দেশের সর্বাঙ্গীন অগ্রগতির ক্ষেত্রে ধর্মকে পুঁজি করে বিভেদ সৃষ্টির কোন সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানী ঢাকার ভাটারায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রসিদ্ধ ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী মির্জা ফখরুল আরও উল্লেখ করেন, দেশে কিছু নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তি ধর্মকে পুঁজি করে নিজের স্বার্থের রাজনীতি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বাংলাদেশের দীর্ঘ হাজার বছরের সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্মের ভিত্তিতে বিভেদ সৃষ্টির কোন সুযোগ নেই।
আরও পড়ুন: লেবানন-সিরিয়া সীমান্ত ক্রসিং লক্ষ্য করে হামলার হুঁশিয়ারি ইসরাইলের
তিনি বলেন, “আমরা এই ভূখণ্ডে হাজার হাজার বছর ধরে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের মধ্যে শান্তিতে বসবাস করছি। ধর্মবিশ্বাস একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়, এটিকে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার কোন ইচ্ছা আমাদের নেই। আমরা আমাদের প্রিয় দেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”
তিনি কিছু রাজনৈতিক দলগুলোর নেতিবাচক ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “কিছু অশুভ শক্তি রাজনৈতিক স্বার্থ লাভের জন্য আমাদের মাঝে বিভেদ ও অনৈক্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এমনকি কিছু দল মহান মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার মতো অশোভন আচরণ করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের উচিত এই বৈচিত্র্যের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য আরও বৃদ্ধি করা।”
দেশে চলমান জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট এই সংকটের মধ্যেও বর্তমান সরকার অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে দেশের বাইরে থেকে দ্রুত জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি সাধারণ জনগণের উদ্দেশে বলেন, “প্রয়োজনীয় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী বারবার দেশবাসীকে আশ্বাস দিচ্ছেন যে দেশে যথেষ্ট জ্বালানি তেল মজুদ আছে। তবুও কিছু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বাইকে করে বারবার তেল সংগ্রহ করছেন, যা বাজারে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। গুজবে কান দেওয়া কখনো উচিত হবে না।”
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তিনি রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, “বিএনপি তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে আপনাদের অকুণ্ঠ সমর্থনে সরকার গঠন করেছে, এজন্য আপনাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ। সত্য ও ন্যায়কে সামনে রেখেই আমরা দেশকে আলোর পথে এগিয়ে নিতে চাই।






















