ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই প্রচারণায় সরগরম নাটোর–৪ আসন

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই প্রচারণায় সরগরম নাটোর–৪ আসন

নিরাপদ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতির আশ্বাস

নাটোর–৪(গুরুদাসপুর–বড়াইগ্রাম) আসনের নির্বাচনী মাঠ দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ভোট প্রার্থনায় বিএনপি–জামায়াতের প্রার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা চৌকাঠ প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে উদ্বেগ ও শঙ্কার কথা উঠে এসেছে।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গুরুদাসপুর উপজেলায় মোট ৬৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১৪টি এবং বড়াইগ্রাম উপজেলায় ৯৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৬টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুদাসপুরের নাজিরপুর ইউনিয়নের প্রায় সব কেন্দ্র—মোট ৩০টি—ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। নারী–পুরুষ মিলিয়ে এই ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ৩৫ হাজার ৪৭৪ জন। এলাকাটিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত–সংঘর্ষের আশঙ্কাও রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপির রাজনৈতিক সূত্র দাবি করেছে, নাজিরপুর ইউনিয়ন জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত হওয়ায় সব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উদ্বেগ–উৎকণ্ঠা বেড়েছে। একই সঙ্গে বড়াইগ্রাম উপজেলাতেও কয়েকটি কেন্দ্রকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে অন্তত চারটি করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ জানান, নির্বাচনী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার সদস্য, র‍্যাব ও বিজিবি সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। ঝুঁকি বিবেচনায় সেনাবাহিনীর টহলও জোরদার করা হবে।

সূত্র জানায়, এই আসনে দুই উপজেলার মোট ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৬০০ জন ভোটার ১৬৭টি কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে গুরুদাসপুরে ৬৮টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৯০ হাজার ২২৮ জন এবং বড়াইগ্রামের ৯৯টি কেন্দ্রে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭২ জন ভোটার রয়েছেন। জামায়াত–বিএনপিসহ জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও আমার বাংলাদেশ পার্টির মোট পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

সোমবার দুপুরে গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘ঝুঁকিমুক্ত ভোট গ্রহণ ও গণভোট কী’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ঝুঁকিমুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের তৃণমূল ভোটারদের গণভোট সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। দল–মত নির্বিশেষে ভোটাররা যাতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নিরাপদ পরিবেশে তাদের পছন্দের প্রার্থী ও গণভোটে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই প্রচারণায় সরগরম নাটোর–৪ আসন

আপডেট সময় : ১১:১৮:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

নিরাপদ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতির আশ্বাস

নাটোর–৪(গুরুদাসপুর–বড়াইগ্রাম) আসনের নির্বাচনী মাঠ দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ভোট প্রার্থনায় বিএনপি–জামায়াতের প্রার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা চৌকাঠ প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে উদ্বেগ ও শঙ্কার কথা উঠে এসেছে।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গুরুদাসপুর উপজেলায় মোট ৬৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১৪টি এবং বড়াইগ্রাম উপজেলায় ৯৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৬টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুদাসপুরের নাজিরপুর ইউনিয়নের প্রায় সব কেন্দ্র—মোট ৩০টি—ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। নারী–পুরুষ মিলিয়ে এই ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ৩৫ হাজার ৪৭৪ জন। এলাকাটিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত–সংঘর্ষের আশঙ্কাও রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপির রাজনৈতিক সূত্র দাবি করেছে, নাজিরপুর ইউনিয়ন জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত হওয়ায় সব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উদ্বেগ–উৎকণ্ঠা বেড়েছে। একই সঙ্গে বড়াইগ্রাম উপজেলাতেও কয়েকটি কেন্দ্রকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে অন্তত চারটি করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ জানান, নির্বাচনী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার সদস্য, র‍্যাব ও বিজিবি সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। ঝুঁকি বিবেচনায় সেনাবাহিনীর টহলও জোরদার করা হবে।

সূত্র জানায়, এই আসনে দুই উপজেলার মোট ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৬০০ জন ভোটার ১৬৭টি কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে গুরুদাসপুরে ৬৮টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৯০ হাজার ২২৮ জন এবং বড়াইগ্রামের ৯৯টি কেন্দ্রে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭২ জন ভোটার রয়েছেন। জামায়াত–বিএনপিসহ জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও আমার বাংলাদেশ পার্টির মোট পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

সোমবার দুপুরে গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘ঝুঁকিমুক্ত ভোট গ্রহণ ও গণভোট কী’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ঝুঁকিমুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের তৃণমূল ভোটারদের গণভোট সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। দল–মত নির্বিশেষে ভোটাররা যাতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নিরাপদ পরিবেশে তাদের পছন্দের প্রার্থী ও গণভোটে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।