ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির একচেটিয়া আধিপত্য

  • অনলাইন ডেস্ক,
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 40

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির একচেটিয়া আধিপত্য

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান। ফলাফল ঘোষণার পর জেলা জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ হান্নান ধানের শীষ প্রতীকে ৬৮ হাজার ৯২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এ কে এম কামরুজ্জামান মামুন ঘোড়া প্রতীকে পান ৩৫ হাজার ২২০ ভোট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে বড় ব্যবধানে জয় পান স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। তিনি ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিব পান ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে বিএনপি প্রার্থী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ৯ হাজার ৬৩৬ ভোট পেয়ে প্রায় দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির প্রার্থী মো. আতাউল্লাহ পান ৬২ হাজার ৫৪৭ ভোট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা–আখাউড়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৯১ হাজার ৭৯৬ ভোট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বিএনপি প্রার্থী এম এ মান্নান ৮৫ হাজার ৭৬৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন তাপস ফুটবল প্রতীক নিয়ে পান ৮৪ হাজার ৭০৮ ভোট। এ আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ১ হাজার ৬১ ভোট, যা জেলায় সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি মাথাল প্রতীকে ৯৫ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মহসীন পান ৩৯ হাজার ৯৭৬ ভোট।

জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপির বিজয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দলটির সাংগঠনিক শক্তি ও তৃণমূলভিত্তিক সক্রিয়তার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। অপরদিকে একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে জেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে এবং সামগ্রিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির একচেটিয়া আধিপত্য

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান। ফলাফল ঘোষণার পর জেলা জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ হান্নান ধানের শীষ প্রতীকে ৬৮ হাজার ৯২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এ কে এম কামরুজ্জামান মামুন ঘোড়া প্রতীকে পান ৩৫ হাজার ২২০ ভোট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে বড় ব্যবধানে জয় পান স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। তিনি ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিব পান ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে বিএনপি প্রার্থী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ৯ হাজার ৬৩৬ ভোট পেয়ে প্রায় দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির প্রার্থী মো. আতাউল্লাহ পান ৬২ হাজার ৫৪৭ ভোট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা–আখাউড়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৯১ হাজার ৭৯৬ ভোট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বিএনপি প্রার্থী এম এ মান্নান ৮৫ হাজার ৭৬৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন তাপস ফুটবল প্রতীক নিয়ে পান ৮৪ হাজার ৭০৮ ভোট। এ আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ১ হাজার ৬১ ভোট, যা জেলায় সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি মাথাল প্রতীকে ৯৫ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মহসীন পান ৩৯ হাজার ৯৭৬ ভোট।

জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপির বিজয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দলটির সাংগঠনিক শক্তি ও তৃণমূলভিত্তিক সক্রিয়তার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। অপরদিকে একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে জেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে এবং সামগ্রিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।