সকালটা হতে পারত সাদাফ মজুমদারের জীবনের এক দুঃস্বপ্নের নাম। কেন্দ্রে পৌঁছে যখন সে দেখল এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আর রেজিস্ট্রেশন কার্ডসহ ফাইলটি বিআরটিসি বাসেই ফেলে এসেছে, তখন কান্না আর দুশ্চিন্তায় পা কাঁপছিল তার। কিন্তু সেই অন্ধকার মুহূর্তে আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলে উঠলেন সিএমপির ট্রাফিক উত্তর বিভাগের সদস্যরা। পুলিশের তৎপরতায় শুধু হারিয়ে যাওয়া ফাইলই উদ্ধার হলো না, বেঁচে গেল একটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের একটি বছর।
আজ সকালের ঘটনা। রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদাফ মজুমদার রৌফাবাদ থেকে বিআরটিসি বাসে চড়ে আসছিল বাওয়া (বাংলাদেশ মহিলা সমিতি) স্কুল কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে। তাড়াহুড়ো করে নামার সময় সে ভুলেই গিয়েছিল তার অতি প্রয়োজনীয় ফাইলটি সিটের ওপর পড়ে আছে। বাস ছেড়ে যাওয়ার পর টনক নড়ে সাদাফের। মুহূর্তেই তার আকাশসম স্বপ্নগুলো মিলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।
ডেল্টা থ্রি-তে জরুরি বার্তা এবং সার্জেন্ট আতিকের ‘মিশন’
মানসিকভাবে ভেঙে পড়া সাদাফের আহাজারি দেখে এগিয়ে আসেন সেখানে কর্তব্যরত সার্জেন্ট আতিকুর রহমান। পরিস্থিতি বুঝে তিনি এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে ‘ডেল্টা থ্রি’-র (পুলিশের ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক) মাধ্যমে শহরের সব ইউনিটকে বিষয়টি জানান।
কান্নায় ভেঙে পড়া সাদাফকে পুলিশ সদস্যরা অভয় দেন এবং তাকে নির্ধারিত হলরুমে প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষা শুরুর ব্যবস্থা করেন।
পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে হোয়াটসঅ্যাপে দ্রুত প্রবেশপত্রের ছবি আনার ব্যবস্থা করা হয় যেন প্রারম্ভিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা যায়।
সার্জেন্ট আতিক নিজে দ্রুত বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ডে ছুটে যান এবং একের পর এক বাসে তল্লাশি চালাতে থাকেন।
ঘড়ির কাঁটার সাথে দৌড়
সকাল তখন ৯টা ৪৫ মিনিট। পরীক্ষা শুরুর আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি। ঠিক সেই মুহূর্তে সার্জেন্ট আতিক হারিয়ে যাওয়া ফাইলটি নিয়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হন। সাদাফের হাতে যখন তার মূল প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডটি তুলে দেওয়া হয়, তখন তার চোখেমুখে ফুটে ওঠে অদম্য স্বস্তি। কোনো বাধা ছাড়াই সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হয়।
পুলিশের এই দ্রুত এবং মানবিক উদ্যোগে অভিভূত সাদাফের পরিবার। তারা সিএমপি কমিশনারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “পুলিশ যে মানুষের প্রকৃত বিপদে ঢাল হয়ে দাঁড়াতে পারে, আজ আমরা তার চাক্ষুষ প্রমাণ পেলাম।”
চাকরির দায়িত্বের বাইরে গিয়ে এমন মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মহোদয় সার্জেন্ট আতিকুর রহমান ও তার টিমকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করেছেন। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল— “পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ।”






















