সরকার পরিচালনার রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটাতে এবার বড় ধরণের পদক্ষেপে নিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন, শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সরাসরি মাঠপর্যায়ের নেতাদের মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি।
আগামী ৯ মে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) এই বিশেষ সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
দলীয় সূত্রমতে, সরকার গঠনের পর অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় দলীয় কার্যক্রমে এক ধরণের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রের সাথে তৃণমূলের দূরত্ব ও স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে। এসব সমস্যা সমাধানেই তারেক রহমানের এই উদ্যোগ।
দলের ভেতর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া।
তৃণমূলের সাথে কেন্দ্রের যোগাযোগ সরাসরি সচল রাখা।
ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ মেয়াদোত্তীর্ণ সহযোগী সংগঠনগুলোর নতুন কমিটি গঠন।
সরকার ও দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এমন কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ।
বৈঠকে ৮২টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অংশ নেবেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ্ব সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ জানান, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যানের এই আহ্বান তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এটি আমাদের প্রথম বড় বৈঠক। আমরা আশা করছি, যারা দুর্দিনে দলের পাশে ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করে দলকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশনা আসবে।”
দলের নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন, সরকার ও দলকে আলাদাভাবে শক্তিশালী রাখা প্রয়োজন। তাই যারা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নেই, সেসব প্রবীণ নেতাদের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কাজে আরও সক্রিয় করা হচ্ছে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, জেলা ইউনিটের নেতাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করাই এখন প্রধান কাজ। উল্লেখ্য, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তা দীর্ঘ সময় সম্ভব হয়নি। তবে চলতি বছরের শেষের দিকে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে তৃণমূল গোছানোর কাজ শুরু করেছে দলটি।
দলের ১১টি অঙ্গসংগঠনের মধ্যে ১০টিরই মেয়াদ শেষ হওয়ায় বড় ধরণের সাংগঠনিক সংস্কার এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনিক চাপের মুখে যেন রাজনৈতিক শক্তি শিথিল না হয়ে পড়ে, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সরাসরি তদারকি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।






















