিমাণ বেশি এবং ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একজন চাষি বলেন, “গতবারের চেয়ে এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় গাছে বেশি মুকুল এসেছে। বৈশাখে বড় ধরনের দুর্যোগ না হলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলন হতে পারে।”
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, আমচাষি ও বাগান মালিকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই দমন, সুষম সার প্রয়োগ ও পরিচর্যার বিষয়ে কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, নিয়ামতপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে মোট ১,৪৩০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় আবাদ ও সম্ভাব্য ফলন—উভয় দিক থেকেই ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সতর্কতা ও সম্ভাবনা
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, মুকুল ও ছোট ফলের সময় ঝড়, শিলাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টি হলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই নিয়মিত বাগান পর্যবেক্ষণ, সময়মতো রোগবালাই দমন এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সব মিলিয়ে, অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জুড়ে চলতি মৌসুমে আমের রেকর্ড পরিমাণ ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।