সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে উপবৃত্তির ফরম পূরণের কথা বলে ডেকে এনে এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পরে উত্তেজিত এলাকাবাসীর গণধোলাইয়ে গুরুতর আহত হন অভিযুক্ত শিক্ষক।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পৌরসভাধীন ইসহাকপুর এলাকার আল জান্নাত ইসলামিক এডুকেশন ইনস্টিটিউট কামিল মাদ্রাসায়। অভিযুক্ত শিক্ষক সামসুল হুদা (৪৫) কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বড়বাম গ্রামের মাওলানা আলী নওয়াবের ছেলে এবং ওই প্রতিষ্ঠানের আরবি প্রভাষক।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার (২ মে) মাদ্রাসা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও উপবৃত্তির ফরম পূরণের কথা বলে আলিম প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে প্রতিষ্ঠানে ডেকে নেন সামসুল হুদা। পরে নির্জন পরিবেশে তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রীটি কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে বাড়ি গিয়ে বিষয়টি পরিবারকে জানায়।
খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে গণধোলাই দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৫ সালে যোগদানের পর মোবাইল ফোনে আপত্তিকর কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে ২০১৮ সালে পুনরায় নিয়োগ পান তিনি।
ঘটনার পর রোববার (৩ মে) মাদ্রাসা বন্ধ পাওয়া যায়। যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির সুপার মাওলানা মো. শহিদুল ইসলাম নিজামী বলেন, ঘটনার সময় তারা কেউ মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি গভর্নিং বডির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার অরূপ কুমার রায় বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, “প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
জগন্নাথপুরে উপবৃত্তির প্রলোভনে ছাত্রীকে ডেকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, গণধোলাইয়ে আহত শিক্ষক
-
রিপোর্ট মুবিন উদ্দিন জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ), প্রতিনিধি
- আপডেট সময় : ০৯:০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
- 36
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ






















