ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ আফ্রিকার গায়ে কি আবারও ফিরল ‘চোকার্স’ তকমা?

  • ক্রীড়া ডেস্ক,
  • আপডেট সময় : ০৮:২৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • 42

দক্ষিণ আফ্রিকার গায়ে কি আবারও ফিরল ‘চোকার্স’ তকমা?

অপরাজিত দল হিসেবেই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। আত্মবিশ্বাস ছিল তুঙ্গে, আর লক্ষ্য ছিল বহুদিনের ‘চোকার্স’ তকমা ঝেড়ে ফেলা। তবে শেষ পর্যন্ত পুরনো গল্পই যেন আবার ফিরে এলো।

সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একেবারেই সুবিধা করতে পারেনি প্রোটিয়ারা।

কিউইরা দাপটের সঙ্গে ম্যাচ জিতে নেয় ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে এবং নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকিট। দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটি ছিল হতাশাজনক এক বিদায়।

ম্যাচ শেষে দলের প্রধান কোচ শুকরি কনরাড ‘চোকার্স’ তকমা নিয়ে রসিকতাই করলেন। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না এটাকে চোক বলা যায় কি না, আমার তো মনে হয়েছে এটা একেবারে বড় ধরনের মার।

তবু আমি এই ছেলেদের নিয়ে গর্বিত। আমরা যখন দেশ ছেড়েছিলাম, তখন খুব কম মানুষই ভেবেছিল আমরা সেমিফাইনালে উঠতে পারব। তবে এটা কোনো সান্ত্বনা নয়।’

দীর্ঘদিন ধরেই আইসিসি টুর্নামেন্টে নকআউট পর্বে ব্যর্থতার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ‘চোকার্স’ তকমাটি জড়িয়ে আছে।

১৯৯১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর থেকে তারা প্রায় সব বড় টুর্নামেন্টেই অংশ নিলেও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বড় শিরোপা এখনো অধরাই। ১৯৯২ সালের পর থেকে আইসিসির ২১টি নকআউট ম্যাচের মধ্যে ১৫টিতেই হেরেছে তারা।

১৯৯৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য সবচেয়ে নাটকীয় ও বেদনাদায়ক মুহূর্তগুলোর একটি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওভারে মাত্র এক রান দরকার ছিল তাদের। কিন্তু ল্যান্স ক্লুজনার ও অ্যালান ডোনাল্ডের ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে ম্যাচটি টাই হয় এবং সুপার সিক্সে ভালো রেকর্ড থাকায় অস্ট্রেলিয়া ফাইনালে উঠে যায়।

এর পরও হতাশা পিছু ছাড়েনি। ১৯৯২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল, ১৯৯৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল এবং ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনাল—সবই ব্যর্থতার তালিকায় যোগ হয়েছে।

সবচেয়ে সাম্প্রতিক আক্ষেপ আসে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে। ভারতের বিপক্ষে জয়ের জন্য তখন দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ছিল মাত্র ২৬ রান, হাতে ২৪ বল। হেনরিখ ক্লাসেনের ঝড়ো ইনিংসে জয়ের পথে এগিয়েও শেষ পর্যন্ত ৭ রানে হেরে যায় তারা।

তবে ২০২৫ সালে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে দীর্ঘদিনের আইসিসি ট্রফি খরা কাটিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবু সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এখনো তাদের গল্প একই—শিরোপার খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে যাচ্ছে সাফল্য।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ আফ্রিকার গায়ে কি আবারও ফিরল ‘চোকার্স’ তকমা?

আপডেট সময় : ০৮:২৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

অপরাজিত দল হিসেবেই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। আত্মবিশ্বাস ছিল তুঙ্গে, আর লক্ষ্য ছিল বহুদিনের ‘চোকার্স’ তকমা ঝেড়ে ফেলা। তবে শেষ পর্যন্ত পুরনো গল্পই যেন আবার ফিরে এলো।

সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একেবারেই সুবিধা করতে পারেনি প্রোটিয়ারা।

কিউইরা দাপটের সঙ্গে ম্যাচ জিতে নেয় ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে এবং নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকিট। দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটি ছিল হতাশাজনক এক বিদায়।

ম্যাচ শেষে দলের প্রধান কোচ শুকরি কনরাড ‘চোকার্স’ তকমা নিয়ে রসিকতাই করলেন। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না এটাকে চোক বলা যায় কি না, আমার তো মনে হয়েছে এটা একেবারে বড় ধরনের মার।

তবু আমি এই ছেলেদের নিয়ে গর্বিত। আমরা যখন দেশ ছেড়েছিলাম, তখন খুব কম মানুষই ভেবেছিল আমরা সেমিফাইনালে উঠতে পারব। তবে এটা কোনো সান্ত্বনা নয়।’

দীর্ঘদিন ধরেই আইসিসি টুর্নামেন্টে নকআউট পর্বে ব্যর্থতার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ‘চোকার্স’ তকমাটি জড়িয়ে আছে।

১৯৯১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর থেকে তারা প্রায় সব বড় টুর্নামেন্টেই অংশ নিলেও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বড় শিরোপা এখনো অধরাই। ১৯৯২ সালের পর থেকে আইসিসির ২১টি নকআউট ম্যাচের মধ্যে ১৫টিতেই হেরেছে তারা।

১৯৯৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য সবচেয়ে নাটকীয় ও বেদনাদায়ক মুহূর্তগুলোর একটি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওভারে মাত্র এক রান দরকার ছিল তাদের। কিন্তু ল্যান্স ক্লুজনার ও অ্যালান ডোনাল্ডের ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে ম্যাচটি টাই হয় এবং সুপার সিক্সে ভালো রেকর্ড থাকায় অস্ট্রেলিয়া ফাইনালে উঠে যায়।

এর পরও হতাশা পিছু ছাড়েনি। ১৯৯২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল, ১৯৯৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল এবং ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনাল—সবই ব্যর্থতার তালিকায় যোগ হয়েছে।

সবচেয়ে সাম্প্রতিক আক্ষেপ আসে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে। ভারতের বিপক্ষে জয়ের জন্য তখন দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ছিল মাত্র ২৬ রান, হাতে ২৪ বল। হেনরিখ ক্লাসেনের ঝড়ো ইনিংসে জয়ের পথে এগিয়েও শেষ পর্যন্ত ৭ রানে হেরে যায় তারা।

তবে ২০২৫ সালে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে দীর্ঘদিনের আইসিসি ট্রফি খরা কাটিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবু সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এখনো তাদের গল্প একই—শিরোপার খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে যাচ্ছে সাফল্য।