ঢাকা ০৫:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ভোট কারচুপির অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা শামীম সাঈদীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে হাইকোর্টে নির্বাচন সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেছেন শামীম সাঈদী। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পিরোজপুর-২ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মার্চ (বুধবার) হাইকোর্ট বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন আবেদনটি দাখিল করা হয়। মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার)।
মামলাটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বাংলাদেশ হাইকোর্ট বিভাগ-এর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে। এ বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করবেন বিচারপতি মো. জাকির হোসেন-এর নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চ।
এর আগে দেশের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে নির্বাচনী অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে আরও কয়েকজন প্রার্থী হাইকোর্টে নির্বাচন আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ১৪ জন প্রার্থী, ১১ দলীয় জোটের ৮ জন প্রার্থী এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
এসব আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর ব্যালট পেপার ও ফলাফল সংক্রান্ত রেজাল্ট শিট আদালতের হেফাজতে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এ নির্দেশের উদ্দেশ্য হলো অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণসমূহ সুরক্ষিত রাখা।
আইন অনুযায়ী, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (Representation of the People Order) 1972-এর ৪৯ ধারা অনুসারে নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম, জালিয়াতি বা ভোট কারচুপির অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী হাইকোর্ট বিভাগে নির্বাচন আবেদন করার অধিকার রাখেন।
এই বিধানের আলোকে গঠিত নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করবেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদালত সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করা, পুনর্গণনার নির্দেশ দেওয়া অথবা প্রয়োজনে পুনর্নির্বাচনের মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আদালতের এই বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগগুলো স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। ফলে আদালতের নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং জনগণের ভোটাধিকার ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষিত হবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীসহ সচেতন মহল।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ভোট কারচুপির অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা শামীম সাঈদীর

আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে হাইকোর্টে নির্বাচন সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেছেন শামীম সাঈদী। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পিরোজপুর-২ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মার্চ (বুধবার) হাইকোর্ট বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন আবেদনটি দাখিল করা হয়। মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার)।
মামলাটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বাংলাদেশ হাইকোর্ট বিভাগ-এর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে। এ বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করবেন বিচারপতি মো. জাকির হোসেন-এর নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চ।
এর আগে দেশের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে নির্বাচনী অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে আরও কয়েকজন প্রার্থী হাইকোর্টে নির্বাচন আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ১৪ জন প্রার্থী, ১১ দলীয় জোটের ৮ জন প্রার্থী এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
এসব আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর ব্যালট পেপার ও ফলাফল সংক্রান্ত রেজাল্ট শিট আদালতের হেফাজতে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এ নির্দেশের উদ্দেশ্য হলো অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণসমূহ সুরক্ষিত রাখা।
আইন অনুযায়ী, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (Representation of the People Order) 1972-এর ৪৯ ধারা অনুসারে নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম, জালিয়াতি বা ভোট কারচুপির অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী হাইকোর্ট বিভাগে নির্বাচন আবেদন করার অধিকার রাখেন।
এই বিধানের আলোকে গঠিত নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করবেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদালত সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করা, পুনর্গণনার নির্দেশ দেওয়া অথবা প্রয়োজনে পুনর্নির্বাচনের মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আদালতের এই বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগগুলো স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। ফলে আদালতের নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং জনগণের ভোটাধিকার ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষিত হবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীসহ সচেতন মহল।